মেহেদী হাসান, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বস্ত্র খাতের কোম্পানি সায়হাম টেক্সটাইল মিলস লিমিটেডের শেয়ার দর অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে বলে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) তদন্তে উঠে এসেছে। ফলে কোম্পানিটিতে বিনিয়োগের আগে বিনিয়োগকারীদের সচেতন হওয়া উচিত বলে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ মনে করছেন।

তবে পুঁজিবাজারের কিছু বিনিয়োগকারীর কাছে অনেকটাই রূপকথার ‘আলাদিনের চেরাগ’ হিসেবে দেখা দিয়েছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বস্ত্র খাতের কোম্পানি সায়হাম টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড। মাত্র ১২ কার্যদিবসে কোম্পানিটির শেয়ার দাম বেড়েছে ৬৩ শতাংশ।

এছাড়া সায়হাম টেক্সটাইল মিলস লিমিটেডের বিশেষ করে কোনো ধরনের মূল্য সংবেদনশীল তথ্য ছাড়াই কোম্পানিটির শেয়ারদর টানা বাড়ছে। গত ১২ কার্যদিবসে কোম্পানিটির শেয়ারদর বেড়েছে ৬৩ শতাংশের বেশি। এভাবে দাম বাড়তে থাকায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে। এতে তৈরি হয়েছে বড় ধরনের ঝুঁকির আশঙ্কা। তবে এই দরবৃদ্ধির পেছনে কোনো অপ্রকাশিত মূল্যসংবেদনশীল তথ্য নেই বলে জানিয়েছে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ।

এছাড়া শেয়ারের দাম ও লেনদেনের পরিমাণ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় ৬ আগস্ট ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) কোম্পানিটির কাছে ব্যাখ্যা চেয়ে একটি চিঠি পাঠায়। এর জবাবে কোম্পানিটি আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে বর্তমানে তাদের কাছে এমন কোনো অপ্রকাশিত তথ্য নেই, যা শেয়ারের দাম বা লেনদেনকে প্রভাবিত করতে পারে। অর্থাৎ কোম্পানিটির ব্যবসায়িক কার্যক্রম বা আর্থিক অবস্থানে এমন কোনো নাটকীয় পরিবর্তন ঘটেনি, যা এই দরবৃদ্ধিকে যৌক্তিক করতে পারে।

ডিএসইর তথ্য বলছে, কোম্পানিটির শেয়ারের দাম গত এক মাসে দ্রুত ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। গত ২৬ জুলাই কোম্পানিতে শেয়ার দাম ছিল ১৮ দশমিক ৮০ টাকায়। আর ১২ আগস্ট কোম্পানিটির শেয়ারের দাম বেড়ে দাঁড়ায় ২৯ টাকায়। ফলে গত কয়েক কার্যদিবসে কোম্পানি শেয়ারের দাম বেড়েছে ১১ টাকা বা ৬৩ শতাংশের বেশি।

মূল্যবৃদ্ধির পাশাপাশি লেনদেনের পরিমাণও অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। কোনো কোনো সেশনে দৈনিক লেনদেন অন্যান্য স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক বেশি। সাধারণত ছোট মূলধনি কোম্পানিগুলোর ক্ষেত্রে এমন লেনদেনের তীব্রতা প্রায়ই কৃত্রিম চাহিদাকে ইঙ্গিত করে।

মুলত সায়হাম টেক্সটাইল লিমিটেড পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয় ১৯৮৮ সালে। ‘বি’ ক্যাটাগরির এ কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধন ৯০ কোটি ৫৬ লাখ ৩০ হাজার টাকা। সে হিসাবে কোম্পানিটির শেয়ার সংখ্যা ৯ কোটি ৫ লাখ ৬২ হাজার ৫০০টি।

সর্বশেষ ২০২৬ সালের ৩১ জুলাই পর্যন্ত সময়ে কোম্পানিটির উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের হাতে ৩৪ দশমিক ২০ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে ৩৫ দশমিক ৫৫ শতাংশ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে ৩০ দশমিক ২৫ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।