বিএটিবিসির ৫ বছরের টানা মুনাফা ও লভ্যাংশে ধসের রহস্য কী
আলমগীর হোসেন, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: দেশের অন্যতম বৃহৎ সিগারেট উৎপাদনকারী কোম্পানি ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ (বিএটিবিসি) বিপুল সংখ্যক ক্রেতা হারাচ্ছে। ২০২৫ সালে কোম্পানিটির সিগারেট বিক্রি কমেছে প্রায় ১ হাজার ৮০০ কোটি শলাকা। চলতি বছরের প্রথম নয় মাসেও বিক্রি কমেছে ১০ শতাংশের বেশি। প্রশ্ন উঠেছে, এত বিপুল পরিমাণ সিগারেটের ক্রেতারা কোথায় যাচ্ছেন? বিএটিবিসির দাবি, পরপর মূল্যবৃদ্ধি ও শুল্কের চাপের কারণে ক্রেতাদের একটি অংশ সস্তা ও অবৈধ সিগারেটের দিকে ঝুঁকছেন।
তবে কোম্পানিটির বিক্রির পতনের তুলনায় দেশের সামগ্রিক সিগারেট বাজারের সংকোচন অনেক কম। ফলে শুধু চাহিদা কমার বিষয় নয়, প্রতিযোগীদের কাছে বাজার হারানোর সম্ভাবনাও সামনে এসেছে।
ফলে বিএটিবিসি লিমিটেডের চলতি ২০২৬ হিসাব বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) আয় ৭ শতাংশ কমেছে। আলোচ্য প্রান্তিকে কোম্পানিটির গ্রস রেভিনিউ হয়েছে প্রায় ৩১ হাজার কোটি টাকা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল প্রায় ৩৩ হাজার কোটি টাকা। কোম্পানি সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। আলোচ্য প্রান্তিকে বিএটিবিসির পরিচালন মুনাফা হয়েছে ১ হাজার ৩৪৮ কোটি টাকা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ১ হাজার ৮৫৬ কোটি টাকা। এ সময়ে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী নিট মুনাফা হয়েছে ৫১৩ কোটি টাকা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ৭২০ কোটি টাকা।
আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, চলতি বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৯ টাকা ৫০ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ১৩ টাকা ৩৪ পয়সা। ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ১০৮ টাকা ৯৭ পয়সায়। সর্বশেষ ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২৫ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের জন্য ৩০ শতাংশ চূড়ান্ত নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে কোম্পানিটির পর্ষদ। আলোচ্য হিসাব বছরে বিএটিবিসির ইপিএস হয়েছে ১০ টাকা ৮১ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৩২ টাকা ৪২ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ১০২ টাকা ৫০ পয়সায়।
২০২৪ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ১৫০ শতাংশ চূড়ান্ত নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটির পর্ষদ। এর আগে কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের ১৫০ শতাংশ অন্তর্বর্তী নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল। সে হিসেবে সমাপ্ত ২০২৪ হিসাব বছরে ৩০০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ পেয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। আলোচ্য হিসাব বছরে বিএটিবিসির ইপিএস হয়েছে ৩২ টাকা ৪২ পয়সা, আগের হিসাব বছরের যা ছিল ৩৩ টাকা ১১ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ১০৬ টাকা ৮৮ পয়সায়।
২০২৩ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ১০০ শতাংশ চূড়ান্ত নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটির পর্ষদ। আলোচ্য হিসাব বছরে বিএটিবিসির ইপিএস হয়েছে ৩৩ টাকা ১১ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৩৩ টাকা ১০ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৩ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৯৯ টাকা ৩৩ পয়সায়।
২০২২ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ১০০ শতাংশ চূড়ান্ত নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটির পর্ষদ। আলোচ্য হিসাব বছরে বিএটিবিসির ইপিএস হয়েছে ৩৩ টাকা ১০ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ২৭ টাকা ৭২ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২২ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৭৬ টাকা ২৭ পয়সায়।
৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২১ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের মোট ২৭৫ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটি। এর মধ্যে ১৫০ শতাংশ নগদ চূড়ান্ত ও বাকি ১২৫ শতাংশ অন্তর্বর্তী নগদ লভ্যাংশ। এর আগে ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের জন্য ৫০০ শতাংশ চূড়ান্ত লভ্যাংশ দিয়েছিল বিএটিবিসি। এর মধ্যে ৩০০ শতাংশ নগদ ও ২০০ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ।
১৯৭৭ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বিএটিবিসির অনুমোদিত মূলধন ৫৪০ কোটি টাকা। বর্তমানে কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধনও একই। রিজার্ভে রয়েছে ৫ হাজার ৫৭ কোটি ৪০ লাখ টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ৫৪ কোটি। এর মধ্যে ৭২ দশমিক ৯১ শতাংশ উদ্যোক্তা পরিচালক, দশমিক ৬৪ শতাংশ সরকার, ১৪ দশমিক ৬০ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী, ২ দশমিক ৯০ শতাংশ বিদেশী বিনিয়োগকারী ও বাকি ৮ দশমিক ৯৫ শতাংশ শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে।



