হামিদ ফ্যাব্রিকসের শেয়ারের দাম এক মাসের মধ্যে দ্বিগুনের বেশি
সাজিদুর রহমান, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বস্ত্র খাতের কোম্পানি হামিদ ফেব্রিক্স পিএলসির শেয়ার দর ও লেনদেন অস্বাভাবিক বাড়ার বিষয়টি লক্ষ্য করেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) কর্তৃপক্ষ। এর কারণ জানতে চেয়ে কোম্পানিটির কাছে চিঠি পাঠায় ডিএসই। তবে ডিএসইর সেই চিঠির জবাব দেয়নি হামিদ ফেব্রিক্স কর্তৃপক্ষ। মুলত গত এক মাসের মধ্যে কোম্পানিটির শেয়ার দর দ্বিগুন বেড়েছে।
তবে গ্যাস সংকটের কারণে নয় মাসেরও বেশি সময় ধরে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে হামিদ ফ্যাব্রিকস পিএলসির। এর মধ্যেও থেমে থেমে কোম্পানিটির শেয়ার দর টানা বাড়ছে। এ অবস্থায় কোম্পানিটির কাছে শেয়ারদর বাড়ার কারণ জানতে চেয়ে গত ৩১ মার্চ চিঠি দিয়েছিল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। তবে এখনে পর্যন্ত ডিএসইর চিঠির জবাব দেয়নি কোম্পানিটি।
বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত ২ ফেব্রুয়ারি ডিএসইতে হামিদ ফ্যাব্রিকসের শেয়ার দর ছিল ৫ টাকা ৯০ পয়সা। এর পর থেকেই শেয়ারটির দর ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার কোম্পানিটির শেয়ারদর ১২ টাকা ১০ পয়সায় দাঁড়িয়েছে। এ সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারদর বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি।
হামিদ ফ্যাব্রিকস সর্বশেষ ২০২৪-২৫ হিসাব বছরের প্রথমার্ধের (জুলাই-ডিসেম্বর) আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ২ টাকা ৮৬ পয়সা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ২১ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৩০ টাকা ৮১ পয়সায়।
সমাপ্ত ২০২৩-২৪ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের কোনো লভ্যাংশ দেয়নি হামিদ ফ্যাব্রিকসের পর্ষদ। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৪ টাকা ৬ পয়সা। আগের হিসাব বছরে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ছিল ১৯ পয়সা। ৩০ জুন ২০২৪ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৩৩ টাকা ৬৬ পয়সায়।
সমাপ্ত ২০২২-২৩ হিসাব বছরে উদ্যোক্তা পরিচালক বাদে বাকি বিনিয়োগকারীদের ৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে হামিদ ফ্যাব্রিকস। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ১৯ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৬৭ পয়সা। ৩০ জুন ২০২৩ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৩৭ টাকা ৭১ পয়সায়।
২০১৪ সালে পুঁজিবাজারে তালিকভুক্ত হামিদ ফ্যাব্রিকসের অনুমোদিত মূলধন ২০০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ৯১ কোটি ৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ১৫৪ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ৯ কোটি ১০ লাখ ৫৭ হাজার ৩১২। এর ৫১ দশমিক ৩৮ শতাংশ রয়েছে উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগাকারীদের কাছে ১৮ দশমিক ৭৩ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে বাকি ২৯ দশমিক ৮৯ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।



