শহীদুল ইসলাম, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও সরকারের ধারাবাহিক নানা উদ্যোগের পরও বাজারে প্রত্যাশিত গতি দেখা যাচ্ছে না। মূল্যসূচকের অস্থিরতা ও কমে আসা লেনদেন এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থার ঘাটতির কারণে বাজারে ইতিবাচক ধারা তৈরি হচ্ছে না। ফলে এরই মধ্যে পুঁজিবাজারে মার্জিন ঋণ নীতিমালার সংস্কার ও খসড়া শর্ত নিয়ে চলা দীর্ঘ ধোঁয়াশা ও দোদুল্যমানতার কারণে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে, যা বাজারকে আরও অস্থির করে তুলেছে।

পিই রেশিওর ব্যবহার বাদ দেওয়া বা রাখা নিয়ে নতুন সংশোধনী ও নীতিমালার বাস্তবায়ন নিয়ে স্পষ্ট বার্তার অভাবে বাজারের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা। যার ফলশ্রুতিতে গত তিন কার্যদিবসে ডিএসইতে টানা সূচকের দরপতনে ৪২ পয়েন্ট সূচকের দরপতন হয়েছে।

এদিকে সংশোধিত বিধিমালায় জীবন বিমা খাত ছাড়া অন্যান্য খাতের শেয়ারে মার্জিন ঋণের যোগ্যতা নির্ধারণে সর্বোচ্চ পিই রেশিও ৪০ করা হয়েছে। একইসঙ্গে কোনো বিনিয়োগকারীর পোর্টফোলিওর ইকুইটি ২৫ শতাংশের নিচে নেমে গেলে আগাম নোটিশ ছাড়াই শেয়ার বিক্রির সুযোগ রাখা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার মার্জিন ঋণ বিধিমালার সংশোধিত চূড়ান্ত খসড়া অনুমোদন করে গেজেট প্রকাশের জন্য বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয়ে (বিজি প্রেস) পাঠিয়েছে বিএসইসি। শিগগিরই এই সক্রান্ত বিধিমালার গেজেট প্রকাশ করা হবে। এ বিষয়টি একাধিক গণমাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন কমিশনের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম।

ফলে সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের বড় পতনে লেনদেন শেষ হয়েছে। এদিন কমেছে বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দর। তবে বেড়েছে টাকার পরিমানে লেনদেন। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

বাজার বিশ্লেষকরা বলেন, নানা কারণে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা নেই। দীর্ঘদিন ধরে পুঁজিবাজারে ভালো কোনো কোম্পানি আসেনি। ভালো শেয়ারের জোগান না থাকায় বিনিয়োগকারীরা মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। এরই মধ্যে নতুন করে মার্জিন ঋণের নীতিমালা ধোঁয়াশায় নতুন করে আতঙ্কে রয়েছেন বিনিয়োগকারীরা।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সাবেক সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আহমেদ রশিদ লালী বলেন, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের কিছুটা আস্থার সংকট রয়েছে। মার্জিন ঋণের নীতিমালা চূড়ান্ত হতে যাচ্ছে। এ বিষয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছু কিছু বিষয়ে কনফিউশন রয়েছে। তবে মার্জিন ঋণের যে নীতিমালা চূড়ান্ত হচ্ছে তা বাজারের জন্য ইতিবাচক হবে বলে আমার বিশ্বাস। আশা করি দ্রুত বাজার ঘুরে দাঁড়াবো।

জানা গেছে, দিনশেষে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ২৩ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৫ হাজার ৮৫৯ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৫ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১ হাজার ১৭১ পয়েন্টে এবং ডিএসই ৩০ সূচক ৮ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ২ হাজার ১৮৪ পয়েন্টে।

দিনভর লেনদেন হওয়া ৩৯০ কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১০২ টির, দর কমেছে ২৪৭ টির এবং দর অপরিবর্তিত রয়েছে ৪১ টির। ডিএসইতে ১ হাজার ১৩০ কোটি ৭৬ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। যা আগের কার্যদিবস থেকে ২০ কোটি ৫১ লাখ টাকা বেশি। এর আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৯২৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকার।

অপরদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৬৮ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৭৩৫ পয়েন্টে। সিএসইতে ২১৯ টি কোম্পানি লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এসব কোম্পানির মধ্যে ৭৪ টির দর বেড়েছে, কমেছে ১১২ টির এবং ৩৩ টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইতে ৭৫ কোটি ১৫ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।