বিশেষ প্রতিনিধি, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বীমা খাতের কোম্পানি কন্টিনেন্টাল ইন্স্যুরেন্স পিএলসির ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত অর্থবছরের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে সম্পদ ব্যবস্থাপনা, বিমা দাবি নিষ্পত্তি এবং আইনি বিধি প্রতিপালনে একাধিক অসংগতি উঠে এসেছে। এসব পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে কোম্পানির আর্থিক বিবরণীর ওপর শর্তযুক্ত মতামত দিয়েছেন নিরীক্ষক ড. জামশেদ এস এ চৌধুরী এফসিএ। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

নিরীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোম্পানিটি স্থায়ী সম্পদের পূর্ণাঙ্গ নিবন্ধন সংরক্ষণ করেনি। সম্পদের বিবরণ, শনাক্তকরণ নম্বর, অবস্থান, ক্রয়মূল্য, সঞ্চিত অবচয় ও লিখিত মূল্যসহ প্রয়োজনীয় তথ্যের ঘাটতির কারণে সম্পদের অস্তিত্ব, মালিকানা, পূর্ণতা ও মূল্যায়ন নিরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়নি। পাশাপাশি স্থায়ী সম্পদ যথাযথভাবে ট্যাগিং করা হয়নি এবং নিয়মিত শারীরিক যাচাইয়েরও পর্যাপ্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

এছাড়া আর্থিক বিবরণীর নোট-১২ অনুযায়ী, কোম্পানির ‘দাবি প্রদেয়’ হিসেবে প্রায় ১৬ কোটি ৮৩ লাখ ৮৩ হাজার টাকা দায় রয়েছে। নিরীক্ষকদের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, এসব দাবির একটি অংশ বিমা আইন, ২০১০-এর ৭২ ধারায় নির্ধারিত ৯০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করা হয়নি। আইনে সার্ভে রিপোর্ট জমা দেওয়ার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই দাবি পরিশোধের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

নিরীক্ষক ‘গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ’ অংশে আরও উল্লেখ করেছেন, কোম্পানি শ্রম আইন অনুযায়ী ‘শ্রমিকদের মুনাফায় অংশগ্রহণ তহবিল’ গঠন ও সংরক্ষণ করেনি। একই সঙ্গে কোম্পানির প্রভিডেন্ট ফান্ড ও গ্রাচুয়িটি ফান্ড গত দুই অর্থবছর নিরীক্ষার আওতায় আনা হয়নি, যা বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর বিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, কোম্পানির সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি, ইউনিয়ন ব্যাংক পিএলসি ও এক্সিম ব্যাংক পিএলসিতে রাখা স্থায়ী আমানত (এফডিআর) বর্তমানে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসির ব্যাংক রেজল্যুশন স্কিমের আওতায় রয়েছে। এ ব্যবস্থায় এফডিআরের মেয়াদ শেষে এককালীন সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা উত্তোলন করা যাবে এবং অবশিষ্ট অর্থ ধাপে ধাপে পরিশোধ করা হবে। পাশাপাশি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য আমানতের মুনাফার হার ৪ শতাংশে নির্ধারণ করা হয়েছে।

ফলে এসব আমানতের পূর্ণ অর্থ এবং পূর্বনির্ধারিত শর্তে মুনাফা আদায়ের বিষয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বলে নিরীক্ষক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন। নিরীক্ষা প্রতিবেদনের এসব পর্যবেক্ষণ কোম্পানির সম্পদ ব্যবস্থাপনা, দাবি নিষ্পত্তি, শ্রম আইন প্রতিপালন এবং ব্যাংকে রাখা আমানতের পুনরুদ্ধারযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্নের অবকাশ তৈরি করেছে। তবে এ বিষয়ে কোম্পানির পক্ষ থেকে কোনো পৃথক ব্যাখ্যা প্রকাশ করা হয়নি। কোম্পানিটির ২০২৫ সালের আর্থিক বিবরণী নিরীক্ষা করেছে চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস প্রতিষ্ঠান পিকেএফ আজিজ হালিম খায়ের চৌধুরী।

এদিকে কোম্পানির সর্বশেষ প্রকাশিত ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকের (জানুয়ারি থেকে মার্চ) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, আলোচ্য প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) বেড়ে ৪৯ পয়সা হয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৩৯ পয়সা। তবে একই সময়ে শেয়ারপ্রতি নিট পরিচালন নগদ প্রবাহ (এনওসিএফপিএস) ঋণাত্মক ২০ পয়সায় নেমেছে, যেখানে আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৭ পয়সা।

২০২৬ সালের ৩১ মার্চ শেষে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভি) দাঁড়িয়েছে ২৩ টাকা ২৬ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ২২ টাকা ২৪ পয়সা। এর আগে কন্টিনেন্টাল ইন্স্যুরেন্স পিএলসির পরিচালনা পর্ষদ ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য ৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ সুপারিশ করেছে। আগামী ১৩ আগস্ট ২০২৬ কোম্পানির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত হবে। হাইব্রিড পদ্ধতিতে গুলশান-১ এর অল কমিউনিটি ক্লাব লিমিটেডে সভাটি অনুষ্ঠিত হবে। লভ্যাংশ প্রাপ্তির জন্য রেকর্ড তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিল গত ১৫ জুন।

২০২৫ অর্থবছরে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ১ টাকা ৫০ পয়সা, যা আগের বছরের ১ টাকা ৪২ পয়সা থেকে বেড়েছে। একই সময়ে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভি) বেড়ে ২২ টাকা ৭৮ পয়সা হয়েছে, যা আগের বছর ছিল ২১ টাকা ৮৫ পয়সা। এছাড়া শেয়ারপ্রতি নিট পরিচালন নগদ প্রবাহ (এনওসিএফপিএস) ৯৪ পয়সা হয়েছে, যেখানে আগের অর্থবছরে তা ছিল ঋণাত্মক ৪৭ পয়সা।