খেলাপিদের পেটে ওয়ান ব্যাংকের লভ্যাংশ, ২ কোটি ৯৮ লাখ টাকা জরিমানা
স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: উচ্চ খেলাপি ঋণ ও মূলধন এবং প্রভিশন ঘাটতির কারণে লভ্যাংশ দিতে পারেনি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংক খাতের কোম্পানি ওয়ান ব্যাংক পিএলসি। মুলত খেলাপি ঋণের হার দুই অঙ্কের ঘরে থাকা কোনো ব্যাংককে ২০২৫ সালের জন্য লভ্যাংশ দেওয়ার সুযোগ দেয়নি কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ফলে সমাপ্ত অর্থবছরে লভ্যাংশ থেকে বঞ্চিত হয়েছে ওয়ান ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডারা। এর ফলে মুনাফার পুরোটা বা ৭০ শতাংশের বেশি মুনাফা রিটেইন আর্নিংসে রাখা হবে। যে কারনে কোম্পানিটিকে রেখে দেওয়া ওই মুনাফার উপর অতিরিক্ত ১০ শতাংশ হারে কর দিতে হবে।
এ বিষয়ে কথা বললে মানারাত ইউনিভার্সিটির অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান বলেন, নামে-বেনামে ঋণ নিয়ে আর ফেরত না দেয়ার কারণেই মূলত এমন হয়েছে। এটার জন্য মূলত এককভাবে কেউ দায়ী না। বিগত সরকারের আমলে কিছু ব্যাংক মালিক, ব্যবসায়ীর সাথে কেন্দ্রীয় ব্যাংকেরও দায় আছে। তাই ঢালাওভাবে বর্তমান সব মালিককে দায়ী করা ঠিক হবে না।
তিনি বলেন, এসব নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে ভাবতে হবে। গ্রাহকদের যেমন বাচিয়ে রাখতে হবে, ঠিক তেমনি ব্যাংক এবং শেয়ারহোল্ডারদেরকেও বাঁচিয়ে রাখতে হবে। এজন্য মধ্যপন্থা অবলম্বন করতে হবে। প্রভিশনের বিধান ঠিক থাকবে। প্রভিশন দেয়ার একটা সময় বেধে দিয়ে দিয়ে শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে লভ্যাংশ দেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।
সূত্র মতে, ২০১৮-১৯ অর্থবছরের অনুমোদিত বাজেট অনুযায়ি, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোকে মুনাফার কমপক্ষে ৩০ শতাংশ লভ্যাংশ আকারে শেয়ারহোল্ডারদেরকে দিতে হবে। যদি ৩০ শতাংশের কম দেওয়া হয়, তাহলে রিটেইন আর্নিংসে স্থানান্তর করা পুরো অংশ বা কোম্পানিতে রেখে দেওয়া পুরোটার উপরে ১০ শতাংশ হারে কর আরোপ করার বিধান রাখা হয়।
ওয়ান ব্যাংকের ২০২৫ সালে শেয়ারপ্রতি ০.২৮ টাকা হিসাবে ২৯ কোটি ৮৪ লাখ টাকার নিট মুনাফা হয়েছে। এর বিপরীতে কোম্পানিটির পর্ষদ কোন লভ্যাংশ না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এর মাধ্যমে মুনাফার পুরোটাই রিটেইন আর্নিংসে রাখা হবে। মুনাফার ৭০ শতাংশের বেশি রেখে দেওয়ার সিদ্ধান্তের ফলে রিটেইন আর্নিংসে রাখতে চাওয়া ২৯ কোটি ৮৪ লাখ টাকার উপরে ১০ শতাংশ হারে অতিরিক্ত ২ কোটি ৯৮ লাখ টাকার অতিরিক্ত কর দিতে হবে ওয়ান ব্যাংককে।
এর আগে ২০২৪ সালে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি ১.২৪ টাকা হিসাবে ১৩১ কোটি ৯৪ লাখ টাকার নিট মুনাফা হয়েছিল। এর বিপরীতেও ব্যাংকটির পর্ষদ কোন লভ্যাংশ দেয়নি। যাতে ব্যাংকটি ১৩ কোটি ১৯ লাখ টাকা জরিমানার কবলে পড়ে। ওয়ান ব্যাংকের আগের বছরের তুলনায় ২০২৫ অর্থবছরে ৭৭ শতাংশ মুনাফা কমেছে। ব্যাংকটির আগের বছরের ১.২৪ টাকার শেয়ারপ্রতি মুনাফা ২০২৫ সালে হয়েছে ০.২৮ টাকা। তারপরেও ব্যাংকটির পর্ষদ এবারও লভ্যাংশ ঘোষণা করেনি।
মুলত ২০০৩ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া ওয়ান ব্যাংকের বর্তমানে ১ হাজার ৬৫ কোটি ৮২ লাখ টাকার পরিশোধিত মূলধন রয়েছে। এর মধ্যে পরিচালকের হাতে ৩০.৯৪ শতাংশ শেয়ার, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে ৩৮.৩২ শতাংশ শেয়ার, বিদেশী বিনিয়োগকারীদের হাতে ০.০৬ শতাংশ শেয়ার এবং সাধারন বিনিয়োগকারীদের হাতে ৩০.৬৮ শতাংশ শেয়ার।
সম্প্রতি ওয়ান ব্যাংক পিএলসি ঋণ ও বিনিয়োগের প্রকৃত শ্রেণিমান যথাযথভাবে রিপোর্ট না করায় সম্প্রতি পাঁচ লাখ টাকা করে জরিমানা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট অনিয়মে জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো (সিআইবি), মনিটরিং অ্যান্ড সুপারভিশন সেকশন থেকে ২৪ ও ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে জারি করা পৃথক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়।



