লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ থেকে বাদ পড়ার ঝুঁকিতে বেক্সিমকো ফার্মা
দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করতে না পারায় লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের তালিকাভুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। প্রয়োজনীয় আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদনে বিলম্ব অব্যাহত থাকলে কোম্পানিটি তালিকাচ্যুতির ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে গত ২ জানুয়ারি থেকে লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জের অলটারনেটিভ ইনভেস্টমেন্ট মার্কেটে (এআইএম) বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের গ্লোবাল ডিপোজিটারি রিসিপ্টস (জিডিআর) লেনদেন স্থগিত রয়েছে।
ফলে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। এআইএমের বিদ্যমান বিধান অনুযায়ী, কোনো সিকিউরিটিজের লেনদেন টানা ছয় মাস বন্ধ থাকলে তার তালিকাভুক্তি বাতিল হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। সেই সময়সীমা ঘনিয়ে আসায় বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা জোরদার হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের লন্ডন-তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজে বিনিয়োগকারী ছয়টি প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যানের কাছে চিঠি দিয়েছে। চিঠিতে বিশেষ ব্যবস্থার মাধ্যমে কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের সভা আয়োজন এবং বকেয়া আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদনের সুযোগ করে দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
বিনিয়োগকারীদের মতে, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের সম্ভাব্য তালিকাচ্যুতি শুধু কোম্পানির শেয়ারহোল্ডারদের জন্য নেতিবাচক হবে না, বরং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের ভাবমূর্তির ওপরও বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে দেশের পুঁজিবাজার সম্পর্কে নেতিবাচক বার্তা পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, বিষয়টি দ্রুত সমাধান করা না গেলে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের করপোরেট সুনাম ও বিনিয়োগ আকর্ষণের সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে। মুলত বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস বর্তমানে লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জের এআইএম প্ল্যাটফর্মে তালিকাভুক্ত একমাত্র বাংলাদেশি কোম্পানি। ফলে কোম্পানিটির ভবিষ্যৎ নিয়ে যেকোনো সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক পুঁজিবাজারে বাংলাদেশের উপস্থিতি ও ভাবমূর্তির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।
তবে পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন-বিএসইসির চেয়ারম্যান মাসুদ খান বলেছেন, এই দুই সপ্তাহের মধ্যে কিছু একটা করতে হবে। যাতে বেক্সিমকো ফার্মা লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জের তালিকা থেকে বাদ না পড়ে। কারণ বেক্সিমকো ফার্মা লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ থেকে ‘ডিলিস্টেড’ হলে ইমেজ নষ্ট হবে। ভবিষ্যতে আর কোনো কোম্পানি বিদেশের স্টক মার্কেটে তালিকাভুক্ত হতে সমস্যা হবে। তাই বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে আমরা একটা সমাধানের চেষ্টা করছি। আশা করছি ভালো কিছু হবে।
মাসুদ খান বলেন, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের লন্ডনে তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজের ছয়জন প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী আমাদের সঙ্গে বৈঠক করে বিষয়টির সম্মানজনক সমাধানের উদ্যোগ নিতে একটি চিঠি দিয়েছে। আমরা সে মোতাবেক কিছু করার উদ্যোগ নেব।



