ইসলামী ব্যাংক ও আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার নিয়ে ‘সূচকের খেলা’
স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের উত্থানে লেনদেন শেষ হয়েছে। তবে সূচকের উত্থান হলেও অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারে দরপতন হয়েছে। মুলত ব্যাংক খাতের ইসলামী ব্যাংক ও আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার দর বৃদ্ধি নিয়ে ‘সূচকের খেলা’ চলছে। বিনিয়োগকারীরা এ দুটো ব্যাংকের শেয়ার দরবৃদ্ধি নিয়ে কারসাজির অভিযোগ তুলছেন। যেখানে ভালো মৌল ভিত্তি সম্পন্ন ব্যাংকের শেয়ার দর বাড়ছে না। সেখানে দুর্বল ইসলামী ব্যাংক ও আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার দরবৃদ্ধি নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
মুলত দীর্ঘদিন অনিয়ম-দুর্নীতি ও পরিচালকদের লুটপাটের কারণে চরম দুর্বল অবস্থায় থাকা বেশ কয়েকটি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর কমলেও হঠাৎ সেই শেয়ার দর অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে দেখা যাচ্ছে। এর মধ্যে ইসলামী ব্যাংক ও আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার দর টানা বাড়ছে। মুলত আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর শেয়ারদরের এমন ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বাজারে উত্তাপ ছড়াতে শুরু করেছে বলে মনে করছে খাত-সংশ্লিষ্টরা।
তাদের মতে, এক শ্রেণির অসাধু বিনিয়োগকারী নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনাকে পুঁজি করে পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত দুর্বল আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ারদর ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে মুনাফা করার নতুন খেলা মেতে উঠেছে। মুলত অন্তর্বর্তী সরকারের খড়গে পড়া এস আলম গ্রুপ ও তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ওপর চাপ কমায় এসব কোম্পানির শেয়ারদর ঊর্ধ্বমুখী ধারায় ফিরেছে। পুঁজিবাজারে এই খেলায় যুক্ত হয়ে এক সময়ে আওয়ামী লীগ সরকারের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও চট্টগ্রামভিত্তিক আলোচিত শিল্পগোষ্ঠী এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে থাকা ইসলামী ব্যাংক ও আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারদরও হু-হু করে বাড়ছে।
ফলে সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচক বেড়েছে ১৮.৯২ পয়েন্ট। তবে এর মধ্যে আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক ও ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার দরবৃদ্ধির ফলে সূচকে যোগ হয়েছে ১৭ পয়েন্ট। মুলত সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবসে কোম্পানিগুলোর মধ্যে সূচকে সর্বাধিক অবদান রেখেছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি। আজ ব্যাংকটি একাই ডিএসইএক্সে প্রায় ১১ পয়েন্ট যোগ করেছে।
এদিন ব্যাংকটির শেয়ার দর ১ টাকা ৮০ পয়সা বা ৩ দশমিক ৪৪ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৪ টাকা ২০ পয়সায়। লেনদেন চলাকালে শেয়ারটির দর ৫০ টাকা ৮০ পয়সা থেকে ৫৬ টাকা ২০ পয়সার মধ্যে ওঠানামা করে। দিনশেষে ব্যাংকটির মোট শেয়ার লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ২২ কোটি ৪২ লাখ ১৫ হাজার টাকা।
ফলে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক। আজ ব্যাংকটি ডিএসইর সূচকে প্রায় ৬ পয়েন্ট যোগ করেছে। এদিন ব্যাংকটির শেয়ার দর ১ টাকা ৫০ পয়সা বা ৯ দশমিক ৫৫ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭ টাকা ২০ পয়সায়। লেনদেনের সময় শেয়ারটির দর ১৬ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ১৭ টাকা ২০ পয়সার মধ্যে ঘোরাফেরা করে। দিনশেষে ব্যাংকটির শেয়ার লেনদেনের পরিমাণ ছিল প্রায় ৬ কোটি ২৬ লাখ ৭৭ হাজার টাকা।
হঠাৎ বাজারে শেয়ারদরের এমন উল্লম্ফন কেন জানতে চাইলে ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনৈতিক সরকার গঠনের প্রত্যাশা থেকে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ইতিবাচক মনোভাব তৈরি হয়েছে। আগামীতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও নীতিগত ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে এমন প্রত্যাশা থেকেই বাজারে আস্থার উন্নতি দেখা যাচ্ছে।
এর ফল হিসেবে দীর্ঘদিন পর বিনিয়োগকারীরা সক্রিয় হচ্ছেন এবং লেনদেনের পরিমাণ বাড়ছে। সামনে যদি সংস্কার ও স্বচ্ছতা আরও জোরদার হয়, তাহলে বাজারে এই গতি টেকসই হতে পারে। যেসব কোম্পানিগুলোর শেয়ারদর বেড়েছে তারা মূলত সঠিক মূল্যায়নে যাওয়ার চেষ্টা করছে। নতুন সরকার যদি সুদের হার কমিয়ে আনে তাহলে বাজারে সুদিন ফিরবে।



