বন্ধ ও লোকসানি মেঘনা পেটের শেয়ারদর দুই মাসে তিন গুণ
মেহেদী হাসান, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: পুঁজিবাজারে মাঝেমধ্যেই এমন কিছু কোম্পানির আবির্ভাব ঘটে, যাদের শেয়ারদর আচমকা আকাশছোঁয়া হয়ে ওঠে। বিনিয়োগকারীদের কাছে এগুলো তখন যেন হয়ে ওঠে ‘সোনার হরিণ’। দেখতে লোভনীয়, ছুঁতে পারলে লাভের নিশ্চয়তা; কিন্তু বাস্তবে যার পেছনে থাকে অনিশ্চয়তা ও ঝুঁকির দীর্ঘ ছায়া। সাম্প্রতিক সময়ে মেঘনা পেট ইন্ডাস্ট্রিজ তেমনই এক আলোচিত নাম। তবে খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতের মেঘনা পেটের কারখানা বন্ধ রয়েছে প্রায় ২৪ বছর ধরে। উৎপাদন আবার শুরুর কোনো সম্ভাবনা বা পরিকল্পনা জানানো হয়নি কোম্পানির পক্ষ থেকে।
ফলে অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে মেঘনা পেট ইন্ডাস্ট্রিজ নামে কোম্পানির শেয়ারদর। গত এপ্রিলের শুরুতেও বন্ধ এই কোম্পানির শেয়ার ২৬ টাকা দরে কেনাবেচা হয়। এরপরও গত ৫ মে থেকে এক মাসে কোম্পানিটির শেয়ারদর ৪১ টাকা ৩০ পয়সা থেকে বেড়ে ৯০ টাকা ৯০ পয়সায় পৌঁছেছে। অর্থাৎ দর বেড়েছে ৪৯ টাকা ৬০ পয়সা বা প্রায় ১২০ শতাংশ।
অস্বাভাবিক এ দরবৃদ্ধির কারণ জানতে চেয়েছে ডিএসই। বিএসইসিও বিষয়টি বিশেষ নজরদারিতে রেখেছে। ডিএসইর চিঠির জবাবে কোম্পানি জানিয়েছে, তাদের কাছে এমন কোনো অপ্রকাশিত মূল্যসংবেদনশীল তথ্য নেই, যার কারণে শেয়ারদর বাড়তে পারে।
পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গত দ্ইু মাসেরও কম সময়ে এই কোম্পানির শেয়ারের দর তিন গুণ হয়েছে। এর মধ্যে গত এক মাসেই হয়েছে দ্বিগুণ। অথচ তালিকাভুক্ত এ কোম্পানিটির উৎপাদন ও ব্যবসা কার্যক্রম প্রায় দুই যুগ ধরে বন্ধ। ১২ কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধনের এই কোম্পানির অর্ধেকের বেশি শেয়ার ব্যক্তি শ্রেণির বিনিয়োগকারীর হাতে। অস্বাভাবিক এ দর বাড়ার নেপথ্যের কারণ খুঁজতে তদন্ত শুরু করেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ। এ বিষয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি থেকেও স্টক এক্সচেঞ্জকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
একাধিক ব্রোকারেজ হাউসের কর্মকর্তারা জানান, কারসাজি ছাড়া এ শেয়ারের দর এতটা বাড়ে না। কোম্পানিটির শেয়ারদর বাড়ার ঘটনা এবারই প্রথম নয়। প্রায় প্রতিবছর শেয়ারটি নিয়ে একাধিক দফায় কারসাজি করে দর বাড়িয়ে মুনাফা করছে একাধিক চক্র। এ নিয়ে বহু তদন্ত হয়েছে, কারসাজি থামছে না।
তবে ডিএসইর চিঠির জবাবে কোম্পানি জানিয়েছে, তাদের কাছে এমন কোনো অপ্রকাশিত মূল্যসংবেদনশীল তথ্য নেই, যার কারণে শেয়ারদর বাড়তে পারে। কোম্পানিটির আর্থিক অবস্থাও উদ্বেগজনক। ২০২৪-২৫ হিসাববছর প্রতিষ্ঠানটির নিট লোকসান হয়েছে ৩ কোটি ৩০ লাখ টাকা। এ হিসাবে শেয়ারপ্রতি লোকসান দাঁড়িয়েছে ২ টাকা ৭৫ পয়সা। একইসঙ্গে পরিচালন নগদ প্রবাহও ঋণাত্মক অবস্থায় রয়েছে। নিরীক্ষক প্রতিষ্ঠান প্রতিবেদনে কোম্পানিটির ব্যবসা চালু রাখার সক্ষমতা নিয়ে অনিশ্চয়তার কথা জানিয়েছে।
২০০১ সালে তালিকাভুক্ত জেড ক্যাটাগরির কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধন ১২ কোটি টাকা। সর্বশেষ শেয়ার ধারণ তথ্য অনুযায়ী, কোম্পানিটির ৪৩ দশমিক ৫৫ শতাংশ শেয়ার উদ্যোক্তা ও পরিচালক, ৬ দশমিক ৩৫ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী এবং ৫০ দশমিক ১০ শতাংশ শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মালিকানায় রয়েছে।



