সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে বাজার মূলধন উধাও ৭৩৭ কোটি টাকা
শহীদুল ইসলাম, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: সপ্তাহজুড়ে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচকের মিশ্র প্রবনতার মধ্যে দিয়ে লেনদেন শেষ হয়েছে। গত সপ্তাহে লেনদেন হওয়া পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে তিন কার্যদিবসে বেড়েছে মূল্যসূচক। তবে সপ্তাহজুড়ে ২০৫ পয়েন্ট সূচকের উত্থান হলেও ১৬৭ পয়েন্ট সূচকের পতন হয়েছে। ফলে গত সপ্তাহজুড়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) লেনদেনে অংশ নেওয়া বেশিসংখ্যক কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমেছে। এতে ডিএসইর বাজার মূলধন কমেছে ৭৩৭ কোটি টাকা। একই সঙ্গে দৈনিক গড় লেনদেনের পরিমাণ বেড়েছে।
এদিকে গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই পুঁজিবাজারে ব্যাংক খাতের শেয়ারে নিম্নমুখি ধারা দেখা যাচ্ছিল। তবে বিদায়ী সপ্তাহে ব্যাংক খাতের শেয়ারে ঊর্ধ্বমুখি ধারায় ফিরেছে। এ সময়ে ব্যাংক খাতের শেয়ারে ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে। এই খাতে ভর করে গত সপ্তাহে প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সার্বিক সূচক ডিএসইএক্স দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে। পাশাপাশি এক্সচেঞ্জটির দৈনিক গড় লেনদেনও কিছুটা বেড়েছে। দেশের আরেক পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) গত সপ্তাহে সূচক ও লেনদেন বেড়েছে।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, গত সপ্তাহের শুরুতে মধ্যপ্রাচ্য এবং অভ্যন্তরীণ জ্বালানি ঘাটতি নিয়ে বিদ্যমান অনিশ্চয়তার কারণে বিনিয়োগকারীদের মনোভাব নেতিবাচক ছিল, যা বাজারজুড়ে বড় ধরনের শেয়ার বিক্রির চাপ তৈরি করে। তবে সপ্তাহের চতুর্থ দিন যুদ্ধবিরতির খবরে পুঁজিবাজারে বড় উত্থান দেখা যায়। যদিও যুদ্ধবিরতির স্থায়ীত্ব নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং বিনিয়োগকারীদের মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতার কারণে শেষ কার্যদিবসে পয়েন্ট হারিয়েছে সূচক। তা সত্বেও ব্যাংক খাতের লভ্যাংশ ঘোষণাকে কেন্দ্র করে এই খাতের উত্থানে সার্বিকভাবে সূচক পতন থেকে রক্ষা পায়।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত সপ্তাহে ডিএসইএক্স সূচক আগের সপ্তাহের তুলনায় ৩৮ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ২৫৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ৫ হাজার ২২০ পয়েন্ট। নির্বাচিত কোম্পানির সূচক ডিএসই ৩০ সপ্তাহের ব্যবধানে ২২ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ১ হাজার ৯৮০ পয়েন্ট।
ডিএসইর শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস গত সপ্তাহে প্রায় ৪ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৬৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ১ হাজার ৫৯ পয়েন্ট। ডিএসইতে গত সপ্তাহে দৈনিক গড়ে ৬৬৯ কোটি টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ৬৬৮ কোটি টাকা। সে হিসাবে এক সপ্তাহের ব্যবধানে এক্সচেঞ্জটির দৈনিক গড় লেনদেন বেড়েছে দশমিক ২০ শতাংশ।
তবে সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসের লেনদেন শেষে ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৮৮ হাজার ৬৬২ কোটি টাকা। যা আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ছিল ৬ লাখ ৮৯ হাজার ৩৯৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে বাজার মূলধন কমেছে ৭৩৭ কোটি টাকা। আগের সপ্তাহে বাজার মূলধন কমে ১৭ হাজার ৫১৩ কোটি টাকা।
অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) বিদায়ী সপ্তাহে সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ০.৪৯ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৭৭৩.৮৫ পয়েন্টে। সিএসইর অপর সূচকগুলোর মধ্যে সিএসই-৩০ সূচক ০.৮৬ শতাংশ বেড়ে ১২ হাজার ৯৬৭.৩৭ পয়েন্টে, সিএসসিএক্স সূচক ০.৬২ শতাংশ বেড়ে ৯ হাজার ৩৯.১৫ পয়েন্টে, সিএসআই সূচক ০.৩৪ শতাংশ বেড়ে ৮৯৮.১৬ পয়েন্টে এবং এসইএসএমইএক্স (এসএমই ইনডেক্স) ৬.৪৪ শতাংশ বেড়ে ২ হাজার ১৮১.১৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।
বিদায়ী সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৯ লাখ ২ হাজার ৯০৪ কোটি ৩৬ লাখ ৮০ হাজার টাকা। আর বিদায়ী সপ্তাহের আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে সিএসইর বাজার মূলধন ছিল ৯ লাখ ৬৬৬ কোটি ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা। টাকায়। সপ্তাহের ব্যবধানে বাজার মূলধন বেড়েছে ২ হাজার ২৩৮ কোটি ৩১ লাখ ৩০ হাজার টাকা।
বিদায়ী সপ্তাহে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেন হয়েছে ২৪৩ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। আর বিদায়ী সপ্তাহের আগের সপ্তাহে লেনদেন হয়েছিল ১৮৮ কোটি ১২ লাখ টাকা। সপ্তাহের ব্যবধানে সিএসইতে লেনদেন বেড়েছে ৫৫ কোটি ৩১ লাখ টাকা। বিদায়ী সপ্তাহে সিএসইতে মোট ২৯৭টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট লেনদেনে অংশ নিয়েছে। কোম্পানিগুলোর মধ্যে দর বেড়েছে ১২৩টির, দর কমেছে ১৪৪টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৩০টির শেয়ার ও ইউনিট দর।



