ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফান্ড পরিচালনায় গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ
দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফান্ড পরিচালনায় একাধিক গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে অল্টারনেটিভ ইনভেস্টমেন্ট ম্যানেজার এক্স অ্যাঞ্জেলএক্স অ্যাঞ্জেল লিমিটেডের বিরুদ্ধে। এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) বিধান মেনে চলার সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা রয়েছে; কিন্তু ফান্ড ম্যানেজার তা যথাযথভাবে পরিপালন করেননি।
তাই প্রতিষ্ঠানটির কাছে এ বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা তলব করেছে কমিশন। একই সঙ্গে ফান্ডের বিনিয়োগের প্রকৃত মূল্য নির্ধারণে একজন স্বাধীন মূল্য নির্ধারক বা ইন্ডিপেনডেন্ট ভ্যালুয়ার দিয়ে প্রস্তুত করা মূল্যায়ন প্রতিবেদন কমিশনে জমা দিতে ফান্ড ম্যানেজারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি বিএসইসির অল্টারনেটিভ ইনভেস্টমেন্ট বিভাগ থেকে এক্স অ্যাঞ্জেল লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে (সিইও) পাঠানো এক চিঠিতে দেওয়া হয় এ নির্দেশনা।
বিএসইসি সূত্রে জানা যায়, ‘এক্স অ্যাঞ্জেল ভিশনভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফান্ড’ এর চূড়ান্ত ফান্ডের আকার (ফাইনাল ফান্ড সাইজ) ঘোষণার পর কমিশনের নিজস্ব পর্যালোচনায় অল্টারনেটিভ ইনভেস্টমেন্ট বিধিমালা, ২০১৫-এর একাধিক বিধি লঙ্ঘনের তথ্য উঠে আসে। বিএসইসির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বিধিমালার ৮(৫)(গ) ধারা অনুযায়ী ফান্ড ম্যানেজার ও তার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সম্মিলিতভাবে কোনো ফান্ডের ৩০ শতাংশের বেশি ইউনিট ধারণ করতে পারেন না। কিন্তু এক্স অ্যাঞ্জেল প্রাইভেট ইক্যুইটি ফান্ডের ক্ষেত্রে ফান্ড ম্যানেজার ও তার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ১০০ শতাংশ ইউনিট ধারণ করেছেন, যা বিধিমালার লঙ্ঘন।
এ ছাড়া বিধিমালার ১০(৪) ধারা অনুযায়ী, বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে প্রতিশ্রুত অর্থের অন্তত ৫ শতাংশ ফান্ড গঠনের সময় সংগ্রহ করতে হয়; কিন্তু ৪৪ কোটি টাকার কমিটেড ক্যাপিটালের বিপরীতে সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে কোনো অর্থই সংগ্রহ করা হয়নি বলে অভিযোগ করেছে কমিশন।
চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বিধিমালার ১৮(৩)(ক) অনুযায়ী কোনো অল্টারনেটিভ ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডের মোট তহবিলের অন্তত ৭৫ শতাংশ তালিকাভুক্ত নয়, এমন পোর্টফোলিও কোম্পানির সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ করতে হয়। কিন্তু এক্স অ্যাঞ্জেল প্রাইভেট ইক্যুইটি ফান্ড ট্রাইপেগেট লিমিটেডে মাত্র ৯৮ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছে, যা নির্ধারিত ন্যূনতম বিনিয়োগের শর্ত পূরণ করে না।
পাশাপাশি বিধিমালার ৮(৫)(ক) অনুযায়ী একটি অল্টারনেটিভ ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডের ন্যূনতম আকার ১০ কোটি টাকা হতে হবে; কিন্তু এক্স অ্যাঞ্জেল প্রাইভেট ইক্যুইটি ফান্ডের চূড়ান্ত ফান্ড সাইজ ঘোষণায় এ শর্তও পূরণ করা হয়নি বলে রয়েছে অভিযোগ।
একই সঙ্গে বিধিমালাটির ১৮(৩)(গ) অনুযায়ী কোনো অল্টারনেটিভ ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড তার মোট করপাস বা তহবিল আকারের ২৫ শতাংশের বেশি একটি মাত্র তালিকাবহির্ভূত প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করতে পারে না। অথচ এক্স অ্যাঞ্জেল ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এমএস টেক পেট লিমিটেডে ৪ কোটি ৪০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে, যার ন্যায্যমূল্য ২০২৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বেড়ে ৬ কোটি ৬৪ লাখ ১৪ হাজার ৬৭২ টাকায় পৌঁছায়।
কমিশনের মতে, এতে অতিক্রম হয়েছে একক কোম্পানিতে বিনিয়োগের সর্বোচ্চ সীমা। ফলে ঘোষিত চূড়ান্ত ফান্ডের আকার বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (অল্টারনেটিভ ইনভেস্টমেন্ট) বিধিমালা, ২০১৫-এর তিনটি উপবিধি অনুযায়ী পরিপালনযোগ্য নয়। এ ছাড়া বিধিমালার ৬(২১) ও ৬(২৩) অনুযায়ী একজন স্বাধীন মূল্য নির্ধারক দিয়ে বিনিয়োগের মূল্যায়ন প্রতিবেদন প্রস্তুত করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও সেটিও দাখিল করা হয়নি।
এর আগে গত ২৪ জুন বিএসইসি ‘এক্স অ্যাঞ্জেল প্রাইভেট ইক্যুইটি ফান্ড’ নিয়েও পৃথক একটি ব্যাখ্যা তলবের চিঠি দেয়। ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফান্ড পরিচালনা করতে চাইলে তহবিল ব্যবস্থাপকদের নিয়ন্ত্রক সংস্থা থেকে নিবন্ধন নিতে হয়। ফান্ডগুলো কীভাবে মূলধন সংগ্রহ করবে এবং কীভাবে তা স্টার্টআপে বিনিয়োগ করবে, তার রূপরেখা ও বিধিমালা নির্ধারণ করে বিএসইসি। তাই নিয়ম মানা জরুরি।



