শহীদুল ইসলাম, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: দীর্ঘ মন্দা আর অনিশ্চয়তার পর পুঁজিবাজার আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট চূড়ান্ত করার সময় সরকার পুঁজিবাজারের জন্য একগুচ্ছ কর-প্রণোদনা ঘোষণা করেছে। ব্যক্তি ও কোম্পানির লভ্যাংশ আয়ের ওপর কর কমানো, মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগের সীমা তুলে দেওয়া, তালিকাভুক্ত কোম্পানির জন্য অতিরিক্ত কর ছাড়, জিরো কুপন বন্ডের আয় করমুক্ত রাখা এসব পদক্ষেপকে সাম্প্রতিক বছরগুলোর সবচেয়ে বড় কর-সহায়তা হিসেবে দেখছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

একই সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরও স্পষ্ট করে বলেছেন, দেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য ব্যাংকনির্ভর অর্থায়ন কমিয়ে একটি শক্তিশালী ও গভীর পুঁজিবাজার গড়ে তুলতে হবে। ফলে সবার মাঝে একটাই প্রশ্ন এবার কী সত্যি পুঁজিবাজার চাঙা হচ্ছে।

ফলে পুঁজিবাজারে সূচক ও লেনদেনের বড় উত্থানে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আবারও আস্থা ফিরে আসতে শুরু করেছে। টানা কয়েক মাস ধুঁকতে থাকা বাজারে হঠাৎ সূচকের উল্লম্ফন ও লেনদেনের মাত্রা বাড়ায় অনেকেই স্বস্তির নিশ্বাস ফেলছেন। মুলত সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের বড় উত্থানে লেনদেন শেষ হয়েছে। এর ফলে টানা ছয় কার্যদিবস সূচকের উত্থানে লোকসান কাটিয়ে আবারও মুনাফার প্রত্যাশায় সক্রিয় হচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা।

এছাড়া গত সপ্তাহে টানা ৩ কার্যদিবস উত্থান দিয়ে শেষ হলেও চলতি সপ্তাহের ৩ কার্যদিবসে সূচকের বড় উত্থান হয়েছে। এতে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ২০৯ পয়েন্ট বেড়েছে। এছাড়া লেনদেনের পরিমাণ বেড়ে দেড় হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। মুলত পুঁজিবাজারের এই ঘুরে দাঁড়ানোর পেছনে বড় ধরনের ভূমিকা রেখেছে ভালো মৌল ভিত্তি শেয়ার। এদিন বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ার দর ও টাকার পরিমানে লেনদেন বেড়েছে। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, ব্যাংক-বীমা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ওষুধ ও রসায়ন, প্রকৌশল খাতের শেয়ারে সক্রিয় লেনদেন হয়েছে। বিশেষ করে প্রকৌশলী, বিমা এবং ওষুধ রসায়ন খাতের বেশ কয়েকটি শেয়ারে শক্তিশালী ক্রয়চাপ দেখা গেছে। পাশাপাশি কিছু বড় মূলধনি ও মৌলভিত্তিক কোম্পানির শেয়ারেও বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ অব্যাহত ছিল যা বাজারের ইতিবাচক অবস্থান ধরে রাখতে সহায়তা করেছে। তবে কিছু খাতে মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতার কারণে সীমিত বিক্রয়চাপও লক্ষ করা গেছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ভালো মৌল ভিত্তি শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়ায় লেনদেন ১ হাজার ৫৭৬ কোটি টাকার ওপরে থাকায় বাজারে ইতিবাচক মনোভাব বজায় রয়েছে। যদিও এদিন সূচকের বড় উত্থান ছিলো।  উচ্চ লেনদেন, বাজার মূলধনের বৃদ্ধি এবং বড় মূলধনি শেয়ারে ক্রয়চাপ বাজারের ভিত্তি শক্তিশালী হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ অব্যাহত থাকলে এবং মৌলভিত্তিক কোম্পানির প্রতি আগ্রহ বজায় থাকলে বাজারে বর্তমান ইতিবাচক প্রবণতা আগামী কার্যদিবসগুলোতেও অব্যাহত থাকতে পারে।

জানা গেছে, দিনশেষে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ৪০ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ৫ হাজার ৭৬২ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১১ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ১ হাজার ১৬৮ পয়েন্টে এবং ডিএসই ৩০ সূচক ১১ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ২ হাজার ১৭৮ পয়েন্টে।

দিনভর লেনদেন হওয়া ৩৯৭ কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ২৪৯ টির, দর কমেছে ৯৪ টির এবং দর অপরিবর্তিত রয়েছে ৫৪ টির। ডিএসইতে ১ হাজার ৫৭৩ কোটি ৬৫ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। যা আগের কার্যদিবস থেকে ২২২ কোটি ১৪ লাখ টাকা বেশি। এর আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ১ হাজার ৩৫১ কোটি ৫১ লাখ টাকার ।

অপরদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৯৮ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৪৫০ পয়েন্টে। সিএসইতে ২৬১ টি প্রতিষ্ঠান লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৫১ টির দর বেড়েছে, কমেছে ৬৯ টির এবং ৪১ টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইতে ৪১ কোটি ১৩ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।