উৎপাদন বন্ধ রিজেন্ট টেক্সটাইলের শেয়ারের দর বেড়েছে ৭০ শতাংশ
মেহেদী হাসান, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: পুঁজিবাজারে মাঝেমধ্যেই এমন কিছু কোম্পানির আবির্ভাব ঘটে, যাদের শেয়ারদর আচমকা আকাশছোঁয়া হয়ে ওঠে। বিনিয়োগকারীদের কাছে এগুলো তখন যেন হয়ে ওঠে ‘সোনার হরিণ’। দেখতে লোভনীয়, ছুঁতে পারলে লাভের নিশ্চয়তা; কিন্তু বাস্তবে যার পেছনে থাকে অনিশ্চয়তা ও ঝুঁকির দীর্ঘ ছায়া। সাম্প্রতিক সময়ে রিজেন্ট টেক্সটাইল তেমনই এক আলোচিত নাম।
তবে বস্ত্র খাতের কোম্পানি রিজেন্ট টেক্সটাইলের কারখানা বন্ধ রয়েছে প্রায় ৪ বছর ধরে। উৎপাদন আবার শুরুর কোনো সম্ভাবনা বা পরিকল্পনা জানানো হয়নি কোম্পানির পক্ষ থেকে। একপ্রকার কোম্পানিটির কোন হদিস নেই। তারপরেও সম্প্রতি কোম্পানিটির শেয়ার দর অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে। এ নিয়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) কর্তৃপক্ষ তদন্তে নামলেও তাতে সহযোগিতা করেনি কোম্পানি কর্তৃপক্ষ। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
জানা গেছে, গত ১৮ মে রিজেন্ট টেক্সটাইলের শেয়ার দর ছিল ৪.৩০ টাকায়, যা ৭ জুন লেনদেন শেষে দাঁড়িয়েছে ৭.৩০ টাকায়। অর্থাৎ ১০ কার্যদিবসের ব্যবধানে শেয়ারটির দর বেড়েছে ৩.০০ টাকা বা ৭০ শতাংশ। এই দর বৃদ্ধিকে অস্বাভাবিক মনে করে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) কর্তৃপক্ষ। ফলে কোম্পানিটির দর বৃদ্ধি নিয়ে কোম্পানি কর্তৃপক্ষের কাছে কারণ জানতে চেয়ে ব্যাখ্যা চায় ডিএসই কর্তৃপক্ষ। তবে এর কোন জবাব দেয়নি কোম্পানি কর্তৃপক্ষ।
এদিকে কয়েক বছর ধরে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে রিজেন্ট টেক্সটাইলের। এছাড়া ২০২০-২১ অর্থবছরের পর থেকে আর্থিক হিসাব প্রকাশ করছে না কোম্পানি কর্তৃপক্ষ। এর মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদেরকে কোম্পানির প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে অন্ধকারে রাখা হয়েছে। আর্থিক হিসাব প্রকাশ বন্ধের সাথে সাথে কোম্পানিটি থেকে ২০২০ সালের পর থেকে শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ প্রাপ্তিও বাদ হয়ে গেছে। এ কোম্পানিটি থেকে সর্বশেষ ২০১৯-২০ অর্থবছরের ব্যবসায় ১ শতাংশ নগদ ও ১ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দেওয়া হয়েছিল।
আর্থিক হিসাব প্রকাশ বন্ধের আগের ২ বছর লোকসান করে রিজেন্ট টেক্সটাইল। কোম্পানিটির ২০১৯-২০ অর্থবছরে শেয়ারপ্রতি ০.৩১ টাকা করে মোট ৩ কোটি ৯৭ লাখ টাকা ও ২০২০-২১ অর্থবছরে শেয়ারপ্রতি ১.৬২ টাকা করে মোট ২০ কোটি ৮০ লাখ টাকা লোকসান হয়েছিল।
মুলত ২০১৫ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধন ৯১ কোটি ২৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে উদ্যোক্তা পরিচালক কাছে রয়েছে ৫৪ দশমিক ৪৫ শতাংশ শেয়ার, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ৪ দশমিক ৬১ শতাংশ শেয়ার এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মালিকানা ৪০ দশমিক ৮৪ শতাংশ শেয়ার।



