দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ পিএলসি (ডিএসই) থেকে ‘পুনর্গঠন’ এর নামে তিন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাসহ মোট আট কর্মকর্তা-কর্মচারীকে আকস্মিকভাবে চাকরিচ্যুত করার ঘটনায় নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তাদের অভিযোগ, তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো অসদাচরণ, অদক্ষতা বা শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ না থাকা সত্ত্বেও গত ২৫ জুন তাৎক্ষণিকভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।

এ ঘটনার প্রতিকার চেয়ে ডিএসইর বরখাস্ত হওয়া তিন উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) গত ২৮ জুন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যানের কাছে যৌথভাবে লিখিত আবেদন করেছেন। একই আবেদনে তাঁরা ডিএসইর শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক নিয়োগ, পদোন্নতি এবং ক্যারিয়ার সুবিধা প্রদানের ক্ষেত্রে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতি এবং নীতিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে স্বাধীন তদন্তেরও দাবি জানিয়েছেন।

আবেদনকারী তিন কর্মকর্তা হলেন: মো: আব্দুর রাজ্জাক, মো. শাহীন সারওয়ার হোসেন এবং মো. আব্দুল লতিফ। তাঁদের প্রত্যেকেই প্রায় ১৯ থেকে ৩০ বছর পর্যন্ত ডিএসইতে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে দায়িত্বে ছিলেন। আবেদনে তারা অভিযোগ করেন, অনুমোদিত পুনর্গঠন পরিকল্পনা বা সংশোধিত অর্গানোগ্রাম ছাড়াই তাদের চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে কোনো অসদাচরণ, কর্মদক্ষতার ঘাটতি বা শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ না থাকা সত্ত্বেও গত ২৫ জুন চাকরিচ্যুত করা হয়।

তাদের দাবি, নোটিশ পিরিয়ড অনুসরণ না করে ১২০ দিনের মোট বেতন পরিশোধের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই দিনে তাদের কর্মস্থল ছাড়তে বাধ্য করা হয় এবং কম্পিউটার, ই-মেইলসহ অন্যান্য প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থায় প্রবেশাধিকারও বন্ধ করে দেওয়া হয়। আবেদনে তারা ডিএসইর পুনর্গঠন-সংক্রান্ত পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত ও সংশ্লিষ্ট নথি তলব, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত চাকরিচ্যুতির সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা, চাকরিতে পুনর্বহাল এবং পুরো প্রক্রিয়ার স্বাধীন তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

একই আবেদনে ডিএসইর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ, পদোন্নতি ও অতিরিক্ত ক্যারিয়ার সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রেও অনিয়মের অভিযোগ তোলা হয়েছে। আবেদনকারীদের দাবি, কয়েকটি নিয়োগে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। এছাড়া কিছু পদোন্নতি অনুমোদিত অর্গানোগ্রাম ও নমিনেশন অ্যান্ড রেমুনারেশন কমিটির (এনআরসি) সুপারিশ ছাড়াই দেওয়া হয়েছে। কয়েকজন কর্মকর্তার ক্ষেত্রে স্বজনপ্রীতির অভিযোগও উল্লেখ করা হয়েছে।

এসব অভিযোগের স্বাধীন তদন্তের দাবি জানিয়ে আবেদনকারীরা বলেন, ঘটনাগুলো বিচ্ছিন্ন নয়; বরং ডিএসইর করপোরেট সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। তাদের মতে, দেশের প্রধান পুঁজিবাজার পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ ও জনবল ব্যবস্থাপনায় নীতিমালা উপেক্ষা করা হলে তা বিনিয়োগকারীদের আস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।