নিরীক্ষা কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিকতায় হার্ডলাইনে বিএসইসি
স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি ও বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিরীক্ষা কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি এবং পেশাগত মানোন্নয়ন নিশ্চিত করতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এ লক্ষ্যে ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (অডিট ফার্ম ও তাদের অংশীদারদের তালিকাভুক্তি) গাইডলাইন, ২০২৬’ এর খসড়া অনুমোদন দিয়েছে কমিশন। একইসঙ্গে খসড়াটির ওপর আগামী ৪ জুন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মতামত, পরামর্শ ও আপত্তি আহ্বান করা হয়েছে।
গত রোববার বিএসইসির চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কমিশনের ১০১৫তম জরুরি সভায় এ গাইডলাইনের খসড়ায় অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে কমিশনের পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জনমত যাচাইয়ের স্বার্থে খসড়া গাইডলাইন কমিশনের ওয়েবসাইট ও বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশ করা হবে। আগ্রহী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত লিংক অথবা কিউআর কোড ব্যবহার করে গাইডলাইন সংগ্রহ করতে পারবেন। পাশাপাশি প্রকাশের দুই সপ্তাহের মধ্যে তারা নিজেদের মতামত ও পরামর্শ জমা দেওয়ার সুযোগ পাবেন।
বিএসইসির প্রত্যাশা, নতুন এই গাইডলাইন বাস্তবায়ন হলে অডিট ফার্ম ও সংশ্লিষ্ট অংশীদারদের পেশাগত দক্ষতা, নিরপেক্ষতা এবং জবাবদিহি আরও শক্তিশালী হবে। একইসঙ্গে তালিকাভুক্ত কোম্পানি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিরীক্ষা কার্যক্রম আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের আওতায় আনা সহজ হবে।
খসড়া গাইডলাইন অনুযায়ী, তালিকাভুক্ত কোম্পানি, নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান, মিউচ্যুয়াল ফান্ড, অল্টারনেটিভ ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড এবং রিয়েল এস্টেট ইনভেস্টমেন্ট ট্রাস্ট (রিইট) ফান্ডের আর্থিক প্রতিবেদন কেবল বিএসইসির অনুমোদিত প্যানেলভুক্ত অডিট ফার্মের মাধ্যমে নিরীক্ষা করতে হবে।
প্যানেলে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার জন্য একটি অডিট ফার্মে ন্যূনতম তিনজন অংশীদার থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এর মধ্যে অন্তত দুইজনের পাঁচ বছরের পেশাগত অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট সব অংশীদারকে ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিলের (এফআরসি) নিবন্ধিত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে। খসড়ায় আরও বলা হয়েছে, গত পাঁচ বছরে কোনো ফৌজদারি অপরাধ, দুর্নীতি, নৈতিক স্খলন বা নিয়ন্ত্রক সংস্থার শাস্তির ইতিহাস থাকলে সংশ্লিষ্ট অডিট ফার্ম কিংবা অংশীদার তালিকাভুক্ত হওয়ার যোগ্য বিবেচিত হবেন না।
নিরীক্ষা কার্যক্রমে নিরপেক্ষতা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে অডিট ফার্মের সঙ্গে নিরীক্ষাধীন প্রতিষ্ঠানের কোনো আর্থিক, ব্যক্তিগত কিংবা ব্যবসায়িক স্বার্থের সম্পর্ক থাকা যাবে না বলেও স্পষ্ট করা হয়েছে। এছাড়া অডিট ফার্মগুলোকে তিনটি পৃথক ক্যাটাগরিতে তালিকাভুক্ত করার পরিকল্পনা নিয়েছে বিএসইসি। এর মধ্যে রয়েছে আইপিও ও বিশেষ নিরীক্ষা, তালিকাভুক্ত কোম্পানি ও ফান্ডের বিধিবদ্ধ নিরীক্ষা এবং পুঁজিবাজারের মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানের নিরীক্ষা কার্যক্রম।
খসড়ার বিধান অনুযায়ী, অংশীদার পরিবর্তন, অফিসের ঠিকানা পরিবর্তন, আন্তর্জাতিক সংযুক্তি বা অন্য কোনো সম্পৃক্ততার তথ্য নিয়মিত কমিশনে জমা দিতে হবে অডিট ফার্মগুলোকে। একই সঙ্গে মিথ্যা তথ্য প্রদান, গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করা, আন্তর্জাতিক নিরীক্ষা মান লঙ্ঘন অথবা নিরীক্ষাধীন প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ধারণের মতো ঘটনায় কমিশন সংশ্লিষ্ট ফার্মের প্যানেলভুক্তি স্থগিত বা বাতিলের ক্ষমতা পাবে।
গাইডলাইনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, একই অডিট ফার্ম বা নিরীক্ষক টানা তিন বছরের বেশি কোনো তালিকাভুক্ত কোম্পানি বা ফান্ডের নিরীক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবেন না।



