শহীদুল ইসলাম, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: ঈদুল আজহার ছুটি শেষে পুঁজিবাজারে টানা ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে। ফলে সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের বড় উত্থানে লেনদেন শেষ হয়েছে। তবে প্রতিনিয়ত বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দাম বাড়ার পাশাপাশি লেনদেনের গতিও বাড়তে দেখা যাচ্ছে। ফলে পুঁজিবাজার নিয়ে আবারও আশাবাদী হয়ে উঠছেন বিনিয়োগকারীরা। এতে টানা আট কার্যদিবসে উত্থানে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ২৩৮ পয়েন্ট বেড়েছে। এদিন সূচকের পাশাপাশি বেড়েছে বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দর ও টাকার পরিমাণে লেনদেন। একই সঙ্গে ডিএসইতে চলতি বছরের সর্বোচ্চ লেনদেনের ঘটনা ঘটেছে। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত বছরের ৮ সেপ্টেম্বর ডিএসইতে লেনদেন হয়েছিল ১ হাজার ৪০০ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। এর আগে ঈদের ছুটি শুরু হওয়ার আগেও পুঁজিবাজারে টানা ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যায়। ঈদের আগে টানা পাঁচ কার্যদিবস পুঁজিবাজার ঊর্ধ্বমুখী থাকে। আর ঈদের পর লেনদেন হওয়া তিন কার্যদিবসেই ঊর্ধ্বমুখিতার দেখা মিলেছে। ফলে ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ২৭৯ কোটি ১৩ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ১ হাজার ৮০ কোটি ৪২ লাখ টাকা। এ হিসাবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন বেড়েছে ১৯৮ কোটি ৭১ লাখ টাকা। এর মাধ্যমে গত বছরের ৮ সেপ্টেম্বরের পর ডিএসইতে সর্বোচ্চ লেনদেন হলো।

বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে অর্থনীতি ও পুঁজিবাজার সংক্রান্ত কিছু ইতিবাচক প্রত্যাশা, বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বৃদ্ধি এবং বড় মূলধনি কোম্পানিগুলোর শেয়ারে ক্রয়চাপ বৃদ্ধির কারণে বাজারে এই ধারাবাহিক উত্থান দেখা যাচ্ছে। দীর্ঘদিনের স্থবিরতার পর বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়তে শুরু করায় বাজারে নতুন গতি তৈরি হয়েছে।

টানা কয়েকদিনের উত্থান বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন আশাবাদ তৈরি করলেও বাজারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি, সুশাসন নিশ্চিতকরণ এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার কার্যকর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হবে। তারা মনে করেন, শুধুমাত্র স্বল্পমেয়াদি উত্থান নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদে আস্থাভিত্তিক বাজার গড়ে তোলাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

অভিজ্ঞ বিনিয়োগকারী কাজী হোসাইন আলী বলেন, বিনিয়োগকারীরা মূলত আসন্ন জাতীয় বাজেটের দিকে তাকিয়ে আছেন। ধারণা করা হচ্ছে, এই বাজেটে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, তারল্যপ্রবাহ বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনার বিষয়ে বিশেষ নীতিগত ঘোষণা থাকতে পারে। এ ছাড়া ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা প্রশমনের সম্ভাবনা এবং বড় মূলধনি শেয়ারগুলোর (যেমন ব্যাংক ও এনবিএফআই) প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ বাজারের এই ইতিবাচক ধারা বজায় রাখতে সাহায্য করেছে।

জানা গেছে, দিনশেষে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ৩৫ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ৫ হাজার ৪৪১ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৯ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ১ হাজার ৯৯ পয়েন্টে এবং ডিএসই ৩০ সূচক ৭ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ২ হাজার ৫৭ পয়েন্টে।

দিনভর লেনদেন হওয়া ৩৯০ টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ২৪৩ টির, দর কমেছে ৯৮ টির এবং দর অপরিবর্তিত রয়েছে ৪৯ টির। ডিএসইতে টাকার পরিমাণে লেনদেন হয়েছে এক হাজার ২৭৯ কোটি ১৩ লাখ টাকার। যা আগের কার্যদিবস হতে ১৬৮ কোটি ৪ টাকা বেশি। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল এক হাজার ৮০ কোটি ৪২ লাখ টাকা।

অপরদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই এদিন ১০৪ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ১৮৫ পয়েন্টে। তবে সিএসইতে হাত বদল হওয়া ২৩৭টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শেয়ার দর বেড়েছে ১৪৮ টির কমেছে ৬৪টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২৫টির দর। সিএসইতে ৩১ কোটি ৮ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।