শহীদুল ইসলাম, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচকের কিছুটা উত্থানে লেনদেন শেষ হয়েছে। মুলত বিমা খাতের শেয়ারে ভর করে সূচকের উত্থান হয়েছে। তবে সূচকের বড় উত্থান না হলেও লেনদেন কিছুটা বেড়েছে। ফলে দীর্ঘদিন পর পুঁজিবাজারে দাম বাড়ার ক্ষেত্রে দাপট দেখিয়েছে বিমা খাতের কোম্পানিগুলো। সিংহভাগ বিমা কোম্পানির শেয়ার দাম বাড়ায় সার্বিক বাজারেও ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। মূল্য সূচক বাড়ার পাশাপাশি বেড়েছে লেনদেনের গতি।

এতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) প্রায় সবকটি বিমা কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে। এতে সার্বিকভাবে দাম বাড়ার তালিকা বড় হওয়ার পাশাপাশি প্রধান মূল্য সূচক বেড়েছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে লেনদেনের পরিমাণ। অন্য পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) দাম বাড়ার তালিকা বড় হওয়ার পাশাপাশি মূল্য সূচক বেড়েছে।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমার মাধ্যমে। এতে লেনদেনের শুরুতেই সূচক ঋণাত্মক হয়ে পড়ে। তবে লেনদেনের সময় আধাঘণ্টা গড়ানোর আগেই দাম বাড়তে থাকে বিমা কোম্পানির শেয়ারের। লেনদেনের সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বিমা কোম্পানির শেয়ার দাম বাড়ার প্রবণতা অব্যাহত থাকে। লেনদেনের শেষ পর্যন্ত এই ধরা অব্যাহত থাকে। ফলে প্রায় সবকটি বিমা কোম্পানির শেয়ার দাম বাড়ার পাশাপাশি দাম বাড়ার তালিকা বড় হয়েই দিনের লেনদেন শেষ হয়।

একাধিক বিনিয়োগকারী সাথে আলাপকালে বলেন, পুঁজিবাজার ধীরে ধীরে স্বাভাবিক গতিতে হাঁটছে। আমরা চাই একটি স্থিতিশীল পুঁজিবাজার। আমরা একটানা সূচকের উত্থান চাই না, তেমনি একটানা সূচকের পতনও চাই না। তাই বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে স্থিতিশীল ও টেকসই পুঁজিবাজারের দাবী। এছাড়া বাজারের এই ধারা বজায় থাকলে শিগগিরই প্রাতিষ্ঠানিক ও নতুন বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়বে বলে তারা মনে করেন।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, বিমা কোম্পানিগুলোর হিসাব বছর শেষ হয় ডিসেম্বরে। সামনে কোম্পানিগুলোর ২০২৫ সালের সমাপ্ত বছরের লভ্যাংশ সংক্রান্ত ঘোষণা আসবে। এ কারণেই হয়তো বিমা খাতের শেয়ারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বেড়েছে। এতে দামেও ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

জানা গেছে, দিনশেষে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ১৩ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ৫ হাজার ২৭১ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ২ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ১ হাজার ৬১ পয়েন্টে এবং ডিএসই ৩০ সূচক.১৪ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ২ হাজার ২ পয়েন্টে।

দিনভর লেনদেন হওয়া ৩৯৯ কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১৮৮ টির, দর কমেছে ১৪৫ টির এবং দর অপরিবর্তিত রয়েছে ৬৬ টির। ডিএসইতে ৮৩৭ কোটি ১০ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। যা আগের কার্যদিবস থেকে ৬০ কোটি ২৪ লাখ টাকা বেশি। এর আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৭৭৬ কোটি ৮৬ লাখ টাকার ।

অপরদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই .৯৭ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৭৭২ পয়েন্টে। সিএসইতে ১৭৯ টি কোম্পানি লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এসব কোম্পানির মধ্যে ৭৫ টির দর বেড়েছে, কমেছে ৮১ টির এবং ২৩ টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইতে ৫৪ কোটি টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।