বিশেষ প্রতিনিধি, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: পুঁজিবাজারে তারল্য সংকট কাটানো এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে ব্যাংকগুলোর বিশেষ তহবিলের মেয়াদ আরও পাঁচ বছর বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। একই সঙ্গে প্রতিটি ব্যাংকের জন্য বিদ্যমান ২০০ কোটি টাকার বিশেষ তহবিলের সীমা বাড়িয়ে ৩০০ কোটি টাকা করার অনুরোধ জানিয়েছে সংস্থাটি। এ বিষয়ে গত ২৯ অক্টোবর বিএসইসির চেয়ারম্যান মাসুদ খানের সই করা একটি চিঠি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে পাঠানো হয়েছে।

বর্তমানে ব্যাংকগুলোর জন্য গঠিত বিশেষ তহবিলের মেয়াদ আগামী ৩১ ডিসেম্বর শেষ হওয়ার কথা। ২০২০ সালে শেয়ারবাজারে তারল্য বাড়ানো এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে প্রতিটি তফসিলি ব্যাংকের জন্য ২০০ কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠনের সুযোগ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রাথমিকভাবে পাঁচ বছরের জন্য গঠিত এ তহবিলের মেয়াদ ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে শেষ হওয়ার কথা ছিল।

পরে বাজারসংশ্লিষ্টদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংক এর মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণ করে। বিএসইসি এবার ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০৩১ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত আরও পাঁচ বছরের জন্য তহবিলের মেয়াদ বাড়ানোর পাশাপাশি প্রতিটি ব্যাংকের বিনিয়োগসীমা ২০০ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০০ কোটি টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছে।

বিএসইসির চিঠিতে বলা হয়েছে, বর্তমানে দেশের শেয়ারবাজার তীব্র তারল্য সংকট ও বিনিয়োগকারীদের আস্থার দুর্বলতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বৈশ্বিক অস্থিরতার পাশাপাশি দেশের অর্থনীতির বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা বাজারে অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে এবং নতুন বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত করছে। এমন পরিস্থিতিতে বিশেষ তহবিলের মেয়াদ শেষ হওয়ার অনিশ্চয়তা বিনিয়োগকারীদের আস্থায় আরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, বাজারের বিভিন্ন মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠান ও অভিজ্ঞ বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এই বিশেষ তহবিলের মেয়াদ নবায়ন এবং পরিমাণ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা বিএসইসিকে জানিয়েছেন। নির্ধারিত সময়ের আগে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানো হলে ব্যাংক ও বাজারের মধ্যস্থতাকারীরা বিনিয়োগ পরিকল্পনা করতে পারবেন। একই সঙ্গে মেয়াদ শেষ হওয়ার কারণে তহবিল তুলে নেওয়ার চাপ তৈরি হলে বাজারে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। কারণ, বর্তমান বাজারের সেই অর্থ শোষণ করার সক্ষমতা সীমিত।

তবে বিএসইসির প্রস্তাবের পরও সব ব্যাংকের জন্য একযোগে বিশেষ তহবিলের মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিচ্ছে না বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানিয়েছেন, আগের মতো সবার জন্য একসঙ্গে মেয়াদ বাড়ানো হবে না। কোনো ব্যাংক মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করলে তা আলাদাভাবে পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তিনি জানান, বর্তমানে ৩০টির বেশি ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংকের এই বিশেষ নীতিগত সুবিধা পাচ্ছে। ব্যাংকগুলোর আবেদন পাওয়ার পর প্রতিটি আবেদন আলাদাভাবে বিবেচনা করা হবে। তবে এই তহবিল থেকে ব্যাংকগুলো এখন পর্যন্ত শেয়ারবাজারে ঠিক কত টাকা বিনিয়োগ করেছে, তাৎক্ষণিকভাবে সেই তথ্য জানাতে পারেননি তিনি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ এই সুবিধার আওতায় ব্যাংকগুলো প্রচলিত শেয়ারবাজারে বিনিয়োগসীমার বাইরে অতিরিক্ত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ পাচ্ছে। ফলে বাজারে ব্যাংকগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক অংশগ্রহণ বাড়ানোর ক্ষেত্রে এই তহবিলকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছে বিএসইসি। এদিকে, শুধু বিএসইসি নয়, ব্যাংকগুলোর বিশেষ তহবিলের মেয়াদ আরও পাঁচ বছর বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ)।

বাজারের স্থিতিশীলতা ও তারল্য পরিস্থিতির উন্নয়নে সংগঠনটিও বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে এ বিষয়ে অনুরোধ জানিয়েছে। বিএসইসির চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, দেশের পুঁজিবাজারে ব্যক্তিশ্রেণির বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ প্রায় ৯০ শতাংশ। এমন বাজারে তারল্য সংকট ও আস্থার ঘাটতি একে অপরকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। তাই ব্যাংকগুলোর বিশেষ তহবিলের মেয়াদ বাড়ানো এবং বিনিয়োগসীমা বৃদ্ধির মাধ্যমে বাজারে নতুন অর্থের প্রবাহ বাড়ানো জরুরি বলে মনে করছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।