সংকটে আর্থিক খাত, আয় কমেছে অধিকাংশ কোম্পানির

আসিফুজ্জামান পৃথিল, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: চলতি বছরে ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মুনাফায় ব্যাপক ধ্বস নেমে এসেছে। ঋণ বিতরণে অনিয়ম, সুদহারের ব্যবধান বা স্প্রেড কমে যাওয়া এবং প্রত্যাশা অনুযায়ী ঋণ বিতরণ করতে না পারার কারণে ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতে নিট মুনাফা ক্রমাগত কমেছে বলে মনে করছেন এখাতের বাজার সংশ্লিষ্টরা।
আর্থিক খাতের তালিকাভুক্ত অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) কমার সাথে সাথে লোকসানি কোম্পানির সংখ্যাও বেড়েছে। এই খাতের ২৩টি কোম্পানির মধ্যে বছরের ২য় প্রান্তিকে (মার্চ-জুন) আয় বেড়েছে ১০ টির আর আয় কমেছে কিংবা লোকসান বেড়েছে ১১টির। ১টি কোম্পানির আয়ের কোন পরিবর্তন হয়নি। আর একটি কোম্পানির লোকসান কমলেও এখনও মুনাফায় ফিরতে সক্ষম হয়নি।
এই খাতে লোকসানি কোম্পানির সংখ্যাও আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে। এই বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে লোকসানি প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৮ টি। গত বছরের একই সময়ে যার সংখ্যা ছিলো ৬টি।
পরিচালন ব্যয় অত্যাধিক বেশী হওয়াতেই এই খাতের এই ভঙ্গুর দশা বলে মনে করেন বাজার সংশ্লিষ্টরা। প্রখ্যাত পুঁজিবাজার বিশ্লেষক এবং অর্থনীতিবিদ ডঃ আবু আহমেদ আর্থিক খাতের ব্যাবসাকে অত্যন্ত কঠিন ব্যবসা বলে মত দিয়েছেন। তিনি বলেন, ব্যাংক খাতের ব্যবসা আর আর্থিক খাতের ব্যবসার ধরন কাছাকাছি হলেও আমানত সুবিধা না থাকায় আর্থিক খাত ব্যাংক খাতের চাইতে অনেক পিছিয়ে পরে।
তাঁদের নিজেদেরকেই বরং ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে ঋণ গ্রহণ করতে হয়। এরফলে এই কোম্পানিগুলোর পরিচালন ব্যয় বেড়ে তারল্য সংকট তৈরী হয়। ফলে ব্যবসা পরিচালনার স্বার্থে সুদের হারও বৃদ্ধি করতে হয়। এর ফলেই প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে লোকসানের মুখে পড়ে কোম্পানিগুলো। তবে এই বর্র্ষীয়ান অধ্যাপক মনে করেন সবগুলো কোম্পানির অবস্থা এক নয়। এর মধ্যে অনেকগুলো কোম্পানি ভালো ব্যবসা করছে।
ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মূল আয়ের বড় অংশই আসে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ, ঋণ ও ইজারা, কমিশন ও ব্রোকারেজ থেকেও আয় করে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো। নি¤েœ কোম্পানিরগুলোর দ্বিতীয় প্রান্তিকের ইপিএস তুলনামুলক প্রকাশ করা হলো:
বে লিজিং : মার্চ-জুন সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় বা ইপিএস হয়েছে ০.৪১ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিলো ০.৩১ টাকা। অর্থাৎ আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ইপিএস বেড়েছে ০.১০ টাকা।
বাংলাদেশ ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট : মার্চ-জুন সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ০.০৮ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে শেয়ারপ্রতি আয় বা ইপিএস ছিলো ০.২৬ টাকা। অর্থাৎ আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ইপিএস কমেছে ০.৩৪ টাকা।
বিআইএফসি : মার্চ-জুন সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ১.৭৫ টাকা, আগের বছরের একই সময়ে শেয়ারপ্রতি লোকসান ছিলো ১.৫৩ টাকা। অর্থাৎ আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় শেয়ারপ্রতি লোকসান বেড়েছে ০.২২ টাকা।
ডিবিএইচ : মার্চ-জুন সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় বা ইপিএস হয়েছে ১.৭৩ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিলো ১.৪৩ টাকা। অর্থাৎ আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ইপিএস বেড়েছে ০.২৬ টাকা।
ফারইস্ট ফাইন্যান্স : মার্চ-জুন সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ০.৬১ টাকা, আগের বছরের একই সময়ে শেয়ারপ্রতি লোকসান ছিলো ০.৫৯ টাকা। অর্থাৎ আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় শেয়ারপ্রতি লোকসান বেড়েছে ০.০৩ টাকা।
ফাস ফাইন্যান্স : মার্চ-জুন সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ০.০২ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে শেয়ারপ্রতি আয় বা ইপিএস ছিলো ০.১৩ টাকা। অর্থাৎ আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ইপিএস কমেছে ০.১৫ টাকা।
ফার্স্ট ফাইন্যান্স : মার্চ-জুন সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় বা ইপিএস হয়েছে ০.৩৫ টাকা, আগের বছরের একই সময়ে শেয়ারপ্রতি লোকসান ছিলো ০.৫০ টাকা। অর্থাৎ আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ইপিএস বেড়েছে ০.৮৫ টাকা।
জিএসপি ফাইন্যান্স : মার্চ-জুন সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় বা ইপিএস হয়েছে ০.৬৯ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিলো ০.৪৮ টাকা। অর্থাৎ আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ইপিএস বেড়েছে ০.২১ টাকা।
ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অফ বাংলাদেশ : মার্চ-জুন সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় বা ইপিএস হয়েছে ৩.৩৮ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিলো ০.০৮ টাকা। অর্থাৎ আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ইপিএস বেড়েছে ৩.৩০ টাকা।
আইডিএলসি : মার্চ-জুন সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় বা ইপিএস হয়েছে ১.৬২ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিলো ১.৪৯ টাকা। অর্থাৎ আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ইপিএস বেড়েছে ০.২৩ টাকা।
ইন্টারন্যাশনাল লিজিং এÐ ফাইন্যান্স : মার্চ-জুন সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ০.৬৮ টাকা, আগের বছরের একই সময়ে শেয়ারপ্রতি লোকসান ছিলো ০.০২ টাকা। অর্থাৎ আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় শেয়ারপ্রতি লোকসান বেড়েছে ০.৬৬ টাকা।
আইপিডিসি : মার্চ-জুন সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ০.৩৮ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে শেয়ারপ্রতি আয় বা ইপিএস ছিলো ০.৬৬ টাকা। অর্থাৎ আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ইপিএস কমেছে ০.২৮ টাকা।
ইসলামী ফাইন্যান্স : মার্চ-জুন সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ০.২১ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে শেয়ারপ্রতি আয় বা ইপিএস ছিলো ০.৪২ টাকা। অর্থাৎ আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ইপিএস কমেছে ০.২১ টাকা।
লঙ্কা-বাংলা ফাইন্যান্স : মার্চ-জুন সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় বা ইপিএস হয়েছে ১.০৬ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিলো ০.৬০ টাকা। অর্থাৎ আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ইপিএস বেড়েছে ০.৪৬ টাকা।
মাইডাস ফাইন্যান্সিং কোম্পানি : মার্চ-জুন সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ০.৩৩ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে শেয়ারপ্রতি আয় বা ইপিএস ছিলো ০.৮১ টাকা। অর্থাৎ আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ইপিএস কমেছে ০.৪৮ টাকা।
এনএইচএফআইএল : মার্চ-জুন সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় বা ইপিএস হয়েছে ০.৭০ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিলো ০.৭০ টাকা। অর্থাৎ আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ইপিএস অপরিবর্তীত রয়েছে।
ফিনিক্স ফাইন্যান্স : মার্চ-জুন সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় বা ইপিএস হয়েছে ০.৬৬ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিলো ০.৫৪ টাকা। অর্থাৎ আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ইপিএস বেড়েছে ০.১২ টাকা।
পিপলস লিজিং: মার্চ-জুন সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় বা ইপিএস হয়েছে ০.১০ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে শেয়ারপ্রতি লোকসান ছিলো ০.৩৬ টাকা। অর্থাৎ আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ইপিএস বেড়েছে ০.৪৬ টাকা।
প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স : মার্চ-জুন সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় বা ইপিএস হয়েছে ০.০৭ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিলো ০.২২ টাকা। অর্থাৎ আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ইপিএস কমেছে ০.১৫ টাকা।
প্রাইম ফাইন্যান্স: মার্চ-জুন সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় বা ইপিএস হয়েছে ০.৮৯ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে শেয়ারপ্রতি লোকসান ছিলো ১.৪৯ টাকা। অর্থাৎ আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় শেয়ারপ্রতি লোকসান কমেছে ০.৬০ টাকা।
ইউনিয়ন ক্যাপিটাল : মার্চ-জুন সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ১.৮০ টাকা, আগের বছরের একই সময়ে শেয়ারপ্রতি আয় ছিলো ০.০৬ টাকা। অর্থাৎ আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ১.৭৪ টাকা।
ইউনাইটেড ফাইন্যান্স : মার্চ-জুন সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় বা ইপিএস হয়েছে ০.৩৩ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিলো ০.৪৮ টাকা। অর্থাৎ আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ইপিএস কমেছে ০.১৫ টাকা।
উত্তরা ফাইন্যান্স : মার্চ-জুন সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় বা ইপিএস হয়েছে ৩.৩৪ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিলো ৩.২১ টাকা। অর্থাৎ আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ইপিএস বেড়েছে ০.১৫ টাকা।



