শহীদুল ইসলাম, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের বড় উত্থানে লেনদেন শেষ হয়েছে। তবে টানা দুই কার্যদিবস সূচকের উত্থানে কিছুটা আস্থা ফিরছে বিনিয়োগকারীদের। মুলত এদিন ব্যাংক ও আর্থিক খাতের শেয়ারে ভর করে সূচকের উত্থান হয়েছে। ফলে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) দাম বাড়ার ক্ষেত্রে সব থেকে বড় দাপট দেখিয়েছে ব্যাংক ও আর্থিক খাতের শেয়ার।

একই সঙ্গে বস্ত্র ও ওষুধ-রসায়ন খাতের শেয়ারে আগ্রহ বাড়ছে বিনিয়োগকারীদের। এদিন বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ার দর ও টাকার পরিমানে লেনদেন বেড়েছে। যার ফলে ডিএসইতে লেনদেন বেড়ে ১ হাজার ১১৫ কোটি ৪২ লাখ টাকা ছাড়িয়েছে। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, এর আগে টানা দুই কার্যদিবস দরপতন হওয়ার পর সোমবার দেশের পুঁজিবাজারে দাম বাড়ার ক্ষেত্রে দাপট দেখায় বীমা খাতের কোম্পানিগুলো। এতে পতনের বৃত্ত থেকে বেরিয়ে ঊর্ধ্বমুখিতার দেখা মেলে পুঁজিবাজার। তবে একদিন পরেই সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবসে লেনদেন শুরু হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যে দাম কমার তালিকায় চলে আসে বেশিরভাগ বীমা কোম্পানি। লেনদেনের শেষ পর্যন্ত বীমা কোম্পানিগুলোর শেয়ার দাম কমার প্রবণতা অব্যাহত থাকে। অবশ্য অন্য খাতের বেশিরভাগ কোম্পানি শেয়ার দাম বাড়ায় দাম বাড়ার তালিকা বড় হওয়ার পাশাপাশি মূল্যসূচক বেড়েই দিনের লেনদেন শেষ হয়।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, টানা দরপতনের পর অপেক্ষাকৃত কম দামে শেয়ার কেনার প্রবণতা এবং মূল্য সংশোধনের সুযোগ কাজে লাগাতে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বৃদ্ধির ফলে এদিন বাজারে শক্তিশালী প্রত্যাবর্তন দেখা গেছে। বিশেষ করে ব্যাংক-আর্থিক খাতের পাশাপাশি বস্ত্র খাতের শেয়ারে ক্রয় চাপ অব্যাহত থাকায় লেনদেন ১ হাজার ১১৫ কোটি টাকার ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দীর্ঘস্থায়ী হবে কি না তা নির্ভর করবে আগামী কার্যদিবসগুলোতে লেনদেনের পরিমাণ ও ক্রেতাদের ধারাবাহিক অংশগ্রহণের ওপর।

জানা গেছে, দিনশেষে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ৫৮ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৫ হাজার ৯০৩ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৭ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ১ হাজার ১৮২ পয়েন্টে এবং ডিএসই ৩০ সূচক ১৮ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ২ হাজার ২০৪ পয়েন্টে।

দিনভর লেনদেন হওয়া ৩৯৩ কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ২৪২ টির, দর কমেছে ১০১ টির এবং দর অপরিবর্তিত রয়েছে ৫০ টির। ডিএসইতে ১ হাজার ১১৫ কোটি ৪২ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। যা আগের কার্যদিবস থেকে ৯৬ কোটি ৯৩ লাখ টাকা বেশি। এর আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ২০৭ কোটি ২ লাখ টাকার।

অপরদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১৬১ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৭৯০ পয়েন্টে। সিএসইতে ২৩১ টি কোম্পানি লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এসব কোম্পানি মধ্যে ১৬৪ টির দর বেড়েছে, কমেছে ৪৯ টির এবং ১৮ টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইতে ৭১ কোটি ২৪ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।