দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: পুঁজিবাজারে লক্ষ লক্ষ বিনিয়োগকারী ও সংশ্লিষ্ট সকলকে বাঁচাতে প্রধান উপদেষ্টা বরাবর চিঠি দিয়েছেন এক বিনিয়োগকারী। গত সোমবার প্রধান উপদেষ্টা বরাবর চিঠি দিয়ে সকলকে বাঁচানোর আকুতি জানিয়েছেন অ্যাডভোকেট মোঃ সিদ্দিকুর রহমান নামে এক বিনিয়োগকারী। লাখ লাখ বিনিয়োগকারী বাজার সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠানকে বাঁচাতে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সাবেক চেয়ারম্যানবৃন্দ, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) এর অভিজ্ঞ সদস্যবৃন্দ, অর্থনীতিবিদ, ও বাজার বিশেষজ্ঞদের নিয়ে টাস্কফোর্স গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। সেইসাথে বাজার সংশ্লিষ্ট সকলকে বাঁচাতে দ্রুত বাস্তবসম্মত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে পুঁজিবাজারে প্রায় ষোল লাখ উননব্বই হাজার তেষট্রি জন বিনিয়োগকারী আছেন। এছাড়া ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ লিঃ (ডিএসই), চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ পিএলসি (সিএসই), মার্চেন্ট ব্যাংক,সিডিবিএল, সিসিবিএল সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিয়ে পুঁজিবাজার গঠিত। ১৯৭৬ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট সকলে পুঁজিবাজার পরিচালনা ও বিনিয়োগ করে আসছেন। ২০২৫ সালের মত এত মন্দা বাজারে আর হয় নাই। বর্তমানে বাজার সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগকারী এবং ব্রোকারেজ হাউজগুলো সকলেই ক্ষতিগ্রস্থ।

পুঁজিবাজারে সরকারী চাকুরিজীবী, সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশবাহিনী, ডাক্তার, ইন্জিনিয়ার, আইনজীবী, অবসরপ্রাপ্ত সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারী, চাকুরিজীবী, শিক্ষক-শিক্ষিকা, ব্যবসায়ী, গৃহিণী হাজার হাজার যুবক-যুবতী এবং ছাত্র-ছাত্রী বিনিয়োগকারী আছেন। তারা সকলেই এখন মানসিকভাবে বিপর্যস্ত বলে উল্লেখ করেন তিনি। চিঠিতে তিনি আরও জানান, ২০২৪ সালের জানুয়ারী মাসে মার্কেট ক্যাপিটালইজেশন ছিল ৭ কোটি ৫৪ লক্ষ ৮৫৬ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু ২০২৫ সালের এপ্রিলে এসে মার্কেট ক্যাপিটালাইজেশন দাঁড়ায় ৬ কোটি ৯৪ লক্ষ ৩৩৬ হাজার কোটি টাকা। এতে বিনিয়োগকারীদের সর্বসাকূল্যে ক্ষতি হয় ৬০ হাজার ৫২০ কোটি টাকা।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংকে আহসান এইচ মনসুরকে গভর্নর নিয়োগ দেওয়ায় তার সঠিক পরিকল্পনা ও বাস্তবমুখী সিদ্বান্তের পরিপ্রেক্ষিতে খাদের কিনারা হতে ব্যাংক খাত বর্তমানে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। ব্যাংক খাতের উপর মানুষের হারানো আস্থা ফিরে আসতে শুরু করেছে। এছাড়া বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিডায় চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুনের মতো মানুষকে নিয়োগের ফলে বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বের মধ্যে বিনিয়োগ করার জন্য উপযুক্ত স্থান হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে এবং বিদেশী বিনিয়োগ আসতে শুরু হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন এই বিনিয়োগকারী।