রবির মুনাফা বাড়লেও নগদ অর্থ কেন কমছে নিয়ে রহস্য!
শহীদুল ইসলাম, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত টেলিযোগাযোগ খাতের কোম্পানি মোবাইল ফোন অপারেটর রবি আজিয়াটার মুনাফা বাড়লেও হাতে নগদ অর্থ কমা নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। কোম্পানিটি চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী মুনাফা ১৯ শতাংশের বেশি বাড়লেও সেপ্টেম্বর শেষে নগদ অর্থের স্থিতি কমেছে ৫৮ শতাংশ। মূলত নেটওয়ার্ক ও অন্যান্য সম্পদে বিনিয়োগ, লভ্যাংশ এবং ইজারার দায় পরিশোধে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় হওয়ায় মুনাফার প্রবৃদ্ধি নগদ স্থিতিতে প্রতিফলিত হয়নি। কোম্পানিটির তৃতীয় প্রান্তিক প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রবির কর-পরবর্তী মুনাফা হয়েছে ৭৪৬ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। আগের বছরের একই সময়ে মুনাফা ছিল ৬২৫ কোটি ১৬ লাখ টাকা। অর্থাৎ মুনাফা বেড়েছে ১২১ কোটি ৩৮ লাখ টাকা বা ১৯ দশমিক ৪২ শতাংশ। একই সময়ে কোম্পানিটির রাজস্ব ৭ হাজার ৪০৭ কোটি ৩৬ লাখ টাকা থেকে বেড়ে ৭ হাজার ৯২৯ কোটি ৫৭ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে। রাজস্ব প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৭ দশমিক ০৫ শতাংশ। শেয়ারপ্রতি আয় ১ টাকা ১৯ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ১ টাকা ৪৩ পয়সা।
তবে মুনাফার বিপরীতে নগদ প্রবাহের চিত্র ভিন্ন। গত বছরের প্রথম নয় মাসে পরিচালন কার্যক্রম থেকে রবির নিট নগদ প্রবাহ ছিল ৩ হাজার ৪৯৯ কোটি ৩ লাখ টাকা। চলতি বছরের একই সময়ে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ২৪২ কোটি ৬৬ লাখ টাকায়। অর্থাৎ পরিচালন নগদ প্রবাহ কমেছে ২৫৬ কোটি ৩৭ লাখ টাকা বা ৭ দশমিক ৩৩ শতাংশ। সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে নগদ অর্থের স্থিতিতে। গত ডিসেম্বর শেষে রবির হাতে নগদ ও নগদসমতুল্য অর্থ ছিল ২৪২ কোটি ১৪ লাখ টাকা। সেপ্টেম্বর শেষে তা কমে হয়েছে ১০১ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। নয় মাসে কমেছে প্রায় ১৪০ কোটি ৭২ লাখ টাকা বা ৫৮ দশমিক ১১ শতাংশ।
কেন নগদ অর্থ কমছে, তার একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা পাওয়া যায় কোম্পানিটির বিনিয়োগসংক্রান্ত ব্যয়ে। চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে অবকাঠামো, যন্ত্রপাতি, প্রযুক্তিগত অধিকারসহ বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি সম্পদ অর্জনে রবি ব্যয় করেছে ২ হাজার ৪২ কোটি ৫ লাখ টাকা। আগের বছরের একই সময়ে এ ব্যয় ছিল ১ হাজার ৩৪৯ কোটি ৩১ লাখ টাকা। অর্থাৎ এসব খাতে নগদ ব্যয় বেড়েছে প্রায় ৬৯৩ কোটি টাকা বা ৫১ শতাংশের বেশি।
এ ছাড়া প্রথম নয় মাসে নগদ লভ্যাংশ পরিশোধে প্রায় ৭৮২ কোটি এবং ইজারার দায় পরিশোধে প্রায় ৭৮৮ কোটি টাকা ব্যয় করেছে কোম্পানিটি। ফলে পরিচালন কার্যক্রম থেকে নগদ অর্থ তৈরি হলেও বিনিয়োগ ও অর্থায়ন খাতে বড় ব্যয়ের কারণে শেষ পর্যন্ত নগদ স্থিতি কমেছে। অন্যদিকে কোম্পানিটির নিট অর্থায়ন ব্যয়ও বেড়েছে। প্রথম নয় মাসে এ ব্যয় হয়েছে প্রায় ৫৮৫ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৫১৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ অর্থায়ন ব্যয় বেড়েছে প্রায় ৬৬ কোটি টাকা।
রবির সর্বশেষ তৃতীয় প্রান্তিকেও মুনাফা অব্যাহত রয়েছে। জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রাজস্ব হয়েছে ২ হাজার ৬৮৬ কোটি ৭১ লাখ এবং কর-পরবর্তী মুনাফা ২৫১ কোটি ২৯ লাখ টাকা। তবে আগের প্রান্তিকের তুলনায় রাজস্ব ও শেয়ারপ্রতি আয় কিছুটা কমেছে। সেপ্টেম্বর শেষে রবির সক্রিয় গ্রাহকসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ কোটি ৯২ লাখে। এর মধ্যে ফোর-জি ব্যবহারকারী ৪ কোটি ২৮ লাখ। নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ ও সেবার মান উন্নয়নে বিনিয়োগ অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে কোম্পানিটি।
আর্থিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, রবির নগদ স্থিতি কমলেও পরিচালন কার্যক্রম থেকে নগদ প্রবাহ এখনো ইতিবাচক। ফলে নগদ অর্থ কমাকে সরাসরি লোকসান বা তারল্যসংকট হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তবে মুনাফার প্রবৃদ্ধির সঙ্গে নগদ প্রবাহের বিপরীতমুখী প্রবণতা কোম্পানিটির বিনিয়োগ ব্যয় ও ভবিষ্যৎ অর্থায়ন সক্ষমতাকে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।



