পুঁজিবাজারকে চাঙা ও গতিশীল করতে চেষ্টা করছে সরকার
ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ: পুঁজিবাজারের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে করণীয় বিষয়ে সম্প্রতি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) তালিকাভুক্ত ৩০ ব্রোকারেজ হাউসের সঙ্গে আলোচনা অনুষ্ঠানে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে দেশের পুঁজিবাজার চাঙা হয়ে উঠবে বলে আশা করছে ডিএসই কর্তৃপক্ষ।
দীর্ঘদিন ধরেই দেশের পুঁজিবাজারের অবস্থা ভালো যাচ্ছে না। তাই সরকার চেষ্টা করছে কীভাবে পুঁজিবাজারকে অধিকতর চাঙা ও গতিশীল করা যায়। আলোচনা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী ব্রোকারেজ হাউসের মালিকরা অভিযোগ করেন, অনেক দিন আগে সংঘটিত নানা অনিয়মের বিরুদ্ধে তদন্ত হচ্ছে। এ ধরনের তদন্তের কারণে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক বিরাজ করছে।
এ বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে ডিএসই কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বাজারে স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ এবং বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষার জন্যই তদন্ত কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। কাজেই এতে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। ব্রোকারেজ হাউসের মালিকরা তদন্ত কার্যক্রমের প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করে বলেন, তদন্ত এমনভাবে হওয়া উচিত যাতে তা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ভীতির সৃষ্টি না করে। বৈঠকে ডিএসইর পক্ষ থেকে জানানো হয়, স্থগিত বিও (বেনিফিশিয়ারি ওনার্স) হিসাবের ব্যাপারে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। ভালো কোম্পানির পুঁজিবাজারে তালিকভুক্তি, মিউচুয়াল ফান্ডে গতি ফেরানোসহ বিভিন্ন বিষয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে।
পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) জানিয়েছে, আগামী ডিসেম্বর থেকে ডে নেটিং সুবিধা চালু করা হবে। এ লক্ষ্যে ডিএসই কাজ করছে। উল্লেখ্য, গত জুলাইয়ে বিএসইসি ডে নেটিং সুবিধা চালুর বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেয়। এ সিদ্ধান্তের পর ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ডে নেটিং সুবিধা চালুর ব্যাপারে কাজ করছে। পুঁজিবাজারে ডে নেটিং সুবিধা বলতে এমন একটি ব্যবস্থাকে বোঝায়, যেখানে একজন বিনিয়োগকারী দিনে দিনে শেয়ার ক্রয়-বিক্রয়ের সুবিধা পাবেন।
অর্থাৎ তারা যেদিন শেয়ার ক্রয় করবেন, সেদিনই চাইলে তা বিক্রি করতে পারবেন। বর্তমান পদ্ধতিতে মূলধারার শেয়ার বিক্রির ক্ষেত্রে টি+২ পদ্ধতি চালু আছে। এর অর্থ হচ্ছে কোনো কোম্পানির শেয়ার হাতবদল হলে তা ক্রেতার অ্যাকাউন্টে জমা হয়ে লেনদেন শুরু হতে দুই দিন সময় লাগে। আর সাধারণ ঝুঁকিপূর্ণ শেয়ার হাতবদল হওয়ার পর লেনদেন শুরু হতে তিন কর্মদিবস অপেক্ষা করতে হয়।
ডে নেটিং পদ্ধতি পুরোপুরি চালু হলে একজন ক্রেতা যেদিন শেয়ার নেবেন, সেদিনই যতবার ইচ্ছা তা বিক্রি করতে পারবেন। আলোচনায় অংশগ্রহণকারী ব্রোকারেজ হাউসের মালিকদের পক্ষ থেকে শর্টসেল পদ্ধতি চালুর দাবি জানানো হয়। শর্টসেল এমন একটি ব্যবস্থা, যেখানে পড়তি বাজারে বিনিয়োগকারীরা লোকসানে থাকা তাদের শেয়ার কয়েক মাসের জন্য ধার নিতে পারে সংশ্লিষ্ট ব্রোকারেজ হাউসগুলো। নির্ধারিত সময় শেষে এ শেয়ার পুনরায় তার মালিককে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
