দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: পুঁজিবাজারে অনিয়ম প্রতিরোধ ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষায় ব্রোকারেজ হাউজগুলোর কার্যক্রমে ঝুঁকির ইঙ্গিত পেলেই প্রয়োজনে সরাসরি স্পট ইন্সপেকশন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। তবে এ কার্যক্রমে থাকবে না কোনো আগাম নোটিস। কোনো খবর না দিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোয় হঠাৎ হাজির হবে যৌথ পরিদর্শন দল। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রকৃত আর্থিক ও পরিচালন পরিস্থিতি সরাসরি যাচাই করতে একটি স্থায়ী যৌথ প্যানেল গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।

পুঁজিবাজারের মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোয় গ্রাহকের অর্থের ঘাটতি, সিকিউরিটিজের হিসাবে গরমিল কিংবা আর্থিক ও প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম বন্ধ করতে স্পট ইন্সপেকশনের নতুন কাঠামো তৈরি করা হয়েছে। বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষার্থেই বিএসইসির মার্কেট অ্যান্ড ইন্টারমিডিয়ারিজ অ্যাফেয়ার্স ডিভিশনের (এমআইএডি) প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে নেওয়া হয়েছে এ সিদ্ধান্ত।

কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, স্পট ইন্সপেকশন পরিচালনার জন্য আট সদস্যের একটি প্যানেল গঠন করা হবে। এই প্যানেলে বিএসইসি, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই), চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) এবং সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল) থেকে দুজন করে প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত থাকবেন।

প্যানেল থেকেই ঝুঁকির ভিত্তিতে তিন সদস্যের পরিদর্শন দল গঠন করা হবে, যারা সরাসরি ব্রোকারেজ হাউজগুলোয় স্পট ইন্সপেকশন পরিচালনা করবেন। দল গঠন ও আদেশ জারির দায়িত্ব থাকবে বিএসইসির মার্কেট অ্যান্ড ইন্টারমিডিয়ারিজ অ্যাফেয়ার্স ডিভিশনের কমিশনারের ওপর। বর্তমানে এ দায়িত্বে রয়েছেন বিএসইসির কমিশনার মো. নাফিজ আল তারিক। ফলে যেসব হাউজে নিয়মিত পরিদর্শনের পরিবর্তে ঝুঁকি বেশি, সেখানেই নেওয়া হচ্ছে দ্রুত নজরদারি পরিচালনার ব্যবস্থা।

বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে, নিয়মিত পরিদর্শনের অন্যতম দুর্বলতা হলো অনেক ক্ষেত্রে ব্রোকারেজ হাউজগুলো আগে থেকেই পরিদর্শনের সময়সূচি জানতে পারে। এতে সাময়িকভাবে হিসাবের ঘাটতি পূরণ, প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত, কিংবা অন্যান্য ত্রুটি আড়াল করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

বিশেষ করে, কোনো প্রতিষ্ঠানের কাস্টমার কনসলিডেটেড অ্যাকাউন্টে (সিসিএ) ঘাটতি, সিকিউরিটিজের মিসম্যাচ বা মূলধন-সংক্রান্ত সমস্যা থাকলে আগাম প্রস্তুতির মাধ্যমে প্রকৃত চিত্র বদলে ফেলার ঝুঁকি থাকে। নতুন ব্যবস্থায় তাই সুনির্দিষ্ট ঝুঁকি শনাক্ত হলেই দ্রুত স্পট ইন্সপেকশন করা হবে। ফলে পরিদর্শনের আগে প্রতিষ্ঠানকে প্রস্তুতির সুযোগ না দিয়ে যাচাই করা সম্ভব হবে তার প্রকৃত অবস্থা।

স্পট ইন্সপেকশনের জন্য নির্ধারিত কার্যপরিধি বা টিওআরে পাঁচটি বিষয় অগ্রাধিকার পাবে। প্রথমত, বিনিয়োগকারীদের সমন্বিত হিসাবে বা সিসিএতে অর্থের ঘাটতি রয়েছে কি না। দ্বিতীয়ত, সংরক্ষিত নথি ও বাস্তব হিসাব মিলিয়ে সিকিউরিটিজে কোনো অমিল বা ঘাটতি যাচাই করা হবে।

তৃতীয়ত, প্রতিষ্ঠানের নেটওয়ার্ক ও প্রযুক্তিগত ব্যবস্থার নিরাপত্তা অবস্থা পরীক্ষা করার নির্দেশ। চতুর্থত, প্রতিষ্ঠানটি ঝুঁকিভিত্তিক মূলধন পর্যাপ্ততা বা আরবিসিএ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন নিয়মিত দাখিল করছে কি না  তা দেখা হবে।

পরিশেষে, নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশনানুযায়ী পরিবর্তন অযোগ্য ব্যাক অফিস সফটওয়্যার ব্যবহার করছে কি না এবং এর মাধ্যমে লেনদেনের তথ্য পরিবর্তনের সুযোগ রয়েছে কি না, এর বিশ্লেষণ করা হবে।

এ বিষয় জানতে চাইলে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম বলেছেন, প্রয়োজন হলে স্পট ইন্সপেকশন করা হবে। যদিও এটা নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ নয়। এতে আতঙ্কের কিছু নেই। বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষা এবং বাজারে শৃঙ্খলা বজায় রাখাই নিয়ন্ত্রক সংস্থার মূল লক্ষ্য। সে লক্ষ্যেই ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি আরও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ফলে ব্রোকারেজ হাউজগুলোর প্রকৃত পরিস্থিতি আগাম প্রস্তুতির সুযোগ ছাড়াই যাচাই-বাছাই করা সম্ভব হবে।