পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা ফেরাতে বড় পুঁজির বিনিয়োগকারীদের বিকল্প নেই
শহীদুল ইসলাম, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: নির্বাচনের পর নতুন সরকার ও নতুন নিয়ন্ত্রক সংস্থা ঘিরে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বড় প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। এর ওপর ভর করে কিছুটা গতি ফিরেছিল দেশের পুঁজিবাজারে। তবে সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন বাস্তবে না ঘটায় এখন পুঁজিবাজারে দেখা দিয়েছে উল্টো চিত্র। ফলে গত সাড়ে আড়াই টানা দরপতনে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) প্রধান সূচক ৫১৮ পয়েন্টের বেশি কমে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ ও আস্থার সংকট তীব্র হচ্ছে। আবারও পুঁজি হারানোর আতঙ্ক পেয়ে বসেছে বিনিয়োগকারীদের।
বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, পুঁজিবাজারে কার্যকর নজরদারি ও কঠোর তদারকি নিশ্চিত করা না গেলে চলমান অস্থিরতা থেকে উত্তরণ কঠিন হয়ে পড়বে। বর্তমান পুঁজিবাজারের পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে প্রধান সূচক ৫ হাজার পয়েন্টের নিচে নেমে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। ফলে পুঁজিবাজার এখন অত্যন্ত সংকটময় পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে সার্বিক অবস্থা আরও নাজুক হয়ে পড়তে পারে।
তারা মনে করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো ধারাবাহিক দরপতন রোধে বাস্তবসম্মত ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা। একই সঙ্গে বাজারে নতুন করে বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি করতে হবে। বিশেষ করে তালিকাভুক্ত কোম্পানির উদ্যোক্তা-পরিচালক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী এবং বড় পুঁজির বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি সব শ্রেণির বিনিয়োগকারীদের বাজারমুখী করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হলে বাজারে চলমান পতনের চাপ কমিয়ে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
অভিজ্ঞ বিনিয়োগকারীদের অভিযোগ, বর্তমানে পুঁজিবাজারে উদ্যোক্তা-পরিচালক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় উপস্থিতি প্রায় নেই বললেই চলে। বাজারের এমন সংকটময় সময়ে বড় বিনিয়োগকারীদের নিষ্ক্রিয়তা সার্বিক পরিস্থিতিকে আরও দুর্বল করে তুলছে। এ অবস্থায় উদ্যোক্তা-পরিচালক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের দ্রুত শেয়ার কেনায় উৎসাহিত করার পাশাপাশি আইনসম্মতভাবে তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় বাধ্যবাধকতা আরোপের দাবিও জানিয়েছেন তারা।
এছাড়া বাজারে বড় পুঁজির বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়লে শেয়ার কেনার চাপ বৃদ্ধি পেতে পারে। এতে লেনদেনে গতি আসার পাশাপাশি সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা তৈরি হবে। তবে শুধু বিনিয়োগ বাড়ানোর উদ্যোগ নিলেই হবে না, বাজারে স্বচ্ছতা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার বিষয়টিকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।
বাজার বিশ্লেষকরা অভিযোগ করেছেন, বর্তমানে পুঁজিবাজারে বেশ কিছু বিতর্কিত কোম্পানির শেয়ার অস্বাভাবিক উচ্চমূল্যে লেনদেন হচ্ছে। এসব শেয়ারের দরবৃদ্ধির পেছনে যারা ভূমিকা রয়েছে তাদের কার্যক্রম খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। অনিয়ম বা কারসাজির প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় এনে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
জানা গেছে, সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের বড় পতনে লেনদেন শেষ হয়েছে। এদিন সূচকের পতনে কমেছে লেনদেন ও বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দর। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। দিনশেষে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ৩২ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৫ হাজার ৩৮৫ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৪ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১ হাজার ৪৫ পয়েন্টে এবং ডিএসই ৩০ সূচক ১৮ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ২ হাজার ৬৮ পয়েন্টে।
দিনভর লেনদেন হওয়া ৩৮৭ টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১৫১ টির, দর কমেছে ১৯০ টির এবং দর অপরিবর্তিত রয়েছে ৪৬ টির। ডিএসইতে ৪৮২ কোটি ১৯ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। যা আগের কার্যদিবস থেকে ৮২ কোটি ৪৩ লাখ টাকা কম। এর আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৫৬৪ কোটি ৬২ লাখ টাকার।
অপরদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৪২ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৪৯৪ পয়েন্টে। সিএসইতে ১৮০ টি কোম্পানি লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এসব কোম্পানির মধ্যে ৭৫ টির দর বেড়েছে, কমেছে ৮৪ টির এবং ২১ টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইতে ২০ কোটি ৬৩ লাখ ৫ হাজার টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।



