সিটি ব্যাংকের ১৩২৫ কোটি টাকার মুনাফায় শেয়ারহোল্ডারা পাবে ২২৮ কোটি
মনির হোসেন, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংক খাতের কোম্পানি সিটি ব্যাংক মুনাফায় অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে। গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালে ব্যাংকটি ১ হাজার ৩২৪ কোটি টাকার রেকর্ড মুনাফা করেছে। তবে ২০২৪ সালে ব্যাংকটির মুনাফা প্রথমবারের মতো হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছিল।
গত বছর শেষে সিটি ব্যাংকের মুনাফা আগের বছরের চেয়ে ৩১০ কোটি টাকা বা প্রায় ৩১ শতাংশ বেড়েছে। রেকর্ড মুনাফা করায় গত ১৫ বছর পর ব্যাংকটি সব্বোর্চ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। সমাপ্ত অর্থবছরে ব্যাংকটি ৩০ শতাংশ লভ্যাংশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মধ্যে ১৫ শতাংশ নগদ ও ১৫ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। এছাড়া ব্যাংক গত ছয় বছরের মধ্যে সব্বোর্চ মুনাফা ঘোষণা করছে।
ফলে সিটি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ২০২৫ সালের ব্যবসায় অর্জিত মুনাফার ৮৩ শতাংশই কোম্পানিতে রেখে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শেয়ারহোল্ডারদের মাঝে মাত্র ১৭ শতাংশ বিতরণ করা হবে। যে কোম্পানিটির আগের বছরের তুলনায় ২০২৫ সালে ১৬ শতাংশ মুনাফা বেড়েছে।
সিটি ব্যাংকের ২০২৫ সালের ব্যবসায় শেয়ারপ্রতি ৮.৭১ টাকা হিসেবে ১ হাজার ৩২৪ কোটি ৯৮ লাখ টাকার নিট মুনাফা হয়েছে। এরমধ্য থেকে ১৫ শতাংশ হিসেবে শেয়ারপ্রতি ১.৫০ টাকা করে ২২৮ কোটি ১৮ লাখ টাকার বা ১৭.২২ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ বিতরন করা হবে। বাকি ১ হাজার ৯৬ কোটি ৮০ লাখ টাকা বা ৮২.৭৮ শতাংশ কোম্পানিতে রেখে দেওয়া হবে। এরমধ্যে ১৫ শতাংশ বোনাস শেয়ার হিসেবে ২২৮ কোটি ১৮ লাখ টাকা দিয়ে পরিশোধিত মূলধন বাড়ানো হবে এবং বাকি ৮৬৮ কোটি ৬২ লাখ টাকা সংরক্ষিত আয়ে (রিটেইন আর্নিংস) যোগ হবে।
এর আগের বছর কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি ৭.৫৩ টাকা করে নিট ১ হাজার ১৪ কোটি ৩৫ লাখ টাকা মুনাফা হয়েছিল। এর বিপরীতে শেয়ারহোল্ডারদের ১২.৫০ শতাংশ নগদ ও ১২.৫০ শতাংশ বোনাস শেয়ার লভ্যাংশ দেওয়া হয়। ওই বছর মুনাফার ৮৩ শতাংশ কোম্পানিতে রেখে দেয় সিটি ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। এদিকে কোম্পানিটির আগের বছরের তুলনায় ২০২৫ সালে ১৬ শতাংশ মুনাফা বেড়েছে। এ কোম্পানিটির আগের বছরের ৭.৫৩ টাকার শেয়ারপ্রতি মুনাফা ২০২৫ সালে হয়েছে ৮.৭১ টাকা।
১৯৮৭ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া সিটি ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধনের পরিমাণ ১ হাজার ৫২১ কোটি ২২ লাখ টাকা। এর মধ্যে উদ্যোক্তা পরিচালকদের ৩০.৩৭ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ১৭.৪১ শতাংশ, বিদেশী বিনিয়োগকারীদের ৪.৮৭ শতাংশ এবং সাধারন বিনিয়োগকারীদের কাছে ৪৭.৩৫ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।



