পুঁজিবাজারে সূচকের বড় উত্থান নয় স্থিতিশীলতার দাবী, লেনদেনে ভাটা
শহীদুল ইসলাম, বিশেষ প্রতিনিধি, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের বড় উত্থানে লেনদেন শেষ হয়েছে। তবে সূচকের বড় উত্থান হলেও আস্থা সংকটে কারণে লেনদেন তেমন একটা বাড়ছে না। কারণ আস্থা সংকটের কারণে বাজার আজ ভাল তো কাল খারাপ। তেমনি গত আড়াই মাসে টানা দরপতনে অধিকাংশ বিনিয়োগকারীদের মাঝে আস্থা সংকট দেখা দিয়েছে। তাই বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীদের মাঝে আস্থা ফিরিয়ে আনাই নিয়ন্ত্রক সংস্থার মুল চ্যালেঞ্জ।
তবে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর বাজার ভাল হবে এমন প্রত্যাশা ছিলো লাখ লাখ বিনিয়োগকারীদের। কিন্তু বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তিতে বিশাল ফারাক। ফলে বিনিয়োগকারীরা নতুন করে বিনিয়োগ করার সাহস পাচ্ছেন না। এছাড়া নতুন বিনিয়োগকারীরা বাজারমুখী হচ্ছে না। যার ফলে আস্থা সংকটে কাটছে না পুঁজিবাজারে। এ অবস্থায় পুঁজিবাজারে আস্থার সংকট দূরীকরণের সুশাসনের বিকল্প নেই বলে মনে করছেন বিনিয়োগকারীরা।
এছাড়া টানা চার কার্যদিবসে ১৩৩ পয়েন্ট হারানোর পর সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবসে ৫৭ পয়েন্টের উত্থানেও স্বস্তি ফিরছে না পুঁজিবাজারে। কারণ সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) মূল্যসূচক বাড়লেও লেনদেনের পরিমাণ কমেছে। অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারদর বৃদ্ধির পরও বাজারের ভবিষ্যৎ গতিপ্রকৃতি নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে।
বাজার বিশ্লেষকরা বলেন, টানা দরপতনে বিনিয়োগকারীদের মাঝে আস্থা সংকট প্রকট আকারে দেখা দিয়েছে। এছাড়া চার কার্যদিবসের পতনে ডিএসইর সূচক ১৩৩ পয়েন্ট কমার পর মাত্র একদিনে ৫৭ পয়েন্টের কিছু বেশি বৃদ্ধি বাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের হারানো আস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য যথেষ্ট নয়। কারণ অতীতেও একদিন সূচক বাড়ার পর পরবর্তী কয়েক কার্যদিবসে টানা পতনের ঘটনা ঘটেছে। ফলে সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবসে সূচকের উত্থান কতটা স্থায়ী হবে, তা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সংশয় রয়েছে। তবে বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে সূচকের টানা উত্থানের বিকল্প নেই।
জানা গেছে, সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের উত্থানে লেনদেন শেষ হয়েছে। এদিন সূচক বাড়লেও কমেছে বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দর ও টাকার পরিমাণে লেনদেন। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
দিনশেষে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ৫৭ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ৫ হাজার ৩৪১ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৬ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ১ হাজার ৩৬ পয়েন্টে এবং ডিএসই ৩০ সূচক ১৫ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ২ হাজার ৩৭ পয়েন্টে।
দিনভর লেনদেন হওয়া ৩৮৩ কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ২৮২ টির, দর কমেছে ৫১ টির এবং দর অপরিবর্তিত রয়েছে ৫০ টির। ডিএসইতে ৫২২ কোটি ২৮ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। যা আগের কার্যদিবস থেকে ৪৩ কোটি ৫৪ লাখ টাকা কম। এর আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৫৬৫ কোটি ৮২ লাখ টাকার।
অপরদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৯৯ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৩১৩ পয়েন্টে। সিএসইতে ১৪৭ টি কোম্পানি লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এসব কোম্পানির মধ্যে ৮২ টির দর বেড়েছে, কমেছে ৩৭ টির এবং ২৮ টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইতে ৪ কোটি ৩৯ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।



