শহীদুল ইসলাম, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: সপ্তাহজুড়ে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) বিনিয়োগকারীদের মধ্যে একধরনের দ্বিধা এবং একই সঙ্গে সুবিধাজনক অবস্থানে থাকা শেয়ার ক্রয়ের মিশ্র প্রবণতা লক্ষ করা গেছে। ফলে সপ্তাহের প্রথম দুই কার্যদিবস বাজার কিছুটা নেতিবাচক থাকলেও তৃতীয় কার্যদিবস থেকে বীমা ও বস্ত্র খাত সহ ভালো মৌল ভিত্তি শেয়ারগুলোর প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের কারণে বাজার ইতিবাচক মোড় নেয়।

তবে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি, বিভিন্ন কোম্পানির ত্রৈমাসিক আয়ের প্রকাশ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিগত পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত গত সপ্তাহের বাজারকে প্রভাবিত করেছে। ফলে গত সপ্তাহে লেনদেন হওয়া পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে তিন কার্যদিবসেই দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে বেশির ভাগ কোম্পানি। ফলে সপ্তাহজুড়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) লেনদেনে অংশ নেওয়া বেশিসংখ্যক কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। তবে বড় মূলধনের বেশিসংখ্যক কোম্পানির শেয়ার দাম কমেছে। এতে ডিএসইর বাজার মূলধন আড়াই হাজার কোটি টাকার ওপরে কমে গেছে।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত সপ্তাহের সবচেয়ে বড় সামষ্টিক অর্থনৈতিক খবরটি এসেছে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে। বিনিয়োগ ও দেশের উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক খেলাপি বা বকেয়া ঋণের ওপর জরিমানার সুদের হার ১.৫ শতাংশ থেকে এক ধাক্কায় কমিয়ে ০.৫ শতাংশ নির্ধারণ করেছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে দীর্ঘমেয়াদে পুঁজিবাজারে অত্যন্ত ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

এর ফলে তালিকাভুক্ত উৎপাদনশীল ও ম্যানুফ্যাকচারিং খাতের কোম্পানিগুলোর ওপর থেকে বাড়তি ঋণের চাপ কমবে, যা তাদের ব্যবসায়িক সম্প্রসারণে সাহায্য করবে। বিশেষ করে প্রকৌশলের মতো ভারী উৎপাদনশীল খাতের উৎপাদন খরচ কমবে, যা পরোক্ষভাবে কোম্পানির মুনাফা বাড়াতে সাহায্য করবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই ইতিবাচক সংকেত বাজারে তারল্য প্রবাহ ও বিনিয়োগকারীদের সক্রিয়তা বাড়াতে কাজ করছে বড় অনুঘটক হিসেবে।

জানা গেছে, সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসের লেনদেন শেষে ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৭৭ হাজার ৩৩৬ কোটি টাকা, যা আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ছিল ৬ লাখ ৭৯ হাজার ৯৯৪ কোটি টাকা। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে বাজার মূলধন কমেছে ২ হাজার ৬৫৮ টাকা।

আগের সপ্তাহে কমে ৫ হাজার ১২৪ কোটি টাকা। বাজার মূলধন কমলেও গত সপ্তাহে প্রধান মূল্যসূচকও বেড়েছে। ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স সপ্তাহজুড়ে বেড়েছে ১১ দশমিক ১২ পয়েন্ট বা দশমিক ২১ শতাংশ। আগের সপ্তাহে সূচকটি বাড়ে ৫২ দশমিক ৭৭ পয়েন্ট বা ১ শতাংশ।

অপর দুই সূচকের মধ্যে ইসলামী শরিয়াহ ভিত্তিতে পরিচালিত কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই শরিয়াহ্ সূচক গত সপ্তাহজুড়ে বেড়েছে ৭ দশমিক ৯৬ পয়েন্ট বা দশমিক ৭৫ শতাংশ। আগের সপ্তাহে সূচকটি বাড়ে ৫ দশমিক ৩৭ পয়েন্ট বা দশমিক ৫১ শতাংশ। তবে বাছাই করা ভালো কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক গত সপ্তাহজুড়ে কমেছে ১৯ দশমিক ৯৪ পয়েন্ট বা ১ শতাংশ। আগের সপ্তাহে সূচকটি কমে ১৫ দশমিক ৪০ পয়েন্ট বা দশমিক ৭৬ শতাংশ।

এদিকে গত সপ্তাহে ডিএসইতে লেনদেনের গতি বেড়েছে। সপ্তাহের প্রতি কার্যদিবসে ডিএসইতে গড়ে লেনদেন হয়েছে ৮৭৯ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয় ৮৩০ কোটি ২৪ লাখ টাকা। অর্থাৎ প্রতি কার্যদিবসে গড় লেনদেন বেড়েছে ৬৯ কোটি ২৩ লাখ টাকা বা ৫ দশমিক ৯৩ শতাংশ।