ত্রৈমাসিক আর্থিক প্রতিবেদনে বড় পরিবর্তন আনছে বিএসইসি
দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর ত্রৈমাসিক আর্থিক প্রতিবেদন প্রস্তুতের বর্তমান পদ্ধতিতে বড় পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে পূর্ণাঙ্গ ত্রৈমাসিক প্রতিবেদনের পরিবর্তে সংক্ষিপ্ত আর্থিক প্রতিবেদন চালুর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান মাসুদ খান। একই সঙ্গে আইপিও প্রক্রিয়া সহজীকরণ ও কাগজনির্ভর কার্যক্রম কমিয়ে সম্পূর্ণ ডিজিটাল ব্যবস্থায় যাওয়ারও ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
এখন থেকে তিন মাসের বদলে কোম্পানিগুলোকে ছয় মাসে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর নিকুঞ্জে ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডিবিএ) আয়োজিত ‘মিট অ্যান্ড গ্রিট’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ মন্তব্য করেন বিএসইসি চেয়ারম্যান মাসুদ খান।
আন্তর্জাতিক হিসাবমান অনুযায়ী কনডেন্সড রিপোর্টিংয়ের নিয়ম থাকলেও দেশে ফুল রিপোর্টিং করতে গিয়ে কোম্পানিগুলোকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। নিজের অতীত করপোরেট অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে মাসুদ খান বলেছেন, তিন মাসের প্রতিবেদন জমার পর নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছ থেকে ১০ থেকে ৩০টি প্রশ্নের লাভ লেটার বা ব্যাখ্যামূলক চিঠি আসত। এ ভোগান্তি কমাতেই ছয় মাসের ব্যবস্থা চালু করা হবে।
বিএসইসি চেয়ারম্যান জানালেন, ব্যাংক থেকে সহজে ঋণ মেলায় কোম্পানিগুলো আইপিওতে আসতে আগ্রহী হয় না। এজন্য আইপিও প্রক্রিয়া আরও সহজ করা হবে। লিস্টিং ফি কমানোর পাশাপাশি আইপিওতে ট্র্যাকিং সিস্টেম চালু করা হবে। এর ফলে বিএসইসির কোন টেবিলে ফাইলটি আছে, তা সহজেই জানা যাবে।
আইপিও আবেদন সরাসরি ডিএসই ও সিএসইতে জমা দেওয়ার ব্যবস্থার পাশাপাশি ডিলিস্টিং রেগুলেশন ঢেলে সাজানো এবং বাজার পুরোপুরি অটোমেটেড করা হবে। বিদেশি বিনিয়োগের প্রতিবন্ধকতা দূর করা এবং আর্থিক সাক্ষরতা কার্যক্রম ঢেলে সাজানোর কথা জানিয়ে বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেছেন, আমরা চাই পুঁজিবাজার ভাইব্র্যান্টলি গ্রো করুক, আমরা সবাইকে নিয়ে একত্রে কাজ করতে চাই।
অনুষ্ঠানে বিএসইসি কমিশনার তানভীর হাবিব রহমান, নাহিদ মাহতাব, মো. নাফিজ আল তারিকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।



