আলমগীর হোসেন, বিশেষ প্রতিনিধি, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: পুঁজিবাজারে এসএমই প্ল্যাটফর্মে তালিকাভুক্ত কৃষিবিদ সিড লিমিটেডের কোয়ালিফাইড ইনভেস্টর অফারের (কিউআইও) মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থের ব্যবহার খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এ অর্থ কোন কোন খাতে ব্যয় হয়েছে, লেনদেনের মাধ্যমে অর্থ কোথায় গেছে এবং প্রসপেক্টাসে উল্লিখিত উদ্দেশ্যের বাইরে কোনো অর্থ ব্যবহার করা হয়েছে কি না, তা যাচাই করা হবে।
একই সঙ্গে অর্থ ব্যবহারের ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম বা সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে কি না, সেটিও পর্যালোচনা করা হবে। সম্প্রতি বিএসইসির মার্কেট ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন ডিভিশন থেকে জারি করা হয়েছে এ-সংক্রান্ত একটি আদেশ। এ লক্ষ্যে দুই সদস্যের একটি পরিদর্শন কমিটি গঠন করেছে বিএসইসি। গঠিত কমিটিকে আদেশ জারির ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কমিটির সদস্যরা হলেন বিএসইসির উপপরিচালক মওদুদ মোমেন এবং সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ রুমান হোসেন।

বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম বলেছেন, কৃষিবিদ সিডের কিউআইওর মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ কোন খাতে এবং কীভাবে ব্যয় করা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হবে। প্রসপেক্টাসে উল্লিখিত উদ্দেশ্য অনুযায়ী অর্থ ব্যবহার করা হয়েছে কি না, ব্যয়ের বিপরীতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ব্যাংক লেনদেনের তথ্য যাচাই করা হবে। এ ছাড়া অর্থ ব্যবহারে কোনো ধরনের অনিয়ম বা আইন লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে কি না, সেটিও পরিদর্শনে দেখা হবে। কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে নেওয়া হবে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা।

আদেশে বলা হয়েছে, পুঁজিবাজার ও বিনিয়োগকারীদের বৃহত্তর স্বার্থে মার্কেন্টাইল ব্যাংক সিকিউরিটিজের বিভিন্ন বিষয় অনুসন্ধান করা প্রয়োজন বলে মনে করে কমিশন। তাই সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ রুলস, ২০২০-এর বিধি ১৭-এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে কোম্পানিটি পরিদর্শনের জন্য বিএসইসির কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেওয়া হলো।

বিএসইসির আদেশ অনুযায়ী, কৃষিবিদ সিডের কিউআইওর মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ প্রসপেক্টাসে উল্লিখিত উদ্দেশ্য এবং কমিশনের সম্মতিপত্রের শর্ত অনুসারে ব্যয় করা হয়েছে কি না, তা সরেজমিন যাচাই করবেন পরিদর্শন কর্মকর্তারা। অর্থাৎ কোম্পানি যে উদ্দেশ্যে বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করেছে, বাস্তবে সেই অর্থ নির্ধারিত খাতেই ব্যবহার হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করা হবে।

এ ছাড়া কিউআইওর অর্থের লেনদেনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের পরিচয় শনাক্ত করার পাশাপাশি পুরো অর্থপ্রবাহ পর্যালোচনা করা হবে। কোনপক্ষের মাধ্যমে অর্থ লেনদেন হয়েছে, অর্থ কোথা থেকে কোথায় স্থানান্তরিত হয়েছে এবং সংগৃহীত অর্থের ব্যবহার কতটা যৌক্তিক ছিল, তা মূল্যায়ন করবেন কর্মকর্তারা।

পরিদর্শনের কার্যপরিধিতে কোম্পানির আর্থিক বিবরণী যাচাইয়ের বিষয়টিও রাখা হয়েছে। কিউআইওর মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ যে উদ্দেশ্যে ব্যবহারের কথা প্রসপেক্টাসে উল্লেখ করা হয়েছিল, সেই অনুযায়ী অর্থ ব্যয়ের তথ্য আর্থিক বিবরণীতে সময়মতো ও যথাযথভাবে প্রকাশ করা হয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করা হবে। পাশাপাশি খুচরা নগদ ব্যয় ছাড়া অন্য সব লেনদেন ব্যাংক স্থানান্তরের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে কি না, সেটিও যাচাই করা হবে।

কোম্পানির ব্যাংক হিসাবের লেনদেন এবং সেখানে ব্যয় করা অর্থের স্থিতিও পরিদর্শনের আওতায় থাকবে। কিউআইওর অর্থ ব্যবহারের ক্ষেত্রে কমিশনের অনুমোদিত উদ্দেশ্য থেকে কোনো ধরনের বিচ্যুতি ঘটেছে কি না, তা বিশেষভাবে খতিয়ে দেখবেন কর্মকর্তারা। ফলে শুধু অর্থ ব্যয়ের কাগজপত্র নয়, ব্যাংক লেনদেনের তথ্যের সঙ্গেও প্রকৃত ব্যয়ের হিসাব মিলিয়ে দেখা হবে।