পুঁজিবাজারে সপ্তাহজুড়ে বাজার মূলধন কমেছে ২ হাজার ৬৬১ কোটি টাকা
শহীদুল ইসলাম, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের এক বছরের মাথায় পুঁজিবাজারের লেনদেনের গতি কিছুটা ফিরলেও গত দুই সপ্তাহের ব্যবধানে সূচক যেমন কমেছে তেমনি লেনদেনেও ভাটা পড়েছে। ফলে সূচকের টানা দরপতনে বাজার নিয়ে কিছুটা আতঙ্কিত হয়ে পড়ছেন বিনিয়োগকারীরা। যদিও বাজার বিশ্লেষকরা সূচকের কারেকশন বললেও মুলত শেয়ারের পতন ঘটিয়ে বাজারে কারসাজির হচ্ছে বলে মনে করছেন একাধিক বিনিয়োগকারীরা।
কারণ গত দুই সপ্তাহে একটানা দরপতনে অধিকাংশ শেয়ারের নতুন করে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ দর হারিয়েছে। ফলে গত দুই সপ্তাহে ১০ কার্যদিবসের মধ্যে সাত কার্যদিবস দরপতন হলেও তিন কার্যদিবস কিছুটা সূচকের উত্থান রয়েছে। এতে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ৩৪২ পয়েন্ট সূচকের উধাও হয়েছে।
এর ফলে গত সপ্তাহজুড়ে লেনদেন হওয়া যে কয়টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে, তার সাড়ে চারগুণ বেশি কোম্পানির দরপতন হয়েছে। ফলে বিপুল পরিমাণ কোম্পানির দরপতনের পরও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) বাজার মূলধন কমেছে ১৪৬ কোটি টাকা। তবে এতে সূচকের বড় পতন হয়েছে। সেই সঙ্গে কমেছে লেনদেনের গতি। এ সময়ে ডিএসই ও সিএসইতে বাজার মূলধন কমেছে ২ হাজার ৬৬১ কোটি ৯৩ লাখ টাকা।
এর মাধ্যমে টানা দুই সপ্তাহ পুঁজিবাজারে দরপতনের মধ্যে দিয়ে লেনদেন শেষ হলো। যার ফলে গত সপ্তাহজুড়ে সূচকের পতনের পাশাপাশি ডিএসইতে কমেছে টাকার অঙ্কে লেনদেনের পরিমাণ ও বাজার মূলধন। ডিএসই ও সিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
জানা গেছে, আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস ডিএসইর বাজার মূলধন ছিল ৭ লাখ ২৪ হাজার ৬১২ কোটি টাকা। আর বিদায়ী সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস বাজার মূলধন দাঁড়ায় ৭ লাখ ২৪ হাজার ৪৬৬ কোটি টাকায়। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইতে বাজার মূলধন ১৪৬ কোটি টাকা বা দশমিক ০২ শতাংশ কমেছে। সপ্তাহটিতে টাকার পরিমাণে লেনদেন ২ হাজার ২৪২ কোটি ৯৯ লাখ কমে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৫০৫ কোটি ৩২ লাখ টাকায়। আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস ডিএসইতে লেনদেন হয়েছিল ৫ হাজার ৭৪৮ কোটি ৩১ লাখ টাকা।
সপ্তাহটিতে ডিএসইর প্রধান সূচক ৭৩ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৪৪৯ পয়েন্টে। অপর সূচকগুলোর মধ্যে শরিয়াহ সূচক ১৮ পয়েন্ট এবং ডিএসই ৩০ সূচক ৪৩ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ১ হাজার ১৭৮ পয়েন্টে এবং ২ হাজার ১০৭ পয়েন্টে। সপ্তাহটিতে ডিএসইতে ৩৯৭ টি কোম্পানি লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ৬৮ টির , দর কমেছে ৩০৬ টির এবং ২৩ টির শেয়ার দর অপরিবর্তিত রয়েছে।
অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) বিদায়ী সপ্তাহে সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১৮১.২৬ পয়েন্ট বা ১.১৬ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৩৩৭ পয়েন্টে। সিএসইর অপর সূচকগুলোর মধ্যে সিএসই-৩০ সূচক ১.৬৫ শতাংশ কমে ১৩ হাজার ৪০৯ পয়েন্টে, সিএসসিএক্স সূচক ১.১৪ শতাংশ কমে ৯ হাজার ৪১৯ পয়েন্টে, সিএসআই সূচক ০.৮৪ শতাংশ কমে ৯৭১ পয়েন্টে এবং এসইএসএমইএক্স (এসএমই ইনডেক্স) ৪.৬৮ শতাংশ কমে ১ হাজার ৮৭৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।
বিদায়ী সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ২৬ হাজার ২৮১ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। আর বিদায়ী সপ্তাহের আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে সিএসইর বাজার মূলধন ছিল ৭ লাখ ২৮ হাজার ৭৯৭ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। টাকায়। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে বাজার মূলধন কমেছে ২ হাজার ৫১৬ কোটি ৭ লাখ টাকা।
বিদায়ী সপ্তাহে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেন হয়েছে ৬৭ কোটি ৫ লাখ টাকা। আর বিদায়ী সপ্তাহের আগের সপ্তাহে লেনদেন হয়েছিল ৯২ কোটি ২৬ লাখ টাকা। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে সিএসইতে লেনদেন কমেছে ২৫ কোটি ২১ লাখ টাকা।



