যৌক্তিক কারণ ছাড়াই ফের টানা দরপতনে পুঁজিবাজার, সূচক উধাও ১৩৭ পয়েন্ট
শহীদুল ইসলাম, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: দেশের পুঁজিবাজার বেশ কিছুদিন ধরে পতনের বৃত্তে ঘুরপাক খাচ্ছে। ফলে চলতি সপ্তাহে টানা তিন কার্যদিবস দরপতনে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আবারও আতঙ্ক ভর করেছে। সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের বড় দরপতনে লেনদেন শেষ হয়েছে।
যার ফলে গত তিন কার্যদিবসে ডিএসইতে ১৩৭ পয়েন্ট সূচকের দরপতন হলেও বাজার নিয়ে বিএসইসি ও ডিএসইর নিরব ভুমিকা পালন করছেন। অথচ দিন যতই যাচ্ছে বিনিয়োগকারীদের লোকসানের পাল্লা ততই ভারী হচ্ছে। ফলে আস্থা ও তারল্য সংকটে হাহাকার হয়ে পড়ছে পুঁজিবাজার।
কারণ বাজার সংশ্লিষ্টরা হঠাৎ করে পুঁজিবাজারের এহেন আচরণের পেছনে কোনো যৌক্তিক কারণ খুঁজে পাচ্ছেন না। এছাড়া নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসার এক মাস যেতে না যেতেই টানা দরপতন নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় পুঁজিবাজারে টানা দরপতনের কারণ কী নিয়ন্ত্রক সংস্থার খতিয়ে দেখা উচিত। তেমনি বিএনপি সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের মাঝে আস্থা ফিরিয়ে আনা।
চরম সংকটময় পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে ২০২৪-২৫ সাল পার করেছে পুঁজিবাজার। কয়েক বছর ধরে চলমান বৈশ্বিক অনৈতিক মন্দা, ব্যাংক খাতে অস্থিরতা, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংকট, অর্থ পাচার ও রাজনৈতিক অস্থিরতাসহ বিভিন্ন কারণে গত বছর মন্দাভাব কাটিয়ে উঠতে পারেনি পুঁজিবাজার। ফলে বড় ধরনের লোকসানের মধ্যে পড়তে হয়েছে বিনিয়োগকারীদের।
এমন পরিস্থিতির স্টেকহোল্ডারদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে পুঁজিবাজারে গতিশীল করাই বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা। তাদের প্রত্যাশা, পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় বিএনপি সরকারের হাত ধরে পুঁজিবাজার যেন ঘুরে দাঁড়ায়। হারানো পুঁজি যেন ফিরে পান বিনিয়োগকারীরা।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, পুঁজিবাজার আচরণের কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না।
দীর্ঘ মন্দার প্রায় নিঃশেষ হয়ে যাওয়া বিনিয়োগকারীরা বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর একটু বেশিই আশা করেছিলেন। কিন্তু প্রত্যাশা আর প্রাপ্তির সাথে কোন মিল দেখা যাচ্ছে না। এছাড়া নির্বাচিত সরকারের আমলে বাজার ভালো হবে এ প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের। কিন্তু নির্বাচিত সরকারের এক মাস যেতে না যেতেই আবার অতীতের বাজার খেলোয়াড়রা পুঁজিবাজারে সক্রিয় হয়ে ওঠে। ফলে আবার পূর্বের জুয়ার টেবিলে পরিণত হচ্ছে পুঁজিবাজার। ফলে নামসর্বস্ব কয়েকটি কোম্পানি নিয়ে চলতে থাকে কারসাজি।
জানা গেছে, সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের বড় পতনে লেনদেন শেষ হয়েছে। এদিন সূচকের সাথে কমেছে বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দর। তবে টাকার পরিমাণে লেনদেন কিছুটা বেড়েছে। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
জানা গেছে, দিনশেষে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ৫২ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৫ হাজার ১৭৮ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৭ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১ হাজার ৫৩ পয়েন্টে এবং ডিএসই ৩০ সূচক ১৯ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১ হাজার ৯৬০ পয়েন্টে।
দিনভর লেনদেন হওয়া ৩৮৮ কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৭৭ টির, দর কমেছে ২৭৮ টির এবং দর অপরিবর্তিত রয়েছে ৩৩ টির। ডিএসইতে ৬৮৫ কোটি ৬০ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। যা আগের কার্যদিবস থেকে ২১ কোটি ৭৩ লাখ টাকা বেশি। এর আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৬৬৩ কোটি ৮৭ লাখ টাকার ।
অপরদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ২০৩ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৫৮১ পয়েন্টে। সিএসইতে ১৯৮ টি কোম্পানি লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এসব কোম্পানির মধ্যে ৫০ টির দর বেড়েছে, কমেছে ১৩১ টির এবং ১৭ টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইতে ৪৫ কোটি ২ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।



