দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বীমা কোম্পানি কোম্পানি ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের প্রথম বর্ষের প্রিমিয়াম সংগ্রহ এবং নতুন বীমা পলিসি ইস্যুর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে।

একই সঙ্গে কোম্পানিটিকে সিকিউরিটিজ বন্ডে বিনিয়োগ করা ৬ কোটি টাকা সাত দিনের মধ্যে উত্তোলন করে তা বীমা দাবি পরিশোধে ব্যয় করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ২০২৬ সালের মধ্যে এক হাজার কোটি টাকার বকেয়া বীমা দাবি কীভাবে পরিশোধ করা হবে, সে বিষয়ে চলতি মাসের মধ্যেই একটি সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা আইডিআরএর কাছে জমা দিতে বলা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে ধারাবাহিকভাবে বীমা দাবি পরিশোধে ব্যর্থতা এবং নতুন পলিসি বিক্রি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে দাবি-দায় আরও বাড়ার আশঙ্কা থেকেই নিয়ন্ত্রক সংস্থা এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সম্প্রতি আইডিআরএর জারি করা নির্দেশনা ইতোমধ্যে ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কর্তৃপক্ষকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে।

নতুন পলিসি বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি কোম্পানিটিকে আরও কয়েকটি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ২০২৬ সালে যে পরিমাণ বীমা দাবি পরিশোধ করা হবে, সে অনুযায়ী বাস্তবসম্মত ও সময়ভিত্তিক পরিকল্পনা প্রণয়ন; কোম্পানির সম্পদের বর্তমান বাজারমূল্য নির্ধারণ করে প্রয়োজনীয় সম্পদ নগদায়নের উদ্যোগ নেওয়া; বিধিবদ্ধ বিনিয়োগ সংরক্ষিত রেখে অবশিষ্ট অর্থ বীমা দাবি পরিশোধে ব্যবহার করা; এবং ফার্স্ট ইন, ফার্স্ট আউট পদ্ধতিতে বীমা দাবিগুলো নিষ্পত্তি করা। ফলে কোম্পানিটির আর্থিক পরিস্থিতির উন্নতি এবং বকেয়া দাবি পরিশোধে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়া পর্যন্ত নতুন পলিসি ইস্যুর ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে।

আইডিআরএর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিক (জানুয়ারি-মার্চ) শেষে ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের কাছে গ্রাহকের বীমা দাবি বাবদ মোট পাওনা দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৩১০ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। অন্যদিকে কোম্পানিটির জীবন বীমা তহবিল (লাইফ ফান্ড) ঋণাত্মক ৯৪৪ কোটি ৯৩ লাখ টাকা, যা কোম্পানিটির আর্থিক সংকটের গভীরতাই তুলে ধরে। একই সময়ে কোম্পানিটির মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ১৪৯ কোটি ৫৭ লাখ টাকা।

বাজার বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই আর্থিক অবস্থায় নতুন বীমা পলিসি ইস্যু অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে গ্রাহকদের প্রতি কোম্পানির দায় আরও বাড়বে। সে কারণেই নতুন পলিসি বিক্রি ও প্রথম বর্ষের প্রিমিয়াম সংগ্রহে নিষেধাজ্ঞা আরোপের পাশাপাশি বিদ্যমান সম্পদ নগদায়ন করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বীমা দাবি পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।