মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ বাড়ার শঙ্কায় পুঁজিবাজারে সূচকের বড় দরপতন, উধাও ১০৭ পয়েন্ট
শহীদুল ইসলাম, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: দীর্ঘ এক মাসেরও বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এবং ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত ক্রমেই তীব্র আকার ধারণ করছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি ঘিরে জ্বালানি তেলের সম্ভাব্য সংকটের আশঙ্কায় দেশের পুঁজিবাজারে দেখা দিয়েছে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব।
বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ায় সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের বড় দরপতনে লেনদেন শেষ হয়েছে। এদিন লেনদেনে অংশ নেওয়া অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমেছে, সবকটি সূচকে বড় পতন দেখা গেছে এবং কমেছে মোট লেনদেনের পরিমাণও। এতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এক ধরনের অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বিশেষ করে জ্বালানি খাতে অনিশ্চয়তার কারণে দেশের শিল্পখাতসহ বিভিন্ন অর্থনৈতিক খাত চাপের মুখে পড়েছে। এর প্রভাব থেকে রেহাই পায়নি পুঁজিবাজারও। চলমান বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরে আসছে না। চলতি সপ্তাহে যুদ্ধ পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ায় সপ্তাহের শুরুতেই সূচক ও লেনদেনে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে।
বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন , মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হওয়ায় বৈশ্বিক বাজারে অনিশ্চয়তা বেড়েছে, যার প্রভাব পড়েছে দেশীয় পুঁজিবাজারে। এতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে দীর্ঘদিন ধরে বাজার নিম্নমুখী থাকায় আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত বিক্রির চাপ না বাড়লে দ্রুত ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন তারা।
এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের অধ্যাপক মো. আল-আমিন বলেন, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার খবরে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। ফলে হঠাৎ করে শেয়ার বিক্রির চাপ বেড়ে যাওয়ায় সূচকে বড় পতন দেখা দিয়েছে। তবে আতঙ্কিত হয়ে শেয়ার বিক্রি করা উচিত নয়।
জানা গেছে, সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের বড় পতনে কমেছে বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দর ও টাকার পরিমাণে লেনদেন। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। দিনশেষে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ১০৭ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৫ হাজার ১১২ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১৮ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১ হাজার ৪১ পয়েন্টে এবং ডিএসই ৩০ সূচক ৩৫ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১ হাজার ৯৪৫ পয়েন্টে।
দিনভর লেনদেন হওয়া ৩৯৭ কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ২৫ টির, দর কমেছে ৩৫৪ টির এবং দর অপরিবর্তিত রয়েছে ১১ টির। ডিএসইতে ৫১১ কোটি ৯৯ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। যা আগের কার্যদিবস থেকে ১১৪ কোটি টাকা বেশি। এর আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৬২৫ কোটি ৯৯ লাখ টাকার ।
অপরদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ২২৮ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৪৭৩ পয়েন্টে। সিএসইতে ১৯০ টি প্রতিষ্ঠান লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৩৩ টির দর বেড়েছে, কমেছে ১৪৮ টির এবং ৯ টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইতে ৪৩ কোটি ৪০ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।