যে কত মাসের জন্য ব্রোকারেজ হাউসগুলো শেয়ার ধার নেবে সেই সময়ের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্রোকারেজ হাউস শেয়ার মালিকদের নির্দিষ্ট হারে আর্থিক সুবিধা দিয়ে থাকে। এতে লোকসানের সময়ও বিনিয়োগকারীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন না। এতে শেয়ারবাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়ে।
অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া ডিবিএ সভাপতি বলেন, আমরা সভায় বিভিন্ন প্রস্তাব তুলে ধরেছি। আমরা নিজেরাও চাই শেয়ারবাজারে সংঘটিত বিভিন্ন অনিয়মের বিষয়ে তদন্ত হোক। কিন্তু সেই তদন্ত এমনভাবে হতে হবে, যাতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি না করে।
উল্লেখ্য, ১৯৫৪ সালের ২৮ এপ্রিল পূর্ব পাকিস্তান স্টক এক্সচেঞ্জ অ্যাসোসিয়েশন লিমিটেড চালু করা হয়। পরে ১৯৫৬ সালে এর নামকরণ করা পূর্ব পাকিস্তান স্টক এক্সচেঞ্জ। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭১ সাল থেকে ১৯৭৬ পর্যন্ত পুঁজিবাজারে লেনদেন বন্ধ ছিল। ১৯৭৬ সালে পুনরায় চালু হলে এর নামকরণ করা হয় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের বয়স ৫০ বছর। আর পূর্ব পাকিস্তানের উত্তরাধিকার বিবেচনায় নিলে এর বয়স ৭২ বছর। ৭২ বছর বা ৫০ বছর একটি প্রতিষ্ঠানের জন্য কম সময় নয়।
কিন্তু বাংলাদেশে পুঁজিবাজার এখনো সত্যিকার অর্থে পরিপূর্ণভাবে বিকশিত হতে পারেনি। নানা সমস্যা এ প্রতিষ্ঠানের অগ্রযাত্রাকে বারবার বাধাগ্রস্ত করেছে। পুঁজিবাজার এখনো বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জন করতে পারেনি। বাংলাদেশে দুটি স্টক মার্কেট বা পুঁজিবাজার রয়েছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ছাড়াও চট্টগ্রামে রয়েছে একটি শেয়ার মার্কেট।
১৯৯৫ সালের ১ এপ্রিল চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) একটি পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। একই বছর ১০ অক্টোবর থেকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ আনুষ্ঠানিকভাবে শেয়ার লেনদেন কার্যক্রম শুরু করে। সেই হিসাবে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের বয়স ৩১ বছর।
ব্রোকারেজ হাউসেউন্নত দেশগুলোতে উদ্যোক্তারা তাঁদের দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন সংগ্রহের জন্য প্রধানত শেয়ারবাজারের ওপর নির্ভর করে থাকেন। কিন্তু আমাদের দেশের উদ্যোক্তারা এখনো প্রয়োজনীয় পুঁজি সংগ্রহের জন্য ব্যাংকিং ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে থাকেন। পুঁজিবাজার থেকে অর্থায়ন সংগ্রহের ক্ষেত্রে বেশ কিছু বিশেষ সুবিধা পাওয়া যায়, যা ব্যাংকিং সেক্টর থেকে কোনোভাবেই পাওয়া সম্ভব নয়।
বাংলাদেশের ব্যাংকিং সেক্টর বর্তমানে খেলাপি ঋণের আধিক্যের কারণে প্রচণ্ড চাপে রয়েছে। তারা চাইলেও উদ্যোক্তাদের জন্য পর্যাপ্ত বিনিয়োগ সুবিধা দিতে পারছে না। ব্যাংকিং সেক্টরের বড় ধরনের দুর্বলতা হচ্ছে-নির্ধারিত সময়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে না পারা। ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ইন্টারেস্ট ডিউরিং কনস্ট্রাকশন পিরিয়ড (আইডিসিপি) বা নির্মাণকালীন সুদ বলে একটি সিস্টেম আছে। কোনো প্রকল্প ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণ করার পর সাধারণত ছয় মাস থেকে এক বছরকে নির্মাণকালীন সময় হিসেবে বিবেচনা করে থাকে।
