শহীদুল ইসলাম, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: নতুন অর্থবছরের প্রথম কার্যদিবসে পুঁজিবাজারে সূচকের কিছুটা কারেকশন হলেও সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) বড় সূচকের উত্থানে লেনদেন শেষ হয়েছে। মুলত সূচকের বড় উত্থানে বিদ্যুৎ-জ¦ালানী ও আর্থিক খাত এবং বস্ত্র খাতের শেয়ারে উত্থানে বড় ভুমিকা রেখেছে। ফলে পুঁজিবাজারে নতুন করে আশার সঞ্চার হচ্ছে।

আস্থাহীন ও অনিশ্চয়তার কারণে গতিহীন হয়ে পড়া পুঁজিবাজারে ভালো মৌল ভিত্তি শেয়ারে ভর করে গতি ফেরার আভাস মিলছে। তেমনি নতুন অর্থবছরে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন আশা জাগিয়েছে পুঁজিবাজার। ফলে চাঙা হচ্ছে পুঁজিবাজার। বাজারবিমুখ বিনিয়োগকারীরা ফের বাজারমুখী হচ্ছেন। তেমনি সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে সূচক সাথে বেড়েছে বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দর ও টাকার পরিমানে লেনদেন। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিদ্যুৎ-জ¦ালানী, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, প্রকৌশল খাত এবং বস্ত্র খাতে সক্রিয় লেনদেন হয়েছে। বিশেষ করে বিদ্যুৎ-জ¦ালানী, আর্থিক খাতের বেশ কয়েকটি শেয়ারে শক্তিশালী ক্রয়চাপ দেখা গেছে। পাশাপাশি কিছু বড় মূলধনী ও মৌলভিত্তিক কোম্পানির শেয়ারেও বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ অব্যাহত সূচক ও লেনদেনে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হচ্ছে। তবে কিছু খাতে মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতার কারণে সীমিত বিক্রয়চাপও লক্ষ করা গেছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা ফিরে এসেছে। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থাও ধীরে ধীরে জোরালো হচ্ছে। ফলে ধারাবাহিকভাবে লেনদেনের পরিমাণ বৃদ্ধি এবং প্রধান সূচকগুলোর ঊর্ধ্বমুখী অবস্থান বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারের ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। তারা মনে করছেন, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়ার পাশাপাশি মৌলভিত্তিক ও বড় মূলধনি শেয়ারে ক্রয়চাপ অব্যাহত থাকায় বাজারে ইতিবাচক গতি বজায় রয়েছে। ফলে বিদ্যমান ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী দিনগুলোতে আরও নতুন রেকর্ড তৈরি হতে পারে।

জানা গেছে, দিনশেষে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ৪৩ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ৫ হাজার ৭৮৭ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৯ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ১ হাজার ১৭৮ পয়েন্টে এবং ডিএসই ৩০ সূচক ২৯ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ২ হাজার ১৯১ পয়েন্টে।

দিনভর লেনদেন হওয়া ৩৮৯ কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১৭৭ টির, দর কমেছে ১৫৩ টির এবং দর অপরিবর্তিত রয়েছে ৫৯ টির। ডিএসইতে ১ হাজার ৫৩০ কোটি ৭ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। যা আগের কার্যদিবস থেকে ৯০ কোটি ৫৩ লাখ টাকা বেশি। এর আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ১ হাজার ৪৩৯ কোটি ৫৪ লাখ টাকার।

অপরদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৮ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৪১৬ পয়েন্টে। সিএসইতে ২৫৬ টি কোম্পানি লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এসব কোম্পানির মধ্যে ১৪১ টির দর বেড়েছে, কমেছে ৯৬ টির এবং ১৯ টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইতে ৬৬ কোটি ৯৩ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।