শহীদুল ইসলাম, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: পুঁজিবাজারে যেন পড়ছে ধসের পর ধস। টানা দরপতনে বিনিয়োগকারীদের মুখে এখন কেবল হতাশার ছাপ। লেনদেন কমছে, সূচক পড়ছে বাজারে নেই কোনো ইতিবাচক ইঙ্গিত। ফলে দিন যতই যাচ্ছে পুঁজিবাজার ততই তলানিতে নামছে। সেই সঙ্গে বেড়েই চলেছে বিনিয়োগকারীদের হাহাকার। কীভাবে বিনিয়োগ করা পুঁজি রক্ষা করবেন সেই উপায়ও খুঁজে পাচ্ছেন না তারা। এতে পুঁজি হারা বিনিয়োগকারীদের বোবা কান্না কিছুতেই থামছে না। টানা দরপতনের সঙ্গে লেনদেনের গতিও কমে গেছে।

ফলে সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের পতনে লেনদেন শেষ হয়েছে। এদিন সূচকের সাথে কমেছে বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দর ও টাকার পরিমাণে লেনদেন। তবে সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, লেনদেনে অংশ নেওয়া অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারের দর কমেছে, যা বিনিয়োগকারীদের হতাশা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে ঠেকেছে যে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ মানেই লোকসান। যার ফলে পুঁজিবাজারে নজিরবিহীন অস্থিরতা বিরাজ করছে। এমনকি পুঁজিবাজার থেকে নীরবে প্রস্থান করছেন হাজারো বিনিয়োগকারী। দীর্ঘমেয়াদি মন্দা, আস্থার সংকট এবং ভালো শেয়ারের অভাবে গত ১৫ মাসেই পুঁজিবাজার ছেড়েছেন বা নিস্কিয় হয়ে পড়েছেন ৬২ হাজারের বেশি বিনিয়োগকারী।

ফলে পুঁজিবাজারে গত ১৫ মাসেও আস্থা ফেরাতে পারেনি রাশেদ মাকসুদ কমিশন। গত বছরের ১৮ আগস্ট পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (বিএসইসি) চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচক কমেছে ১০৭৮ পয়েন্ট। মুলত রাশেদ মাকসুদ কমিশন যখন দায়িত্ব নেয় তখন ডিএসই সূচক ছিলো ৫৭৭৮.৬৩ পয়েন্ট। সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ডিএসইর সূচক এসে দাঁড়িয়েছে ৪৮৩১.৪১ পয়েন্ট। তবে নভেম্বর মাসের ১৩ তারিখ ১২২ পয়েন্ট সূচকের বড় দরপতনে ডিএসইর সূচক এসে দাঁড়িয়েছিল ৪৭০২ পয়েন্ট।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, টানা দরপতন এখন আর ব্যতিক্রম নয়, বরং নিয়মিত চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিদিনই বিনিয়োগকারীরা লোকসান গুনছেন, কিন্তু বাজারে ফিরছে না আস্থা। নতুন করে বড় বিনিয়োগ আসছে না, আবার পুরোনো বিনিয়োগকারীরাও ঝুঁকি নিতে চাইছেন না। ফলে বাজারে ক্রেতার সংকট প্রকট হয়ে উঠছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শীর্ষ এক ব্রোকারেজ হাউজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করা নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছেন। এছাড়া একীভূত হওয়ার পাঁচ ব্যাংকের বিনিয়োগকারীদের শেয়ারের মূল্য ‘শূন্য’ ঘোষণারও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বাজারে।

তেমনি এর দায় নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি ও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এড়াতে পারে না। কারণ, ব্যাংকগুলোর খারাপ অবস্থা তো এক দিনে হয়নি। এ ব্যাপারে নিয়ন্ত্রক সংস্থা কোনো উদ্যোগ নেয়নি। তেমনি নিয়ন্ত্রক সংস্থার পুঁজিবাজার ইস্যুতে হুটহাট সিদ্ধান্তে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। তবে নির্বাচন হয়ে গেলে পুঁজিবাজার চাঙা হয়ে উঠবে বলে তিনি মনে করেন।

জানা গেছে, দিনশেষে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ২২ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৪ হাজার ৮৩১ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৮ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১ হাজার পয়েন্টে এবং ডিএসই ৩০ সূচক ৯ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১ হাজার ৮৫৯ পয়েন্টে।

দিনভর লেনদেন হওয়া ৩৯১ কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৬৯ টির, দর কমেছে ২৫৪ টির এবং দর অপরিবর্তিত রয়েছে ৬৮ টির। ডিএসইতে ৩০৩ কোটি ১৪ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। যা আগের কার্যদিবস থেকে ৭২ কোটি ৬৪ লাখ টাকা কম। এর আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৩৭৫ কোটি ৭৮ লাখ টাকার ।

অপরদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৭৫ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ৬১৮ পয়েন্টে। সিএসইতে ১৩৫ টি কোম্পানি লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এসব কোম্পানির মধ্যে ৩৭ টির দর বেড়েছে, কমেছে ৭৯ টির এবং ১৯ টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইতে ৪ কোটি ৫১ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।