শহীদুল ইসলাম, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের বড় পতনে লেনদেন শেষ হয়েছে। তবে চলতি সপ্তাহে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে চার কার্যদিবই সূচকের দরপতনে লেনদেন শেষ হয়েছে। এর ফলে আস্থা সংকটের কারনেই স্থিতিশীল হচ্ছে না পুঁজিবাজার। বাজার আজ ভাল তো কাল খারাপ। এ অবস্থার মধ্যে দিয়ে বছরের পর বছর পার করছে বিনিয়োগকারীরা। তাই এ অবস্থা থেকে উত্তরনে কার্যকর ভুমিকা নেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন বিনিয়োগকারীরা। এছাড়া একটি স্থিতিশীল পুঁজিবাজারের দাবী জানিয়েছেন। তেমনি পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে দীর্ঘ সময় ধরে অর্থনীতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাত পুঁজিবাজার নানামুখী বিতর্কের কারণে দীর্ঘ মন্দার মধ্য দিয়ে পার করে এলেও নতুন সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর বিনিয়োগকারীদের মধ্যে একটি প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন-পরবর্তী প্রথম কার্যদিবসে তার জানানও দিয়েছিলেন বিনিয়োগকারীরা। কিন্তু নতুন সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর এখনো পুঁজিবাজার নিয়ে সরকারের সুনির্দিষ্ট কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। এতে নতুন করে আস্থাহীনতা তৈরি হচ্ছে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

কারণ সাধারণত সারা বিশ্বে কোনো নতুন সরকার ক্ষমতায় এলে দেশের ভবিষ্যৎ অর্থনীতির গতিপ্রকৃতির প্রথম আভাসটি আসে পুঁজিবাজার থেকে। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর প্রথম কার্যদিবসেও তেমনই ইঙ্গিত ছিল দেশের পুঁজিবাজারের আগামী দিনের পথ চলার। কিন্তু বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশার সাথে বাজারের বাস্তবতা ভিন্ন আচরণ করছে। মুলত আবারও আস্থার সংকট দেখা দিয়েছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির নেতৃত্বের ওপর।

গত আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ওলটপালট হয়ে যাওয়া রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে পুনর্গঠিত কমিশনের ওপর আস্থার ঘাটতি নয়া এক সংকটেরই বার্তা দেয় পুঁজিবাজারে। নিয়ন্ত্রক সংস্থার ওপর আস্থার সংকট মানে বিনিয়োগে স্থবিরতা। যার কারণে নির্বাচন-পরবর্তী পুঁজিবাজার ঘুরে দাঁড়াতে পারছে না। এ অবস্থায় পুঁজিবাজারে আস্থা ফেরাতে বিএসইসি চেয়ারম্যানের পরিবর্তনের বিকল্প নেই বলে মনে করছেন একাধিক বিনিয়োগকারীরা।

তবে বিএসইসির বর্তমান মাকসুদের নেতৃত্বাধীন কমিশন গত ১৮ মাস ধরে পুঁজিবাজারের উন্নয়নের নামে বিভিন্ন সংস্কার করছে। তবে তারা যতই সংস্কার করছে, ততই পুঁজিবাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এতে করে বর্তমান কমিশনের সংস্কার এরইমধ্যে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অপসংস্কার হিসেবে ধরা দিয়েছে। যে কমিশন বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে কিছু করতে না পারলেও শুরু থেকে বিভিন্ন জনকে শাস্তি প্রদানের মাধ্যমে বিএসইসিকে ‘শাস্তি কমিশন’ হিসেবে আখ্যায়িত হয়েছে।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি সপ্তাহে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে চার কার্যদিবস বড় দরপতনে ১৯০ পয়েন্ট সূচকের দরপতন হয়েছে। তবে সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবসে হঠাৎ ডিএসইতে ৯৪ পয়েন্ট সূচকের উত্থান হয়েছে। তবে সূচকের উত্থান হলেও বাজার নিয়ে অজানা আতঙ্কে রয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। ফলে বিনিয়োগকারীরা নতুন করে বিনিয়োগ করতে সাহস পাচ্ছেন না।

জানা গেছে, সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের সাথে কমেছে বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দর ও টাকার পরিমাণে লেনদেন। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। দিনশেষে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ৫৩ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৫ হাজার ২১৯ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৫ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১ হাজার ৫৯ পয়েন্টে এবং ডিএসই ৩০ সূচক ২১ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১ হাজার ৯৮০ পয়েন্টে।

দিনভর লেনদেন হওয়া ৩৯৭ কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৬৫ টির, দর কমেছে ৩০৬ টির এবং দর অপরিবর্তিত রয়েছে ২৩ টির। ডিএসইতে ৬২৫ কোটি ৯৯ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। যা আগের কার্যদিবস থেকে ৯৩ কোটি ৮৪ লাখ টাকা বেশি। এর আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৭১৯ কোটি ৮৩ লাখ টাকার ।

অপরদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৭৭ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৭০১ পয়েন্টে। সিএসইতে ১৯১ টি কোম্পানি লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এসব কোম্পানি মধ্যে ৫৮ টির দর বেড়েছে, কমেছে ১১৪ টির এবং ১৯ টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইতে ৯ কোটি ৭ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।