শহীদুল ইসলাম, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও সরকারের ধারাবাহিক নানা উদ্যোগের পরও বাজারে প্রত্যাশিত গতি দেখা যাচ্ছে না। মূল্যসূচকের অস্থিরতা ও কমে আসা লেনদেন এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থার ঘাটতির কারণে বাজারে ইতিবাচক ধারা তৈরি হচ্ছে না বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

এছাড়া পুঁজিবাজার আচরণের কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না। প্রতিদিনই লেনদেনের শুরুতে সূচকের ঊর্ধ্বমুখী হওয়া পুঁজিবাজার বিভিন্ন পর্যায়ে ব্যাপক বিক্রয়চাপে সূচক হারাচ্ছে। ফলে সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের পতনে লেনদেন শেষ হয়েছে।

তবে ২০১০ সালে ধসের পর দীর্ঘ সময়েও সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি দেশের পুঁজিবাজার। দীর্ঘদিনের কাঠামোগত দুর্বলতা ও মানসম্মত কোম্পানির ঘাটতি এবং বিনিয়োগকারীদের গভীর আস্থাহীনতার মধ্যে দায়িত্ব নিয়েছে বিএনপি সরকারের নতুন কমিশন। আশা-নিরাশার মধ্যে বিনিয়োগকারীদের লেনদেন হচ্ছে। এ অবস্থায় গত দুই কার্যদিবস দরপতনের কবলে পড়েছে পুঁজিবাজার।

বাজার বিশ্লেষকরা বলেন, নানা কারণে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা নেই। দীর্ঘদিন ধরে পুঁজিবাজারে ভালো কোনো কোম্পানি আসেনি। ভালো শেয়ারের জোগান না থাকায় বিনিয়োগকারীরা মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। এছাড়া ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ উন্নত বিশ্বের স্টক এক্সচেঞ্জগুলোর সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারছে কিনা তা নিয়েও সন্দেহ আছে। পুঁজিবাজারের ভেতরের মৌলিক ও প্রাতিষ্ঠানিক এবং নীতিগত কিছু সমস্যা রয়েছে যা দীর্ঘমেয়াদে বাজারকে অস্থির, অগভীর ও ঝুঁকিপূর্ণ করে রেখেছে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সাবেক সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আহমেদ রশিদ লালী বলেন, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের কিছুটা আস্থার সংকট রয়েছে। মার্জিন ঋণের নীতিমালা চূড়ান্ত হতে যাচ্ছে। এ বিষয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছু কিছু বিষয়ে কনফিউশন রয়েছে। তবে মার্জিন ঋণের যে নীতিমালা চূড়ান্ত হচ্ছে তা বাজারের জন্য ইতিবাচক হবে।

জানা গেছে, সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের পতনে লেনদেন শেষ হয়েছে। এদিন কমেছে টাকার পরিমানে লেনদেন ও বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দর। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। দিনশেষে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ১৩ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৫ হাজার ৮৮৩ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৩ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১ হাজার ১৭৭ পয়েন্টে এবং ডিএসই ৩০ সূচক ৭ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ২ হাজার ১৯২ পয়েন্টে।

দিনভর লেনদেন হওয়া ৩৮৭ কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১৩৫ টির, দর কমেছে ১৮২ টির এবং দর অপরিবর্তিত রয়েছে ৭০ টির। ডিএসইতে ৯২৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। যা আগের কার্যদিবস থেকে ১৪৮ কোটি ৭ লাখ টাকা কম। এর আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ১ হাজার ৭৩ কোটি ৭৩ লাখ টাকার।

অপরদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ২৪ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৮০৩ পয়েন্টে। সিএসইতে ২২৩ টি কোম্পানি লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এসব কোম্পানির মধ্যে ৯১ টির দর বেড়েছে, কমেছে ১০৪ টির এবং ২৮ টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইতে ৪৫ কোটি ৮৫ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।