এই সময়ে গৃহীত ঋণের ওপর সাধারণত তুলনামূলকভাবে কম সুদ ধার্য করে থাকে। কিন্তু বাংলাদশের বিদ্যমান বাস্তবতায় অধিকাংশ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ছয় মাস বা এক বছরের বেশি সময় প্রয়োজন হয়। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের একশ্রেণির কর্মকর্তার দুর্নীতি-অসহযোগিতার কারণে কোনো কোনো প্রকল্প বাস্তবায়নে দুই থেকে তিন বছর পর্যন্ত লেগে যায়। সমস্যা হয় তখনই। ব্যাংক কিন্তু কোনো প্রকল্প কত দিন লাগছে তা দেখবে না। তারা ছয় মাস কিংবা এক বছর অতিক্রান্ত হলেই পূর্ণমাত্রায় সুদের হিসাব করতে শুরু করবে।
অধিকাংশ সময়ই দেখা যায়, একটি প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়ে বাণিজ্যিক অপারেশনে যাওয়ার আগেই বিরাট অঙ্কের ব্যাংক ঋণ চেপে বসে। ফলে উদ্যোক্তারা ব্যাংক ঋণের কিস্তি পরিশোধের ক্ষেত্রে অসুবিধায় পড়েন। কিন্তু একজন উদ্যোক্তা যদি পুঁজিবাজার থেকে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ বা অর্থায়ন সংগ্রহ করেন তাহলে তাকে ওই সমস্যায় পড়তে হয় না। কারণ বিনিয়োগকারীরা কোনো প্রকল্পে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করলে সেই প্রকল্পটি বাণিজ্যিক উৎপাদনে গিয়ে লাভজনক পর্যায়ে না যাওয়া পর্যন্ত বিনিয়োগকারীদের কোনো ডিভিডেন্ড দিতে বাধ্য নন।
উন্নত দেশের উদ্যোক্তারা মূলত এ কারণেই ব্যাংকের পরিবর্তে শেয়ারবাজার থেকে তাঁদের প্রয়োজনীয় অর্থায়ন সংগ্রহ করে থাকেন। বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ তো বটেই, অধিকাংশ উদ্যোক্তার মধ্যেও শেয়ারবাজার সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা নেই। দেশে ব্যক্তিমালিকানায় যেসব প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে তার মালিকানা মূলত পরিবারকেন্দ্রিক।
উদ্যোক্তাদের অনেকেই মনে করেন, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হলে কোম্পানির ওপর তাঁদের পারিবারিক নিয়ন্ত্রণ শিথিল হয়ে যেতে পারে। এ ছাড়া জবাবদিহির প্রশ্নও রয়েছে।
তাই তাঁরা সাধারণত পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হতে চান না। ডিএসইর তালিকাভুক্ত কোম্পানির সংখ্যা ৩৬০টি। এর সঙ্গে মিউচুয়াল ফান্ড, সরকারি ট্রেজারি বন্ড ও করপোরেট বন্ডসহ তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজের সংখ্যা ৬৪০টি। সিএসইর তালিকাভুক্ত কোম্পানির সংখ্যা ৩২৬টি। মিউচুয়াল ফান্ড, সরকারি ট্রেজারি বন্ড ও করপোরেট বন্ডসহ তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজের সংখ্যা ৬১৯টি। স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত হওয়ার যোগ্যতাসম্পন্ন কোম্পানির সংখ্যা ১ হাজার থেকে দেড় হাজার।
দেশে প্রায় ৫০০ বৃহৎ কোম্পানি রয়েছে, যেগুলো শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার যোগ্যতা রাখে। এসব কোম্পানির পরিশোধিত মূলধনের পরিমাণ কোম্পানিপ্রতি ৩০ কোটি টাকা বা তারও বেশি। অন্যদিকে ৫ কোটি থেকে ৩০ কোটি টাকার মধ্যে পরিশোধিত মূলধনসহ সিএমএসএমই প্রকল্প রয়েছে ৮০০ থেকে ১ হাজারটি। এগুলো পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার উপযোগী। যাচাইবাছাই করে এসব কোম্পানিকে পুঁজিবাজারে নিয়ে আসার উদ্যোগ নিতে হবে।
একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে পুঁজিবাজারে নিয়ে আসার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। উল্লেখ্য, রাষ্ট্র কখনো ভালো উৎপাদক হতে পারে না। রাষ্ট্রের কাজ হচ্ছে অবকাঠামোগত সুবিধা নিশ্চিত করা। আর ব্যক্তি খাতের উদ্যোক্তাদের দায়িত্ব হচ্ছে রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রাপ্ত সুবিধা কাজে লাগিয়ে উৎপাদন ব্যবস্থাকে গতিশীল করা। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হয় প্রতিনিধিদের মাধ্যমে। কাজেই সেখানে জবাবদিহি থাকে ন্যূনতম পর্যায়ে। আর ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান সরাসরি মালিকের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হয়। ফলে সেখানে জবাবদিহি থাকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে।
বাংলাদেশে যারা ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী রয়েছেন তাঁদের বিনিয়োগের উপযুক্ত স্থান নেই। তাই তাঁরা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করতে পারেন। ১৯৯৬ এবং ২০১০ সালে দেশের পুঁজিবাজারে সংঘটিত ভয়াবহতম কেলেঙ্কারির সময় আমরা প্রত্যক্ষ করেছি-ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা কীভাবে শেয়ারবাজারে প্রবেশ করেন। এ সময় অনেকেই না বুঝে বিনিয়োগ করে সর্বস্বান্ত হয়েছেন। কেউ কেউ আত্মহত্যা পর্যন্ত করেছেন বিনিয়োগকৃত পুঁজি হারিয়ে।
মনে রাখতে হবে, উত্থানপতনই পুঁজিবাজারের মূল সৌন্দর্য। তাই কোনো শেয়ারের দরপতন ঘটলেই আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। আবার কোনো শেয়ারের দাম বৃদ্ধি পেলেই সেখানে সবাই গিয়ে হুমড়ি খেয়ে পড়ার কিছু নেই। পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করার আগে বাজারব্যবস্থা কীভাবে কাজ করে সে সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা নেওয়া প্রয়োজন। বিনিয়োগ করার কোম্পানির মৌল ভিত্তি সম্পর্কে ভালোভাবে খোঁজখবর নিতে হবে।
কোম্পানিটি বিগত দিনে লভ্যাংশ দিয়েছে কি না তা যাচাই করতে হবে। একটি বিষয় অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনায় রাখতে হবে, তা হলো-কোনো কোম্পানির শেয়ার মার্কেটে যে দামেই বিক্রি হোক না কেন, কোম্পানিটি যখন ডিভিডেন্ড প্রদান করবে তখন তারা ফেইস ভ্যালুর ওপরই লভ্যাংশ দেবে। যেমন কোনো কোম্পানির ফেইস ভ্যালু হয়তো ৪০০ টাকা। সেই কোম্পানির শেয়ার যদি বাজারে ২০০০ টাকায়ও বিক্রি হয় কোম্পানি কিন্তু ৪০০ টাকার ওপরই ডিভিডেন্ড প্রদান করবে। অনেক সময় বোনাস শেয়ার দেওয়া হয় সেটা আলাদা কথা।
অনেকেই আছেন যখন কোনো কোম্পানির শেয়ারের মূল্য বাড়তে থাকে তখন তাঁরা অতিরিক্ত আর্থিক সুবিধা পাওয়ার আশায় সেই কোম্পানির শেয়ার বেশি বেশি করে কেনেন। আবার কোনো কোম্পানির শেয়ারের মূল্য কমে গেলে বিনিয়োগকারীরা আতঙ্কিত হয়ে শেয়ার বিক্রি করে দেন।
পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করে লাভবান হতে চাইলে অবশ্যই বাজারব্যবস্থা সম্পর্কে জ্ঞান থাকতে হবে। কোনো কারণেই অন্যের পরামর্শে বা হুজুগে পড়ে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করা সংগত নয়। এতে লোকসানের আশঙ্কাই বেশি। আমাদের যেকোনো মূল্যেই হোক বিনিয়োগকল্পে অর্থ সংগ্রহে ব্যাংকিং সেক্টরের ওপর অতি নির্ভরতা কাটিয়ে উঠতে হবে। লেখক : সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা



