শর্ত পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় ৬ মার্চেন্ট ব্যাংকের সনদ বাতিল
সাখাওয়াত হোসেন, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: নির্ধারিত নিট মূলধনের শর্ত পূরণে দীর্ঘদিন ব্যর্থ হওয়া এবং আর্থিক সক্ষমতার ঘাটতির কারণে দেশের ছয়টি মার্চেন্ট ব্যাংকের নিবন্ধন সনদ (রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট) বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। একই সঙ্গে আরও কয়েকটি মার্চেন্ট ব্যাংকের নিট মূলধন ঘাটতির কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত এবং ব্যাখ্যা তলবের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যেসব মার্চেন্ট ব্যাংকের নিবন্ধন সনদ বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে, সেগুলো হলো: ফাস ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড; ইম্পেরিয়াল ক্যাপিটাল লিমিটেড; এনডিবি ক্যাপিটাল লিমিটেড; রিভারস্টোন ক্যাপিটাল লিমিটেড; হাল ক্যাপিটাল লিমিটেড এবং রুটস ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড।
দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বিধিবিধান পরিপালনে ব্যর্থতা এবং অকার্যকর অবস্থায় পড়ে থাকাসহ নানা অভিযোগ রয়েছে প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে। এর আগে ওই ছয় প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন সনদ বাতিলের প্রাথমিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বিশেষ তদন্ত করে কমিশন। তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশের ভিত্তিতে এমন কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।
এদিকে নিট মূলধন ঘাটতির কারণ অনুসন্ধানে ইউনিক্যাপ ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড ও জিএসপি ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের বিরুদ্ধে পৃথক তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি একই বিষয়ে ব্র্যাক ইপিএল ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেডের ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে।
মার্চেন্ট ব্যাংকের আর্থিক সক্ষমতা নিশ্চিত করতে প্রচলিত বিধিমালায় নিট মূলধনসংক্রান্ত ন্যূনতম শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (মার্চেন্ট ব্যাংকার ও পোর্টফোলিও ম্যানেজার) বিধিমালা, ১৯৯৬ অনুযায়ী, কোনো মার্চেন্ট ব্যাংকের নিবন্ধনের জন্য তার নিট মূলধন পরিশোধিত মূলধনের কমপক্ষে ৫০ শতাংশ হতে হবে। নিট মূলধন নির্ধারিত সীমার নিচে নেমে গেলে প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এমন পরিস্থিতিতে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম পর্যালোচনা, ব্যাখ্যা চাওয়া বা প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা নিতে পারে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আবুল কালাম বলেছেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্ধারিত আর্থিক সক্ষমতার শর্ত প্রতিটি মার্চেন্ট ব্যাংকের জন্য বাধ্যতামূলক। যেসব প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে নির্ধারিত নিট মূলধন বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কমিশন প্রচলিত আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী ব্যবস্থা নিচ্ছে। একই সঙ্গে দুটি মার্চেন্ট ব্যাংকের নিট মূলধন ঘাটতির প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তে কোনো অনিয়ম, গাফিলতি বা বিধি লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে ব্র্যাক ইপিএল ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেডের নিট মূলধন ঘাটতির বিষয়ে ব্যাখ্যা তলব করে তা আবার কমিশন সভায় উপস্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়। এ ছাড়া ইউনিক্যাপ ইনভেস্টমেন্টসের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কার্যপরিধি নির্ধারণ করে তদন্ত পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন। একই সঙ্গে চলমান তদন্তের বাইরে নতুন কার্যপরিধি নির্ধারণ করে জিএসপি ইনভেস্টমেন্টের বিরুদ্ধেও পৃথক তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। এ-সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বিষয়গুলো মার্কেট ইন্টেলিজেনস ও ইনভেস্টিগেশন ডিভিশনে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
এ ছাড়া অন্য এক সভায় ব্র্যাক ইপিএল ইনভেস্টমেন্টসের ব্যাখ্যা পর্যালোচনা করে তাদের নিট মূলধন বৃদ্ধির অগ্রগতি নথিভুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়। একই সভায় ইউনিক্যাপ ইনভেস্টমেন্টসের ও জিএসপি ইনভেস্টমেন্টের বিষয়ে পৃথক কার্যপত্র উপস্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়। সর্বশেষ সভায় ইউনিক্যাপ ইনভেস্টমেন্টসের বিরুদ্ধে তদন্ত পরিচালনার জন্য প্রস্তাবিত কার্যপরিধি অনুমোদন করা হয়েছে। অনুমোদিত কার্যপরিধি অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটির নিট মূলধন ঘাটতির কারণ, আর্থিক অবস্থা, বিধিবিধান প্রতিপালন এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় খতিয়ে দেখবে বিএসইসির মার্কেট ইন্টেলিজেনস ও ইনভেস্টিগেশন ডিভিশন।
বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, নিট মূলধনের ন্যূনতম শর্ত পূরণে ব্যর্থ মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর বিরুদ্ধে কমিশনের এ পদক্ষেপ মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক সক্ষমতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে। একই সঙ্গে তদন্তে প্রতিষ্ঠানগুলোর নিট মূলধন ঘাটতির প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে। বর্তমানে দেশের বিএসইসির নিবন্ধন সনদপ্রাপ্ত মার্চেন্ট ব্যাংকের সংখ্যা ৬৬টি। তবে প্রসপেক্টাসে ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়ায়
সম্প্রতি সিএপিএম অ্যাডভাইজরির নিবন্ধন সনদ বাতিলের কার্যক্রম শুরু করেছে বিএসইসি। বর্তমানে দেশে বিএসইসির নিবন্ধনপ্রাপ্ত মার্চেন্ট ব্যাংকের সংখ্যা ৬৬টি। এর আগে প্রসপেক্টাসে ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়ার অভিযোগে সিএপিএম অ্যাডভাইজরির নিবন্ধন সনদ বাতিলের কার্যক্রমও শুরু করেছে কমিশন।



