তিন কোম্পানির শেয়ারের মূল্যবৃদ্ধি খতিয়ে দেখবে বিএসইসি
সাখাওয়াত হোসেন, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ভিন্ন ভিন্ন খাতের তিনটি কোম্পানির শেয়ারের অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধি ও সন্দেহজনক লেনদেন নিয়ে তদন্তে নেমেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। সাম্প্রতিক সময়ে কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দাম ও লেনদেনের পরিমাণ স্বাভাবিক বাজার আচরণের তুলনায় দ্রুত বাড়তে থাকায় বিষয়টি নিয়ন্ত্রক সংস্থার নজরে আসে। এর পরিপ্রেক্ষিতে কোম্পানিগুলোর শেয়ার লেনদেনে কোনো কারসাজি, কৃত্রিম চাহিদা সৃষ্টি, ইনসাইডার ট্রেডিং কিংবা সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে কি না, তা তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কোম্পানিগুলো হলো: অ্যাপেক্স উইভিং অ্যান্ড ফিনিশিং মিলস, জিল-বাংলা সুগার মিলস এবং মালেক স্পিনিং মিলস। গত বৃহস্পতিবার বিএসইসির সার্ভেইল্যান্স বিভাগ থেকে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) প্রধান নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তার কাছে পাঠানো পৃথক তিনটি চিঠিতে এ নির্দেশ দেওয়া হয়। চিঠিতে ডিএসইকে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে বিস্তারিত তদন্ত প্রতিবেদন কমিশনে জমা দিতে বলা হয়েছে।
বিএসইসি জানিয়েছে, তিনটি কোম্পানির শেয়ারে অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধি ও লেনদেনের ধরন পর্যবেক্ষণের পর বিস্তারিত তদন্তের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। তাই কমিশন ডিএসইকে নির্ধারিত কর্মপরিধি (টার্মস অব রেফারেন্স) অনুযায়ী তদন্ত পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছে। তদন্তে সংশ্লিষ্ট শেয়ারগুলোর লেনদেনে কোনো সমন্বিত বা কৃত্রিম কারসাজি হয়েছে কি না,
অপ্রকাশিত মূল্যসংবেদনশীল তথ্য (ইউপিএসআই) ব্যবহার করে ইনসাইডার ট্রেডিংয়ের ঘটনা ঘটেছে কি না এবং মার্জিন ঋণসংক্রান্ত বিধি, কমিশনের বিভিন্ন নির্দেশনা ও প্রজ্ঞাপন যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা হবে। একইসঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্টক ব্রোকার, স্টক ডিলার ও তাদের অনুমোদিত প্রতিনিধিদের ভূমিকা এবং সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘন বা অন্য কোনো অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে কি না তাও তদন্তের আওতায় থাকবে।
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, তদন্তের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্রোকারেজ হাউজগুলোর অনুমোদিত প্রতিনিধি (এআর), কমপ্লায়েন্স কর্মকর্তা এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের (সিইও) সন্দেহজনক লেনদেন বিষয়ে প্রয়োজনীয় সচেতনতা তৈরির উদ্যোগ নিতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম প্রতিরোধ করা যায়।
অ্যাপেক্স উইভিং ও জিল-বাংলা সুগার মিলসের ক্ষেত্রে তদন্তে বিশেষভাবে ইউসিবি স্টক ব্রোকারেজ এবং আইল্যান্ড সিকিউরিটিজের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে। এছাড়া মালেক স্পিনিং ও জিল-বাংলা সুগার মিলসের লেনদেন সংক্রান্ত তথ্য সরবরাহের জন্য চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জকে (সিএসই) প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।
বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আবুল কালাম বলেন, পুঁজিবাজারে কোনো কোম্পানির শেয়ারে অস্বাভাবিক দর বা লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেলে কমিশন নিয়মিত নজরদারির অংশ হিসেবে বিষয়টি পর্যালোচনা করে। প্রাথমিকভাবে সন্দেহজনক লেনদেনের ইঙ্গিত মিললে বিস্তারিত তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। তদন্তে কারসাজি বা আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



