সপ্তাহজুড়ে ডিএসইর বাজার মূলধন বেড়েছে ৪ হাজার কোটি টাকা
শহীদুল ইসলাম, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: দীর্ঘদিন অনাস্থায় থাকা পুঁজিবাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও আতঙ্ক কাটছে না বিনিয়োগকারীদের। কারণ এর আগেও কয়েক বার সূচকের উত্থানের আভাস দিলেও শেষ পর্যন্ত টিকেনি। ফলে মাঝে মধ্যে সূচকের উকি মারলেও আস্থা ফিরছে না পুঁজিবাজারে। এছাড়া গত সপ্তাহে দেশের পুঁজিবাজারে লেনদেন হওয়া পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে তিন কার্যদিবসেই সূচকের ঊর্ধ্বমুখিতার দেখা মিলেছে। এতে সপ্তাহের ব্যবধানে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে বেশির ভাগ কোম্পানি। ফলে বেড়েছে মূল্যসূচক। এছাড়া ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) বাজার মূলধন বেড়েছে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা।
বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, মধ্যপ্রাচ্য সংকটে সাময়িক স্থিতিশীলতা ফিরে আসা এবং বিভিন্ন খাতের ভালো শেয়ারগুলোর মুনাফা বৃদ্ধির ইতিবাচক প্রত্যাশা বিনিয়োগকারীদের মাঝে নতুন আশাবাদ তৈরি করেছে। ফলে বাজারে নতুন করে শেয়ার ক্রয়ের আগ্রহ তৈরি হয়। তবে এই ইতিবাচক ধারার মধ্যেও কিছু উদ্বেগ বিরাজ করছে। বিশেষ করে শিল্প খাতে গ্যাস সরবরাহ সংকট, বিশ্বব্যাপী ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং মার্জিন সংক্রান্ত নীতিমালা সংশোধন নিয়ে বিনিয়োগকারীদের একাংশের মধ্যে কিছুটা দুশ্চিন্তা রয়েছে। এ কারণে সপ্তাহের মাঝপথে অনেকেই মুনাফা তুলে নেওয়ার ঝোঁকেও দেখা গেছে।
একাধিক বিনিয়োগকারীর সাথে আলাপকালে বলেন, বর্তমান পুঁজিবাজারে মূল সমস্যা আস্থা সংকট। বিশেষ করে বর্তমান বিএসইসি চেয়ারম্যানের মার্জিন সংক্রান্ত নীতিমালা সংশোধনে বিনিয়োগকারীদের মাঝে আস্থা সংকট বাড়ছে। এ অবস্থায় সূচকের টানা উত্থান না হলেও আতঙ্ক কাটছে না। তাই যে কোন মূল্যে নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে পুঁজিবাজার স্থিতিশীল রাখতে হবে। তেমনি পুঁজির নিরাপত্তা ও নিশ্চয়তা দিতে হবে।
তা না হলে নতুন পুরাতন বিনিয়োগকারীর আগমন ঘটবে না পুঁজিবাজারে। এছাড়া নতুন বিনিয়োগকারীরা পুঁজিবাজারমুখী হবে না। তেমনি পুঁজিবাজার ইস্যুতে নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে সিদ্ধান্ত নিতে হলে ভেবে চিন্তে নিতে হবে। এদিকে অর্থনীতির শক্ত ভিত গড়ে তুলতে পুঁজিবাজারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
ফলে সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসের লেনদেন শেষে ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৫ হাজার ১৩৩ কোটি টাকা, যা আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ছিল ৭ লাখ ১ হাজার ২৭০ কোটি টাকা। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে বাজার মূলধন বেড়েছে ৩ হাজার ৯৬৩ কোটি টাকা। বাজার মূলধন বাড়ার পাশাপাশি গত সপ্তাহে প্রধান মূল্যসূচকেরও উত্থান হয়েছে। ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স সপ্তাহজুড়ে বেড়েছে ৯১ দশমিক ২৮ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৫৭ শতাংশ। আগের সপ্তাহে সূচকটি কমে ৯৬ দশমিক শূন্য ৬ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৬৩ শতাংশ।
অপর দুই সূচকের মধ্যে ইসলামি শরিয়াহ ভিত্তিতে পরিচালিত কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই শরিয়াহ সূচক গত সপ্তাহজুড়ে বেড়েছে ১২ দশমিক ১৮ পয়েন্ট বা ১ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ। আগের সপ্তাহে সূচটি কমে ২৩ দশমিক ৮০ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৯৭ শতাংশ। আর বাছাই করা ভালো কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক গত সপ্তাহজুড়ে বেড়েছে ২৪ দশমিক ৫০ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ১২ শতাংশ। আগের সপ্তাহে সূচকটি কমে ৩৪ দশমিক ৯১ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৫৭ শতাংশ।
গত সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে লেনদেন হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ২৬৪টির শেয়ার ও ইউনিটের স্থান হয়েছে দাম বাড়ার তালিকায়। বিপরীতে দাম কমেছে ৩৫টির। আর ৮৯টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এদিকে গত সপ্তাহে ডিএসইতে লেনদেনের গতি কিছুটা কমেছে। সপ্তাহের প্রতি কার্যদিবসে ডিএসইতে গড়ে লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৫৯ কোটি ৯২ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয় ১ হাজার ৬৩ কোটি ২৬ লাখ টাকা। অর্থাৎ প্রতি কার্যদিবসে গড় লেনদেন কমেছে ৩ কোটি ৩৪ লাখ টাকা বা দশমিক ৩১ শতাংশ



