বিশেষ প্রতিনিধি, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: পুঁজিবাজারে সদস্যভুক্ত ব্রোকারেজ হাউজ এনআরবিসি ব্যাংক সিকিউরিটিজ লিমিটেডের সার্বিক কার্যক্রম খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষায় এই পদক্ষেপ নিয়েছে কমিশন। পরিদর্শনের মাধ্যমে যাচাই করা হবে প্রতিষ্ঠানটির গ্রাহক হিসাব, শেয়ার সংরক্ষণ ও সমন্বয় এবং ব্যাক-অফিস সফটওয়্যারের কার্যকারিতাসহ বিভিন্ন বিষয়।

এ লক্ষ্যে তিন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে চার সদস্যের একটি পরিদর্শন দল গঠন করা হয়েছে। গঠিত কমিটিকে আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে পরিদর্শন কার্যক্রম সম্পন্ন করে বিএসইসির কাছে দাখিল করতে বলা হয়েছে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন। সম্প্রতি বিএসইসির মার্কেট অ্যান্ড ইন্টারমিডিয়ারিজ অ্যাফেয়ার্স ডিভিশন থেকে জারি করা হয়েছে এ-সংক্রান্ত একটি আদেশ নিশ্চিত করেছেন বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম।

পরিদর্শন দলের নেতৃত্ব দেবেন বিএসইসির অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ শামসুর রহমান। সদস্য হিসেবে রয়েছেন: বিএসইসির সহকারী পরিচালক অমিত কুমার সাহা, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ব্যবস্থাপক এস এম আরমান এবং সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেডের (সিডিবিএল) উপব্যবস্থাপক শরীফ আলী ইরতেজা।

আদেশে বলা হয়েছে, সাধারণ বিনিয়োগকারীদের বৃহত্তর স্বার্থে ডিএসইর ট্রেকধারী প্রতিষ্ঠান এনআরবিসি ব্যাংক সিকিউরিটিজের কার্যক্রম পরিদর্শন প্রয়োজন বলে কমিশন মনে করেছে। পরিদর্শনের আওতায় প্রতিষ্ঠানটির কনসোলিডেটেড কাস্টমার্স অ্যাকাউন্টের (সিসিএ) তথ্য, গ্রাহকদের শেয়ার এবং ডিলার অ্যাকাউন্টের শেয়ার সমন্বয়, ব্যাক-অফিস সফটওয়্যার বাস্তবায়নের অবস্থা,

কোম্পানির প্রকৃত নেটওয়ার্ক বা সম্পদ ও দায়ের পার্থক্য এবং বিএসইসি-আরবিসিএ প্ল্যাটফর্মে নিয়মিত প্রতিবেদন দাখিল করা হচ্ছে কি না, তা যাচাই করা হবে। পরিদর্শন দলকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দুটি হার্ডকপি ও একটি সফট কপিসহ প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তদন্ত দলকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করার জন্য।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সম্প্রতি ব্রোকারেজ হাউজগুলোর গ্রাহক হিসাব ব্যবস্থাপনা, মার্জিন ঋণ, সিসিএ পরিচালনা এবং আর্থিক সক্ষমতা নিয়ে বিএসইসি তদারকি জোরদার করেছে। এ পরিদর্শনের মাধ্যমে শুধু নির্দিষ্ট অভিযোগ নয়; বরং প্রতিষ্ঠানটির সার্বিক কার্যক্রম, গ্রাহকের সম্পদের নিরাপত্তা ও আর্থিক সক্ষমতা নিবিড়ভাবে যাচাই করবে বিএসইসি। পরিদর্শনে কোনো অনিয়ম বা বিধি লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেলে নেওয়া হতে পারে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা।

এর আগে এনআরবিসি ব্যাংক সিকিউরিটিজের বিরুদ্ধে সাবেক এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক মো. আসলাম সেরনিয়াবাতের অনুমতি ছাড়া শেয়ার বিক্রি, বেআইনিভাবে ফোর্সড সেল এবং মার্জিন ঋণ বিধিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠে। গত ১১ ও ১৪ জুন তার কোনো লিখিত বা মৌখিক অনুমতি ছাড়াই বেক্সিমকো ফার্মার ৬ লাখ ৯৭ হাজার ৩৭৮টি শেয়ার বিক্রি করা হয়, যার বাজারমূল্য প্রায় ৯ কোটি টাকা। তিনি দাবি করেন, ২০২৫ সালের ৩০ জানুয়ারির মধ্যে মার্জিন ঋণের অনুপাত ১:১-এ নামানোর নির্দেশনা তিনি পূরণ করেছিলেন এবং ৩০ জুন পর্যন্ত কোনো মার্জিন কল পাননি।

তাই পূর্বানুমতি ছাড়া শেয়ার বিক্রি বিএসইসির মার্জিন বিধিমালা, ২০২৫-এর বিধি ৯(২) ও ৯(৪)-এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এ ছাড়া ৩০ জুন নতুন করে মার্জিন কল জারি করে ৫ জুলাইয়ের মধ্যে অর্থ জমা দিতে বলা হলেও একই দিনে আরও প্রায় ৬০ লাখ টাকার শেয়ার বিক্রি করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। এই অভিযোগটি ডিএসইকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।