খুলনা পাওয়ারের নিজের আয় নেই, ভরসা সহযোগীর ওপর
দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বিদ্যুৎ ও জ¦ালানী খাতের কোম্পানি খুলনা পাওয়ারের সহযোগী কোম্পানি থেকে পাওয়া আয়ই এখন ভরসা। মুলত কোম্পানিটি গত হিসাব বছরে নিজ ব্যবসা থেকে প্রায় সাড়ে ১৬ কোটি টাকা পরিচালন লোকসানের পরও কর-পরবর্তী নিট মুনাফা করে সাড়ে ১১ কোটি টাকা। এই মুনাফা হয়েছে ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ক্ষমতার সহযোগী কোম্পানি ইউনাইটেড পায়রা পাওয়ার থেকে পাওয়া সাড়ে ৩২ কোটি টাকার আয় থেকে।
এ অবস্থায় খুলনা পাওয়ারের ভবিষ্যৎ নিয়ে সন্দিহান নিরীক্ষক প্রতিষ্ঠান এসএফ আহমেদ অ্যান্ড কোং।
তবে নিরীক্ষকের এমন মতামতের জবাব দিয়েছে খুলনা পাওয়ার। কোম্পানিটি বলেছে, নিজস্ব বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু না থাকলেও তারা নিট ১১ কোটি ৪৮ লাখ টাকা মুনাফা করেছে এবং ‘ক্যাশ ফ্লো পজিটিভ’ ছিল ৬১ কোটি ৪৬ লাখ টাকা।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তির মেয়াদ ২০২৪ সালের ২৩ মার্চ শেষ হওয়ার পাঁচ দিন পর ‘বিদ্যুৎ না দিলে টাকা নয়’ নীতিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু রাখার শর্তে নতুন চুক্তির প্রস্তাব করা হয়। যদিও শেষ পর্যন্ত ওই চুক্তি হয়নি।
খুলনা পাওয়ার আরও জানিয়েছে, ১৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ইউনাইটেড পায়রা পাওয়ারে এ কোম্পানির ৩৫ শতাংশ অংশীদারিত্ব আছে। বিপিডিবির সঙ্গে ইউনাইটেড পায়রা পাওয়ারে ১৫ বছরের বিদ্যুৎ সরবরাহের চুক্তি আছে, যার মেয়াদ শুরু হয়েছে ২০২১ সালের ১৮ জানুয়ারি। অর্থাৎ নিজস্ব বিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদনে না থাকলেও আরও অন্তত ১০ বছর সহযোগী কোম্পানি থেকে আয় আসার নিশ্চয়তা আছে।
এদিকে খুলনা পাওয়ারের গত হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনায় জানা গেছে, গত হিসাব বছরে কোম্পানিটির নিজস্ব বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিপিডিবিকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে আয় করে ৮২ কোটি ২২ লাখ টাকা। অথচ এর পেছনে ব্যয় হয় ৯৮ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। ফলে পরিচালন লোকসান দাঁড়ায় ১৬ কোটি ৪২ লাখ টাকা।
তবে সহযোগী কোম্পানি থেকে পাওয়া প্রায় সাড়ে ৩২ কোটি টাকার আয় ছাড়াও অন্যান্য খাতের তিন কোটি টাকার আয় মিলে মুনাফা হয়েছে প্রায় সাড়ে ১১ কোটি টাকা। এই আয় থেকে সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের নগদ ৫ শতাংশ বা পাঁচ কোটি ৯৬ লাখ টাকা লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে কোম্পানিটি। কোম্পানিটির উদ্যোক্তা পরিচালকরা নিজেরা কোনো লভ্যাংশ নিচ্ছেন না। গত হিসাব বছরে ‘বিদ্যুৎ না দিলে টাকা নয়’ নীতিতে কিছু দিন নিজস্ব বিদ্যুৎকেন্দ্র চললেও চলতি হিসাব বছরে তা পুরোপুরি বন্ধ। এ অবস্থায়ও চলতি হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ২৫ পয়সা। যেখানে গত বছরের মোট ইপিএস ছিল ২৯ পয়সা।
এ মুনাফা সত্ত্বেও নিরীক্ষক তার প্রতিবেদনে কোম্পানির ভবিষ্যৎ কার্যক্রম চালু থাকবে কিনা, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে। নিরীক্ষক উল্লেখ করেছে, বিপিডিবির সঙ্গে দ্বিতীয় ও তৃতীয় ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ সরাবাহের বিষয়ে নতুন করে চুক্তি স্বাক্ষর হয়নি। ফলে কোম্পানিটির বিদ্যুৎ উৎপাদন কার্যক্রম অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় কোম্পানির জমি ছাড়া বাকি সম্পদের প্রকৃত মূল্যায়ন ও কার্যক্রম টিকিয়ে রাখার সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন আছে।



