পুঁজিবাজারে টানা তিন কার্যদিবস সূচকের উত্থানের পর কিছুটা কারেকশন
শহীদুল ইসলাম, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: টানা তিন কার্যদিবস ঊর্ধ্বমুখী থাকার পর সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের কিছুটা কারেকশনের মধ্যে দিয়ে লেনদেন শেষ হয়েছে। তবে টানা তিন কার্যদিবস সূচকের উত্থানের পর কিছুটা কারেকশন স্থিতিশীল বাজারের লক্ষণ বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।
কারণ পুঁজিবাজারে টানা উত্থানের পর কারেকশন হলে বাজারে শক্তি বাড়ে। তেমনি একটানা সূচকের উত্থানও কোন স্থিতিশীল বাজারের লক্ষণ নয়, এমনকি একটানা পতনও কোন স্থিতিশীল বাজারের লক্ষণ নয় বলে তারা মনে করছেন। এদিকে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) দাম কমার তালিকায় বেশির ভাগ কোম্পানি থাকার পাশাপাশি সবগুলো মূল্যসূচক কমেছে। সেই সঙ্গে ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ কিছুটা কমেছে।
ফলে সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবসে ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় বেশির ভাগ কোম্পানির দাম বাড়ার মাধ্যমে। পাশাপাশি শুরুতে মূল্যসূচকও বাড়তে দেখা যায়। তবে প্রথম দুই ঘণ্টার লেনদেন পার হওয়ার পর দাম কমার তালিকা বড় হয়ে যায়, যা লেনদেনের শেষ পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। ফলে দাম কমার তালিকা লম্বা হওয়ার পাশাপাশি মূল্যসূচক কমেই দিনের লেনদেন শেষ হয়। মুলত সূচকের পতনে কমেছে টাকার পরিমানে লেনদেন ও বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দর। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
একাধিক বিনিয়োগকারীর সাথে আলাপকালে বলেন, টানা তিন কার্যদিবস সূচকের ঊর্ধ্বমুখী থাকার পর কিছুটা পতন হওয়া স্বাভাবিক। কারণ বেশ কিছু কোম্পানির শেয়ার দাম টানা বেড়েছে। ফলে ওই সব শেয়ারে বিনিয়োগ থাকা বিনিয়োগকারীরা মুনাফা তুলে নেওয়ার জন্য শেয়ার বিক্রি করেছেন। এতে বিক্রির চাপ বেড়ে কিছুটা মূল্য সংশোধন হয়েছে। আশা করি কালই বাজার ঘুরে দাঁড়াবে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, চলতি সপ্তাহে পুঁজিবাজার যেভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে তা সামগ্রিকভাবে ইতিবাচক ইঙ্গিত বহন করছে। আশা করা যায়, নির্বাচনের পর সূচক ও লেনদেন উভয়ই নতুন মাইলফলকে পৌঁছাবে এবং বাজারে আবারও আগের সোনালী সময় ফিরে আসবে। তবে টানা উত্থানের পর আজকের দর সংশোধনকে স্বাভাবিক বাজার প্রবণতা হিসেবে দেখছেন বাজার বিশ্লেকরা।
জানা গেছে, দিনশেষে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ৩ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৫ হাজার ১০৫ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৩ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১ হাজার ২৭ পয়েন্টে এবং ডিএসই ৩০ সূচক ৬ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১ হাজার ৯৬৪ পয়েন্টে।
দিনভর লেনদেন হওয়া ৩৮৯ কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১৩৬ টির, দর কমেছে ১৯২ টির এবং দর অপরিবর্তিত রয়েছে ৬১ টির। ডিএসইতে ৬০৫ কোটি ৬০ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। যা আগের কার্যদিবস থেকে ৬৪ কোটি ২৫ লাখ টাকা কম। এর আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৬৬৯ কোটি ৮৫ লাখ টাকার ।
অপরদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৬ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ২৩৫ পয়েন্টে। সিএসইতে ১৯৮ টি কোম্পানি লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এসব কোম্পানির মধ্যে ৮৬ টির দর বেড়েছে, কমেছে ৯১ টির এবং ২১ টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইতে ১৩ কোটি ১৩ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।



