তৌফিক ইসলাম, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: ডিবিএর সাবেক সভাপতি আহমেদ রশীদ লালী বলেন, পুঁজিবাজারে ৬ হাজার সূচক এখন একটি মনস্তাত্ত্বিক বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সূচকটি ৬ হাজারের কাছাকাছি গেলেই বিভিন্ন জায়গা থেকে ছোট ছোট ‘ট্রিমার’ ও ‘আর্থকোয়েক’ আসে। ফলে ৫ হাজার ৮০০ থেকে ৫ হাজার ৮৫০-এর ঘরে গেলেই বাজার ধপ করে পড়ে যায়। আজ সোমবার বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ) আয়োজিত এক উন্মুক্ত আলোচনায় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, ৬ হাজারের যে সাইকোলজিক্যাল ব্যারিয়ার, মার্কেট এটা ক্রসই করতে পারে না। বিভিন্ন জায়গা থেকে ছোট ছোট ট্রিমার, ছোট ছোট আর্থকোয়েক আসে। এছাড়া বাজারে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে অযথা হস্তক্ষেপ না করার আহ্বান জানিয়ে লালী বলেন, কোনো বিনিয়োগকারী ১ হাজার কোটি টাকার শেয়ার কিনলে সমস্যা কোথায়, সেটি আগে দেখতে হবে। তিনি প্রশ্ন রাখেন, একজন বিনিয়োগকারী ১০ লাখ টাকার শেয়ার কিনলেই কেন ব্রোকারেজ হাউসে ফোন করে জানতে হবে, তিনি কেন এত শেয়ার কিনছেন?

বাজারকে বড় হতে দিতে হলে বিনিয়োগকারীদের বড় অঙ্কের বিনিয়োগের সুযোগ দিতে হবে। তবে অবৈধ বা কারসাজিমূলক লেনদেন হলে অবশ্যই ব্যবস্থা নিতে হবে। লালী বলেন, মার্কেট ৬ হাজার গেল, ১০ হাজার যাক। উই শুড হ্যাভ নো প্রবলেম উইথ দ্যাট, আনটিল দেয়ার ইজ এ ব্যাড প্লে।

এছাড়া পুঁজিবাজারের নজরদারি ব্যবস্থা আরও কার্যকর করার ওপর জোর দিয়ে লালী বলেন, ডিএসইতে কোনো সন্দেহজনক লেনদেন শনাক্ত হলে দীর্ঘ তদন্তের পরিবর্তে প্রথমেই সংশ্লিষ্ট ব্রোকারেজ হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করে ব্যাখ্যা নেওয়া যেতে পারে। আমি সারভিলেন্স সিস্টেমে বসে যখন দেখছি যে অমুক হাউসে এই ট্রেড হয়েছে, দিস ইজ আ ফল্টি ট্রেড আমি তাৎক্ষণিকভাবে কেন ওই হাউসে ফোন করে বলি না, ভাই,

আপনার হাউস থেকে এরকম একটা ট্রেড হয়েছে যেটা ফল্টি ট্রেড, আপনি ইমিডিয়েটলি দেখেন, ১৫ মিনিটের মধ্যে রিপোর্ট টু মি। এছাড়া পুঁজিবাজারে ভালো ও মানসম্পন্ন কোম্পানির সংকটের পাশাপাশি দুর্বল সারভিলেন্স ব্যবস্থার কারণে বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতা বাড়ছে বলে মনে করছেন তিনি।

ডিবিএ সভাপতি সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খান। অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ডিএসইর চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নুজহাত আনোয়ার, পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন ও রিচার্ড ডি রোজারিও, ডিবিএ’র সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. মনিরুজ্জামান, আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের সিইও মেসবাহ উদ্দিন প্রমুখ।