সানলাইফ ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার লেনদেনে অনিয়ম তদন্তের নির্দেশ বিএসইসির
দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বীমা খাতের কোম্পানি সানলাইফ ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারের দাম ও লেনদেন অস্বাভাবিক বাড়ার কারণ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এ বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত শেষে আগামী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে (ডিএসই) পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে কমিশনে। রোববার বিএসইসির সার্ভেইল্যান্স বিভাগ থেকে জারি করা হয়েছে এ-সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা।
সম্প্রতি কোনো ধরনের মূল্য সংবেদনশীল তথ্য (পিএসআই) বা ব্যবসায়িক অগ্রগতির ঘোষণা ছাড়াই কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেনে অস্বাভাবিক পরিবর্তন লক্ষ করা গেছে। গত ১২ কার্যদিবসে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম বেড়েছে ২১ দশমিক ৫৮ শতাংশ।
বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত ১৯ মে সানলাইফ ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারের দাম ছিল ৬৪ টাকা, যা ৮ জুন বেড়ে দাঁড়ায় ৮৩ টাকায়। এরপর শেয়ারটির দাম কিছুটা কমলেও তা আবার বাড়তে থাকে। গত ২২ জুন শেয়ারটির দাম ছিল ৬৫ দশমিক ৮০ টাকা, যা ৯ জুলাই বেড়ে দাঁড়ায় ৮০ টাকায়। ফলে ১২ কার্যদিবসে শেয়ারটির দাম বেড়েছে ১৪ দশমিক ২০ টাকা। এভাবে অস্বাভাবিক দাম বাড়ার পেছনে কোনো কারসাজি রয়েছে কি না, তা নিয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থার সন্দেহ তৈরি হয়েছে।
এ বিষয় জানতে চাইলে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আবুল কালাম জানিয়েছেন, সানলাইফ ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারের দাম বৃদ্ধি পাওয়া এবং লেনদেনে অস্বাভাবিকতা লক্ষ করে কমিশন। বিষয়টি স্বাভাবিক বলে মনে হচ্ছে না। তাই এর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে ডিএসইকে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম ও লেনদেন বৃদ্ধির কারণ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তে কোনো অসঙ্গতি পাওয়া গেলে নেওয়া হবে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা।
বিএসইসির নির্দেশনায় তদন্তের বেশ কয়েকটি দিক উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে: সানলাইফ ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার নিয়ে সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কোনো সমন্বিত কারসাজিমূলক লেনদেন হয়েছে কি না, অপ্রকাশিত মূল্য সংবেদনশীল তথ্য ব্যবহার করে ইনসাইডার ট্রেডিং হয়েছে কি না এবং স্টক ব্রোকার,
ডিলার ও তাদের প্রতিনিধিরা মার্জিন রুলস ও কমিশনের নির্দেশনা যথাযথভাবে মেনেছেন কি না। পাশাপাশি সন্দেহজনক লেনদেন প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট মধ্যস্থতাকারীদের কোনো ব্যর্থতা বা দায় রয়েছে কি না এবং সিকিউরিটিজ আইনের অন্য কোনো লঙ্ঘন হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।
এছাড়া সংশ্লিষ্ট ব্রোকারেজ হাউসগুলোর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও), কমপ্লায়েন্স কর্মকর্তা ও অনুমোদিত প্রতিনিধিদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতেও দেওয়া হয়েছে নির্দেশনা। বিএসইসির মতে, এ ধরনের সন্দেহজনক লেনদেন সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (স্টক-ডিলার, স্টক-ব্রোকার ও অনুমোদিত প্রতিনিধি) বিধিমালার সম্ভাব্য লঙ্ঘন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, মূল্য সংবেদনশীল তথ্য ছাড়া সানলাইফ ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারের দাম বৃদ্ধি অস্বাভাবিক। এতে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। তাই শেয়ারবাজারে স্বচ্ছতা ও আস্থা ধরে রাখতে বিএসইসি নির্দেশিত এই তদন্ত দ্রুত সম্পন্ন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয় ২০১৩ সালে। ‘বি’ ক্যাটাগরির এ কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন ৩৫ কোটি ৭৬ লাখ ১০ হাজার টাকা। সে হিসাবে কোম্পানির মোট শেয়ার সংখ্যা ৩ কোটি ৫৭ লাখ ৬০ হাজার ৬৯০টি। সর্বশেষ ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সময়ে কোম্পানির উদ্যোক্তাদের হাতে ৩৫ দশমিক ৬৬, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে ১১ দশমিক ৮৩ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে ৫২ দশমিক ৫১ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।



