দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরানোর দায়িত্ব কার এ প্রশ্ন এখন বিনিয়োগকারীদের মুখ মুখে। কারণ বাজার আজ ভাল তো কাল খারাপ। এ অবস্থার মধ্যে বছরের পর বছর পার করছে বিনিয়োগকারীরা। এছাড়া পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরানোর মূল দায়িত্ব প্রধানত নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এবং সরকারের। তবে একই সঙ্গে স্টক এক্সচেঞ্জ ও তালিকাভুক্ত কোম্পানি এবং মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকেও সম্মিলিতভাবে এই দায়িত্ব পালন করতে হয়।

তবে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর টানা কয়েকদিন পুঁজিবাজারের প্রধান সূচক ছিল ঊর্ধ্বমুখী। বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা ছিল, দীর্ঘকাল পতনের বৃত্তে আটকে থাকা পুঁজিবাজার ঘুরে দাঁড়াবে নতুন সরকার ও নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নতুন নেতৃত্বের হাত ধরে। কিন্তু দেশের পুঁজিবাজার এখনো ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি! একটার পর একটা ইস্যু লেগেই থাকে।

এছাড়া অর্থনীতির শক্ত ভিত গড়ে তুলতে পুঁজিবাজারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু আমাদের দেশে পুঁজিবাজার প্রায়ই অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে। ফলে বিনিয়োগকারীরা আস্থা হারান এবং পুঁজিবাজার কাঙ্খিত ভূমিকা পালনে ব্যর্থ হয়। কয়েক বছর ধরে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার প্রভাব বাংলাদেশের পুঁজিবাজারেও পড়েছে।

সে ধারাবাহিকতায় গত বছর পুঁজিবাজারের সূচক তেমন বাড়েনি। ফলে দেশের পুঁজিবাজারে অস্থিরতা বাড়ছেই। ফলে পুঁজিবাজারকে দীর্ঘদিনের স্থবিরতা ও আস্থাহীনতার অবস্থা থেকে বের করে আনতে ব্যাপক সংস্কার কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

নতুন চেয়ারম্যান মাসুদ খান জানিয়েছেন, বাজার কারসাজি ও ইনসাইডার ট্রেডিং এবং সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে অতীতের যেকোনও সময়ের তুলনায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে কঠোর ব্যবস্থা নিলেও কাজ হবে কী মাসুদ কমিশনের আমলেও পুঁজিবাজার স্থিতিশীল হচ্ছে না।

বাজার আজ ভাল তো কাল খারাপ। এদিকে প্রতিনিয়ত পতন হওয়ায় পুঁজিবাজারে আস্থা হারাচ্ছে বিনিয়োগকারীরা। বর্তমান বাজারে আর ভরসা রাখতে পারছে না বিনিয়োগকারীরা। এছাড়া নিয়ন্ত্রক সংস্থার ভুল সিদ্ধান্ত ও বিগত সরকারের লুটপাটই অব্যাহতভাবে পুঁজিবাজারে দরপতন হওয়ার কারণ।

তাছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে ‘পিবি রেশিও’ আতঙ্কে পুঁজিবাজারের ওপর একটা প্রভাব পড়েছে। তবে এ বিষয় এখনও সমাধান হয়নি। এছাড়া বাজারে দরপতন হলেও দুর্বল শেয়ারের দাম বাড়ছে হু হু করে। কারণ গত এক মাসের অস্থিতিশীল বাজারে অধিকাংশ ভালো মৌল ভিত্তি শেয়ারের দাম কমলেও দুর্বল শেয়ারের দাম বাড়ছে হু হু করে। এ অবস্থায় বাজারকে স্থিতিশীল রাখা নতুন চেয়ারম্যানের জন্য চালেঞ্জ বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

এছাড়া দেশের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে পুঁজিবাজার সংস্কারে যেসব উদ্যোগ নেওয়া আছে, সেগুলো দীর্ঘ মেয়াদে একটা টেকসই ও শক্তিশালী পুঁজিবাজার গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে পুঁজিবাজারের এখন যে পরিস্থিতি, তাতে দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারের পাশাপাশি জরুরি ভিত্তিতে স্বল্পমেয়াদি কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

কারণ, এই মুহূর্তে বাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা সবচেয়ে কম। ফলে সদ্য সমাপ্ত জুলাই মাসে বিনিয়োগকারীদের বেনিফিশিয়ারি ওনার্স (বিও) হিসাব বড় অঙ্কে কমে গেছে। একক মাসটিতে বিও হিসাব কমেছে প্রায় ২৩ হাজার। আর প্রতি কার্যদিবসে গড়ে কমেছে ৯১৫টি বিও।

সিডিবিএলের তথ্য অনুযায়ী, গত ৪ আগস্ট পর্যন্ত পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের বিও হিসাবের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬ লাখ ৫২ হাজার ৩৬৫টি। যা জুন শেষে ছিল ১৬ লাখ ৭৫ হাজার ২৫২টি। এ হিসেবে গত এক মাসে শেয়ারবাজারে বিও হিসাব কমেছে ২২ হাজার ৮৮৭টি। এ সময়ের মধ্যে মোট ২৫ কার্যদিবস লেনদেন হয়। এ হিসাবে প্রতি কার্যদিবসে গড়ে বিও হিসাব কমেছে ৯১৫টি।