দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে কারসাজি ও গুরুতর অনিয়মের ঘটনায় শুধু জরিমানা নয়, প্রয়োজনে ফৌজদারি মামলা করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খান। একই সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ ব্রোকারেজ হাউজ চিহ্নিত করে আগাম নজরদারি এবং বাজারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ভিত্তিক সার্ভিল্যান্স চালুর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন তিনি।

দৈনিক আগামীর সময়ে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, দীর্ঘদিনের অনিয়ম, কারসাজি ও দুর্বল নজরদারির কারণে পুঁজিবাজারে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। শুধু সূচক বাড়িয়ে এ আস্থা ফেরানো সম্ভব নয়। নিয়ম সবার জন্য সমানভাবে প্রয়োগ, বিনিয়োগকারীর অর্থের নিরাপত্তা এবং অনিয়মের ঘটনায় কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

মাসুদ খান বলেন, সাধারণ অনিয়মে প্রয়োজন অনুযায়ী জরিমানা করা হবে। তবে গুরুতর বা উচ্চপ্রোফাইলের ঘটনায় শুধু অর্থদণ্ডে সীমাবদ্ধ না থেকে প্রয়োজনে ফৌজদারি মামলা করা হবে। গুরুতর অনিয়ম করে শুধু জরিমানা দিয়ে পার পাওয়ার সুযোগ থাকবে না।

গ্রাহকের অর্থ আত্মসাতের মতো ঘটনা ঠেকাতে ঝুঁকিপূর্ণ ব্রোকারেজ হাউজ চিহ্নিত করে নিয়মিত নজরদারির কাঠামো তৈরির জন্য ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে (ডিএসই) নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। তাঁর মতে, ঘটনা ঘটার পর তদন্তের চেয়ে ঝুঁকি আগেই শনাক্ত করে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া বেশি জরুরি।

বিএসইসি চেয়ারম্যান জানান, বাজারে কারসাজি শনাক্ত করতে ডিএসইর স্বয়ংক্রিয় সার্ভিল্যান্স ব্যবস্থা প্রথমে আধুনিকায়ন করা হবে। এরপর এতে এআই প্রযুক্তি যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। অস্বাভাবিক দর পরিবর্তন ও একই ধরনের অ্যাকাউন্টের সন্দেহজনক লেনদেন দ্রুত শনাক্ত করতে এ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থা চালু করতে প্রায় এক বছর সময় লাগতে পারে।

এদিকে ভালো ও বড় কোম্পানিকে পুঁজিবাজারে আনতে সরাসরি তালিকাভুক্তি বা ডাইরেক্ট লিস্টিংয়ের ওপর জোর দিচ্ছে বিএসইসি। মাসুদ খান বলেন, গত বছরের আইপিও বিধিমালায় কিছু সমস্যা থাকায় বিকল্প পথ হিসেবে ডাইরেক্ট লিস্টিংকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে বিধিমালার খসড়াও প্রস্তুত করা হয়েছে। অনুমোদনের পর সম্ভাবনাময় কোম্পানিগুলোকে সরাসরি তালিকাভুক্তির আহ্বান জানানো হবে।

বন্ড মার্কেট শক্তিশালী করতেও তালিকাভুক্তির খরচ কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ডিএসইর সঙ্গে আলোচনায় মূল বোর্ডে বন্ড তালিকাভুক্তির কনসেন্ট ফি ও সংশ্লিষ্ট খরচ কমানোর বিষয়ে সম্মতি পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি। শিগগির কয়েকটি বড় বন্ড মূল বোর্ডে লেনদেন শুরু করতে পারে বলেও আশা প্রকাশ করেন বিএসইসি চেয়ারম্যান।

দায়িত্ব নেওয়ার পর ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহার, মার্জিন বিধিমালা পরিবর্তন, ডাইরেক্ট লিস্টিং, বন্ড মার্কেট, মিউচুয়াল ফান্ড ও সিকিউরিটিজ আইন সংস্কারের কাজ এগিয়েছে বলে জানান মাসুদ খান। তাঁর মতে, এসব উদ্যোগের ফল একসঙ্গে দেখা যাবে না; লক্ষ্য দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত পরিবর্তন।

ভবিষ্যতে বিনিয়োগকারীর অর্থ নিরাপদ, বাজার স্বচ্ছ ও নিয়মভিত্তিক একটি পুঁজিবাজার রেখে যেতে চান বলেও জানান বিএসইসি চেয়ারম্যান। পাশাপাশি শক্তিশালী বন্ড ও কমোডিটি মার্কেট গড়ে তোলা এবং ব্রোকারদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং কারসাজির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়াকে তাঁর অগ্রাধিকারের মধ্যে রেখেছেন।