দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, পুঁজিবাজারে সংস্কারের ফলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ছে। কারণ জেপি মরগ্যান ও গোল্ডম্যান স্যাকসের মতো বিদেশি কয়েকটি বড় তহবিল ব্যবস্থাপক ও বিনিয়োগ ব্যাংক বাংলাদেশে আগ্রহ দেখাচ্ছে। এজন্য বাজারে নতুন কোম্পানি তালিকাভুক্ত করার কথা বলেন তিনি।

আমির খসরু বলেন, শিল্পের অর্থায়ন শুধু বাণিজ্যিক ব্যাংকের ওপর নির্ভরশীল থাকা ঠিক নয়। ব্যাংকের স্বল্পমেয়াদি আমানত দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ দেওয়া হলে আর্থিক খাতে চাপ তৈরি হয়। তাই পুঁজিবাজার, বন্ডসহ বিকল্প অর্থায়নের পথ বাড়াতে হবে। ফলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে শুধু নীতি সংস্কার করলেই হবে না, এর কার্যকর বাস্তবায়নও নিশ্চিত করতে হবে।

দেশের আর্থিক খাতে ব্যাংক পুনর্গঠন বা ‘ব্যাংক রেজল্যুশন’ এখন বড় চ্যালেঞ্জ। তবে সরকারের কাজ এখনো শেষ হয়নি। অর্থনীতিতে অনেক সমস্যা রয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানে সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ।

আজ রোববার রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে অ্যামচ্যাম আয়োজিত মধ্যাহ্নভোজ ও ‘বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধি: নীতি সংস্কার থেকে কার্যকর বাস্তবায়ন’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।

ব্যাংক খাতের সংকট বড় চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, অনেক ব্যাংক মূলধন ঘাটতি, খেলাপি ঋণ ও তারল্যসংকটে রয়েছে। কিছু ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি গুরুতর পর্যায়ে রয়েছে। এসব ব্যাংকের আমানতকারীরা টাকা তুলতে পারছেন না। আবার অনেক ব্যবসায়ী সংশ্লিষ্ট ব্যাংক থেকে কার্যকরী মূলধন, ঋণপত্র (এলসি) ও অন্যান্য অর্থায়ন না পাওয়ায় সংকটে পড়েছেন।

ব্যাংকগুলোকে পুনঃমূলধনীকরণে সরকার এককভাবে পুরো অর্থের জোগান দিতে পারবে না বলেও জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকারি সহায়তার পাশাপাশি বিদেশি তহবিল ব্যবস্থাপকসহ অন্যান্য উৎস থেকে মূলধন আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এজন্য আর্থিক ব্যবস্থাপনায় নতুন কাঠামো গড়ে তোলার কাজ চলছে।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের মতো দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির জন্য বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকসহ বিভিন্ন উৎস থেকে বিকল্প অর্থায়ন নিশ্চিত করতে হবে। ব্যাংকনির্ভর অর্থায়ন থেকে বেরিয়ে বিভিন্ন আর্থিক পণ্যের সমন্বিত ব্যবহার বাড়াতে হবে।

রপ্তানি বাড়াতে বন্ডেড ওয়্যারহাউস ও করমুক্ত সুবিধা আরও উন্মুক্ত করা হয়েছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, রপ্তানি পণ্য উৎপাদনে আগ্রহী ব্যবসায়ীদের জন্য এসব সুবিধা উন্মুক্ত করা হয়েছে। প্রয়োজনে বন্ডেড ওয়্যারহাউসের পরিবর্তে ব্যাংক গ্যারান্টির মাধ্যমেও সুবিধা নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। স্বর্ণ ও রুপার গয়না এবং হীরা কাটার মতো ব্যবসাকেও এ ব্যবস্থার আওতায় আনার কথা জানান তিনি।

বন্দর ও কাস্টমসের কার্যক্রমের সমন্বয়েও সরকার কাজ করছে জানিয়ে আমির খসরু বলেন, ব্যবসার খরচ কমাতে বন্দরের দক্ষতা বাড়ানো জরুরি। এজন্য সম্প্রতি বন্দর ও কাস্টমসকে নিয়ে যৌথ বৈঠক হয়েছে। এখন থেকে বৈঠকে নেওয়া সিদ্ধান্ত নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বাস্তবায়নের ব্যবস্থা করা হবে। চুরি বা পণ্য পাচারের আশঙ্কায় সংস্কার থামিয়ে রাখা যাবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।