শহীদুল ইসলাম, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: টানা চার কার্যদিবস পতনের পর গত বুধবার পুঁজিবাজারে কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার দেখা মিললেও সপ্তাহের শেষ কার্য়দিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের দরপতনে লেনদেন শেষ হয়েছে। ফলে এই উত্থান, এই পতন। এমন অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে দেশের পুঁজিবাজার। লেনদেনের গতি বৃদ্ধি আর সূচকের উত্থানে বিনিয়োগকারীর নতুন স্বপ্ন বোনার আগেই তা ভেঙে যাচ্ছে হুট করে। দুর্দিন কাটিয়ে পুঁজিবাজারে সুদিন ফেরার আভাস দিলেও তা স্থায়ী হচ্ছে না।
ফলে পুঁজিবাজারের ওপর বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতা বাড়ছে।  বিনিয়োগকারীরা বার বার একটি স্থিতিশীল পুঁজিবাজারের দাবী জানিয়ে আসলেও তা বাস্তবে রুপ নিচ্ছে না। ফলে কবে ফিরবে পুঁজিবাজারে সুদিন, সেই অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন তারা। কারণ মাঝে মধ্যে সূচকের উকি মারলেও বাজার স্থিতিশীল হচ্ছে না। তাই আস্থা ফিরিয়ে পুঁজিবাজারকে গতিশীল করাই মূল চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন একাধিক বিনিয়োগকারীরা।
কারণ এ পরিস্থিতিতে আশা-নিরাশার দোলাচলে শুরু হচ্ছে আগস্ট মাসের মাঝামাঝিতে। তেমনি সেপ্টেম্বর মাস জুড়ে সূচকের পতনেই লেনদেন শেষ হয়েছে। ফলে এ পরিস্থিতিতে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের জন্য আস্থা ফেরানোই বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।
কারণ দেশের পুঁজিবাজারে কোনোভাবেই আস্থা ফিরছে না। নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) বাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে নানা উদ্যোগ নিলেও আস্থা ফিরছে না। ফলে এতে যেমন বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, অন্যদিকে ব্রোকারেজ হাউসগুলোও লেনদেন খরার ফলে বিপাকে পড়েছে। ফলে পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট সব গোষ্ঠীর মাঝে এক চাপা আতঙ্ক বিরাজ করছে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় বেশিরভাগ  কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার মাধ্যমে। ফলে লেনদেনের শুরুতেই সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যায়। তবে প্রথম ঘণ্টার লেনদেন শেষ হওয়ার পরেই বদলে যায় পুঁজিবাজারের চিত্র। দাম বাড়ার তালিকা থেকে একের পর এক কোম্পানি দাম কমার তালিকায় নাম লেখাতে থাকে। লেনদেনের শেষ পর্যন্ত এই ধারা অব্যাহত থাকে। এতে দাম কমার তালিকা বড় হওয়ার পাশাপাশি সবকটি মূল্য সূচক কমেই দিনের লেনদেন শেষ হয়।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, বিনিয়োগকারীদের হতাশ হওয়ার কিছু নেই। শিগগিরই সুদিন ফিরবে। গত কয়েক মাসে সরকার ও বিএসইসির পক্ষ থেকে পুঁজিবাজারের জন্য বেশকিছু ইতিবাচক সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত রয়েছে। শিগগিরই এসব সিদ্ধান্তের ইতিবাচক প্রভাব পুঁজিবাজারে পড়বে। এছাড়া টানা পতনে অনেক ভালো কোম্পানির শেয়ার অবমূল্যায়িত অবস্থায় রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বাজার ঘুরে দাঁড়াবে এটাই স্বাভাবিক। ইতোমধ্যে বাজারে লেনদেনের গতিও কিছুটা বেড়েছে।
জানা গেছে, সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের পতনে কমেছে টাকার পরিমাণে লেনদেন এবং বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট দর। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। দিনশেষে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ১৮ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৫ হাজার ৫৩১ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ২ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১ হাজার ১০০ পয়েন্টে এবং ডিএসই ৩০ সূচক ৪ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ২ হাজার ১০৩ পয়েন্টে।
দিনভর লেনদেন হওয়া ৩৮৫ টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৮৫ টির, দর কমেছে ২৪২ টির এবং দর অপরিবর্তিত রয়েছে ৫৮ টির। ডিএসইতে আজ টাকার পরিমাণে লেনদেন হয়েছে ৭২৩ কোটি ১১ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট। যা আগের দিন থেকে ২৪ কোটি টাকা কম। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৬৯৯ কোটি ১১ লাখ টাকার।
অপরদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই এদিন ৪৭ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ৬৬৯ পয়েন্টে। দিনভর সিএসইতে হাত বদল হওয়া ২৪৩টি কোম্পানির মধ্যে শেয়ার দর বেড়েছে ১০৩টির, কমেছে ১০৮টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৩২টির দর। আজ সিএসইতে ৩৮ কোটি ২৬ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।